• ঢাকা শনিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮, ১ পৌষ ১৪২৬

অপহরণের ভয়ে ভৈরবে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি দুই শিক্ষার্থী

ভৈরব প্রতিনিধি, কিশোরগঞ্জ
|  ০৩ ডিসেম্বর ২০১৮, ২০:০১ | আপডেট : ০৩ ডিসেম্বর ২০১৮, ২০:১৭
কিশোরগঞ্জে বখাটেদের উৎপাত ও অপহরণের ভয়ে বার্ষিক পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি নবম শ্রেণির দুই শিক্ষার্থী। ভৈরব উপজেলার কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের আতকাপাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটেছে। দুই শিক্ষার্থী স্থানীয় কালিকাপ্রসাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থী।

জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো বিদ্যালয়ে যাওয়া-আসা করে নবম শ্রেণি পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা। এ সুযোগে এলাকার কিছু বখাটে যুবক রাস্তায় দাঁড়িয়ে মেয়েদের অশ্লীল ও আপত্তিকর ভাষায় উত্ত্যক্ত করে। বখাটেরা এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ছেলে হওয়ায় কেউ তাদের কিছু বলার সাহস পায় না।

western গত ২ ডিসেম্বর নবম শ্রেণির দুই শিক্ষার্থী আশামনি ও পাপিয়া বার্ষিক পরীক্ষা শেষে বিকেল ৪টার দিকে বাড়ি যাওয়ার পথে গতিরোধ করে বখাটে তিন যুবক। তারা মোটরসাইকেলযোগে এসে আশামনি ও পাপিয়াকে উত্ত্যক্ত করে। এসময় পাপিয়ার চাচা আফতাব উদ্দিন প্রতিবাদ করলে তার সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে এলাকাবাসী উত্তেজিত হলে তারা ফিরে যায়। এর ঘণ্টাখানেক পর বখাটেরা দলবেঁধে হামলা করতে এলে এলাকাবাসীর ধাওয়া খেয়ে পালিয়ে যায়।

পরে এসব বিষয় আশামনির বাবা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে জানান। প্রধান শিক্ষক বিষয়টি মীমাংসা করতে তাদেরকে বিদ্যালয়ে আসতে বলেন। কথা মতো বিদ্যালয়ে বিষয়টি অবগত করে ফেরার পথে বখাটেরা ফের দল বেঁধে তাদের উপর হামলা করে। এতে আশামনির বাবা আল আমিন মিয়া, দাদা গোলাপ মিয়া, আসকর আলী, ফজলুল হক, বাবুল মিয়া ও আলমগীর হোসেন আহত হন। আহতদের এলাকাবাসী উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে আল আমিন ও গোলাপ মিয়াকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় ও বাকিদেরকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়।

আশামনির বাবা আহত আল আমিন মিয়া জানান, বেশকিছু দিন ধরে আমার মেয়ে ও তার বান্ধবীকে স্কুলে আসা-যাওয়ার পথে ডিস্টার্ব করছে। গতকালও পরীক্ষা দিয়ে আমার মেয়ে ও তার বান্ধবী বাড়িতে ফেরার পথে আব্দুল লতিফের বখাটে ছেলে এনামুল ও ছয়েদ মিয়ার বখাটে ছেলে ইয়াছিনসহ আরও কয়েকজন মিলে ইভটিজিং করে। এ ঘটনার প্রতিবাদ করায় এ নিয়ে একজনের সাথে বাকবিতণ্ডা হয়। পরে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে, প্রধান শিক্ষক আমাকে বাড়ির কয়েকজন মুরুব্বিসহ বিদ্যালয়ে যেতে বলেন। আমরা তাদের কথামতো বিদ্যালয়ের কমিটিসহ প্রধান শিক্ষককে এসব বিষয় অবগত করি। এসময় আমার মেয়ে বাকি পরীক্ষাগুলো দিতে পারবে বলে তারা আশ্বাস দেন। পরে বাড়ি ফেরার পথে আমাদের উপর বখাটেরা অতর্কিত হামলা চালায়। এরপর আমার মেয়ে ও তার বান্ধবী বখাটেদের উৎপাত ও অপহরণের ভয়ে পরীক্ষা দিতে পারেনি। বর্তমানে আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লিয়াকত আলী জানান, ইভটিজিংয়ের ঘটনাটি ফোনে জানতে পেরে বিদ্যালয় কমিটিকে জানাই। পরে তাদেরকে রাত ৮টায় আসতে বলি। এ সময় তাদের মুখ থেকে সবকিছু শুনেছি। বাড়ি ফেরার পথে তাদেরকে কে বা কারা হামলা করেছে।

তিনি আরও বলেন, আজকে আশামনি ও পাপিয়া পরীক্ষা দিতে আসেনি। তবে, বাকি পরীক্ষাগুলো যেন দিতে পারে সে বিষয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি ও বখাটেদের আত্মীয়দের জানানো হয়েছে, তাদেরকে যেন সতর্ক করা হয়। তারপরও যদি তারা সতর্ক না হয়, তাহলে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিবে।

এ বিষয়ে কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়ের চেয়ারম্যান মো. ফারুক মিয়া জানান, গতকাল আমার চাচা মারা যাওয়ায় আমি দিনভর ব্যস্ত ছিলাম। ফোনের মাধ্যমে খবর পেলেও কোনও ব্যবস্থা নিতে পারিনি। আমি এলাকাবাসীর সহায়তা নিয়ে সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করবো।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত সাদমীন জানান, অভিযোগ পেয়েছি। শিগগিরই বখাটেদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। একই সাথে দুই শিক্ষার্থী যেন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারে, তার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মোখলেছুর রহমান জানান, এ বিষয়ে আমার কাছে কোনও অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়