logo
  • ঢাকা শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৬ আশ্বিন ১৪২৬

‘ভাই আমি কি টাওয়ার থেকে লাফিয়ে পড়ব’

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
|  ২৯ মার্চ ২০১৯, ১৪:৫১
রাজধানীর বনানীর এফ আর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহত নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার ফজলে রাব্বীর পরিবারে চলছে এখন শোকের মাতম।

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ভূইগড় এলাকার জহিরুল হক সেলিমের ছেলে ফজলে রাব্বী। স্বামীর মৃত্যুর খবরে আড়াই বছর বয়সী শিশু পুত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে মুষড়ে পড়েছেন স্ত্রী সাবিয়া আক্তার। আর একমাত্র উপার্জনকারী ফজলে রাব্বীকে হারিয়ে  অসহায় হয়ে পরেছে পরিবার। সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে সরকারের কাছে সাহায্য চেয়েছেন সাবিয়া আক্তার।

নিহত ফজলে রাব্বীর বাড়ি নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার ভূইগড় এলাকায়। তার বাবার নাম জহিরুল হক সেলিম। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে ফজলে রাব্বী মধ্যম।

আজ শুক্রবার ভোরে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতাল থেকে  রাব্বীর মরদেহ নিজ বাড়িতে আনা হয়। এর আগে থেকে আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীরা বাড়িতে আসতে শুরু করে। শরীর পুড়ে যাওয়ায় মরদেহ রাখা হয় বাড়ির সামনে লাশবাহী গাড়িতে।

রাব্বীর গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়ীয়া  জেলার নবীনগড় থানার সাতমোড়ায়। তিনি ঢাকার একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি বি এ পাশ করে ২০১৫ সালে ইউরো ফ্রেড ফরোয়াডিং কোম্পানিতে নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে চাকরি শুরু করেন। প্রায় চার বছর আগে বিয়ে করেন। তাদের সংসারে আড়াই বছর বয়সী এক পুত্র সন্তান রয়েছে।

রাব্বীর ছোট ভাই রিফাত আলম এফ আর টাওয়ারের পাশের একটি টাওয়ারে চাকরি করেন। তিনি বলেন, আগুন লাগার পর ভাই ফোনে বারবার বলছিল টাওয়ার থেকে লাফিয়ে নিচে পড়বে কিনা। আমি তাকে উপরে উঠে বসে থাকতে বলি। একটা ৫৩ মিনিটে তার সঙ্গে সর্বশেষ কথা হয়। ধোঁয়ার কারণে সে মুভ করতে পারছিল না। তারপর আর কোনও কথা হয়নি। 

নিহতের বাবা জহিরুল হক ওরফে সেলিম জানান, মেয়ে ফোন করে জানান বনানীর এফ আর টাওয়ারে আগুন লেগেছে। এরপর ছেলেকে ফোন করি। কিন্তু সে জানায় বাবা আমি বের হওয়ার কোনও রাস্তা পাচ্ছিনা। যে ফ্লোরে কাজ করি সেখানে আটকা পড়ে আছি। পরে আবার ফোন করি। ফোন রিসিভ করে। কিন্তু সে কোনও কথা বলতে পারেনি। শুধু কান্নার শব্দ। মরদেহ উদ্ধারের পর তার ফোনটি অন্য একজন রিসিভ করে মৃত্যুর খবর জানায়।

বাদ জুম্মার পর ভূইগড় ঈদগাহ মাঠে জানাজা শেষে তাকে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হবে।

জেবি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়