• ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০১৯, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

সাহসী সেই কিশোর ও গৃহবধূকে পুরস্কৃত করলো পাবনা জেলা প্রশাসন

পাবনা প্রতিনিধি
|  ২২ অক্টোবর ২০১৮, ২২:১৪ | আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০১৮, ২৩:৩১
পাবনার চলনবিলে নৌকাডুবির ঘটনায় নিজেদের জীবন বাজি রেখে ১৭ জনের প্রাণ রক্ষা করা সেই কিশোর সুমন ও গৃহবধূ শাহনাজকে পুরস্কৃত করল পাবনা জেলা প্রশাসন।

whirpool
সোমবার সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে গৃহবধূ শাহনাজকে এককালীন ২৫ হাজার টাকা প্রদান করা হয়। এছাড়া কিশোর সুমনকে মাধ্যমিক পর্যায়ে প্রতি মাসে এক হাজার এবং উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে মাসে দেড় হাজার টাকা করে প্রদান করা হবে।

প্রাইম ব্যাংকের সহায়তায় পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিন, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী আতিয়ুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শাফিউল ইসলাম, পুরস্কারের অর্থ সহায়তাকারী প্রাইম ব্যাংকের ডিএমডি গোলাম রব্বানী প্রমুখ।

সুমন হোসেন জেলার চাটমোহর উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকার হাণ্ডিয়াল দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র। সাহসী ও পরোপকারে এলাকায় তার যথেষ্ট সুনাম। মানুষের বিপদে সবসময় পাশে থাকে। এ নিয়ে মাঝে মধ্যে মা-বাবার বকুনিও খেতে হয় তাকে। আর শাহনাজ খাতুন একজন সাধারণ গৃহিণী। স্বামী দিনমজুর।

এ দুজনকে নিয়ে এলাকার মানুষ এখন খুব গর্ব করে। গেল ৩১ আগস্ট সন্ধ্যায় চলনবিলে চাটমোহর উপজেলার পাইকপাড়ায় ঘটে মর্মান্তিক নৌকাডুবির ঘটনা। এতে পাঁচজনের প্রাণহানি হয়। তবে সুমন ও গৃহবধূ শাহনাজের সাহসিকতায় প্রাণে বেঁচে যান শিশু-নারীসহ ১৭ জন। সুমন একাই ১০ জনকে তার ডিঙ্গি নৌকায় তুলে পৌঁছে দেয় তীরে।

ওই সময় পাবনার জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিন সুমন ও শাহনাজের সাহসিকতায় মুগ্ধ হয়ে তাদের তাৎক্ষণিক পুরস্কার প্রদানের ঘোষণা দেন।

কিশোর সুমন বলে,  ওই দিন সন্ধ্যার দিকে বিলের মধ্যে সে নৌকা চালাচ্ছিল। এসময় সে দেখতে পায় একটি বড় ছইওয়ালা নৌকার ওপরে কয়েকজন নারী-পুরুষ মোবাইলে ছবি তুলছে। হঠাৎ তার চোখের সামনে নৌকাটি ডুবে যায়।

এসময় দ্রুত ডিঙি নৌকা নিয়ে একে একে ১০ জনকে উদ্ধার করে তীরে পৌঁছে দেয় সে। এছাড়া তাদের গ্রামের শাহনাজ খাতুনও নৌকা চালিয়ে আরও সাতজনকে উদ্ধার করে। তবে বাকি পাঁচজনকে উদ্ধার করতে না পারায় তাদের উভয়ের মনে কষ্ট রয়েছে।

জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিন বলেন, সুমন ও শাহনাজ মানবসেবার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। নিজেদের জীবন বাজি রেখে তারা ১৭ জন মানুষের জীবন বাঁচিয়েছে। তাই তারা বীর। তাদের সম্মান জানাতে পেরে আমরা গর্বিত।

আরও পড়ুন : 

জেবি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়