• ঢাকা শনিবার, ১৩ জুলাই ২০২৪, ২৯ আষাঢ় ১৪৩১
logo

শরীয়তপুরে জম-জমাট কোরবানির পশুর হাট

শরীয়তপুর প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

  ১৪ জুন ২০২৪, ১৮:৩৭
শরীয়তপুরে জম-জমাট কোরবানির পশুর হাট
ছবি : আরটিভি

আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে শরীয়তপুরের ছয়টি উপজেলায় প্রাকৃতিক উপায়ে গরু মোটাতাজা করা এখন শেষ পর্যায়ে। জমে উঠেছে কোরবানির পশুর হাট, চাহিদার চেয়েও বেশি গরু বিভিন্ন খামারে প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রাণিসম্পদ বিভাগ।

শুক্রবার (১৪ জুন) সকালে জেলার কয়েকটি উপজেলার পশুর হাটে গিয়ে সরেজমিনে দেখা যায়, ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপস্থিতিতে জম-জমাট কোরবানির পশুর হাট। তবে হাটে পশু ক্রয়-বিক্রয় ছিল অপেক্ষাকৃত কম। ক্রেতারা অপেক্ষা করছেন শেষ সময়ের জন্য।

জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এ বছর জেলায় কোরবানিযোগ্য পশু চাহিদা ১ লাখ ১ হাজার হলেও পশু প্রস্তুত করা হয়েছে ১ লাখ ৭ হাজার ১২টি। ৩৩ হাজার গরু ও ৭৩ হাজারের মতো ছাগল কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে। জেলার চাহিদার চেয়ে বেশি পশু উদ্বৃত্ত রয়েছে। এবার জেলায় ৩৫টি স্থায়ী ও ৪০টি অস্থায়ী হাটে বিক্রয় হবে পশুগুলো।

খামারিরা বড় বড় গরু রাজধানী ঢাকায় নিয়ে যাচ্ছে। অনেকেই তার শখের পালিত গরুটির শখ করে নাম দিয়েছে রাজাবাবু, কালা মানিক, বাঘা, এমনকি নায়কদের নামেও রয়েছে বিভিন্ন কুরবানির গরুর নাম। এ ছাড়া শরীয়তপুরে রয়েছে ৩০ লাখ দাম হাকানো রাজাবাবু নামে কুরবানির গরু। জেলার খামারের গরুগুলো মধ্যম আকৃতি ও দেখতে সুন্দর হওয়ায় খামারিরা খুশি। হাটে নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিক্রি হয়ে যায় এসব গরু। অনেক সময় খুচরা ক্রেতা ও পাইকাররা খামার থেকেই গরু কিনে নিয়ে যান।

জাজিরা উপজেলা কাজির হাটে কুরবানির পশু ক্রয় করতে আসা মোহাম্মদ আলী বলেন, কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন গরুর ফার্মে ঘুরেছি। কয়েকটি হাটেও ঘুরেছি। কাজির হাটে অনেক গরু উঠেছে। দেখতে অনেক ভালো লাগছে আর গতবারের চেয়ে তুলনামূলক দাম একটু বেশি। যা মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে। তাও আলহামদুলিল্লাহ ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা দিয়ে একটি কোরবানির পশু ক্রয় করেছি।

সদর উপজেলার মনোহর পশুর বাজারে আসা আরেক ক্রেতা জিল্লুর রহমান বলেন, শরীয়তপুরের মনোহর বাজারে পশু ক্রয়-বিক্রয়ের সবচেয়ে বড় হাট বসেছে। এখান থেকে পছন্দের পশু ক্রয় করার জন্য এসেছিলাম। গরুর দাম একটু বেশি। তাই একটি ছাগল ক্রয় করে নিয়ে গেলাম।

সদর উপজেলার গঙ্গানগর পশুর হাটে গরু বিক্রয় করতে আসা ধানুকা গ্রামের আসিফ খান বলেন, আমাদের খামারের গরু, ছাগল, ভেড়া সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে লালন পালন করা হচ্ছে। গরুকে খাওয়ানো হচ্ছে দেশীয় খাবার খড়, খৈল, ভুসি, গুড়ের চিটা, লবণ, চাল-ডাল ও ছোলার-গুঁড়োসহ চাষ করা নেপিয়ার ঘাস। পশু চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী গরুগুলোকে দেওয়া হয় চিকিৎসা। ব্যবহার করা হচ্ছে না মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর কোনো মেডিসিন। আশা করছি, এবার গরুর হাটে আমার ছয়টি গরুই বিক্রি করতে পারবো।

জাজিরা উপজেলায় কাজির হাটে ছাগল বিক্রি করতে আসা বড় কান্দি গ্রামের খামারি রিয়াদ বলেন, ‘প্রাকৃতিক খাবার দিয়ে ছাগল পালন করছি। কোনো ক্ষতিকর খাবার পশুকে দেওয়া হয় না। আমার খামারের বড় ছাগলের নাম দেয়া হয়েছে রাজাবাবু। আশাকরি, এ বছর হাটে ভালো দাম পাওয়া যাবে।’

এ বিষয়ে শরীয়তপুর জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. আবু বক্কর বলেন, ‘কোরবানিকে সামনে রেখে জেলার খামারিরা পশু মোটাতাজাকরণ করছে। খামারিরা কোরবানির পশুকে যাতে ক্ষতিকর কোনো কিছু না খাওয়ায় সে বিষয়ে আমাদের সার্বক্ষণিক তদারকি রয়েছে। খামারিদেরকে বিভিন্ন সময়ে আমরা প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দিয়ে থাকি।’

মন্তব্য করুন

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
শরীয়তপুরে লোডশেডিংয়ে দুর্ভোগ চরমে
ঈদুল আজহায় ৩০৯ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪৫৮, আহত ১৮৪০
স্কুল-কলেজ খুলছে বুধবার
ঈদযাত্রার ১৩ দিনে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২৩০