• ঢাকা সোমবার, ২৪ জুন ২০২৪, ১০ আষাঢ় ১৪৩১
logo

আদরের মানিক প্রধানমন্ত্রীকে উপহার দিতে চান হামিদা

আরটিভি নিউজ

  ০৮ জুন ২০২৪, ০১:০৭
আদরের মানিক প্রধানমন্ত্রীকে উপহার দিতে চান হামিদা
নিজের আদরের মানিকের সঙ্গে হামিদা আক্তার। ছবি : সংগৃহীত

হামিদা আক্তার। ইতিহাসে স্নাতক এ নারীর স্বপ্ন সফল উদ্যোক্তা হওয়ার। সেই লক্ষ্যে দীর্ঘ আট বছর আগে শুরু করেন গরু লালনপালন। প্রতিদিনই দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করতে থাকা এ নারীর জীর্ণ গোয়ালের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ মানিক, অস্ট্রেলীয় ফ্রিজিয়ান জাতের বিশালাকার এক ষাঁড়। হামিদার পরম আদর-যত্নে মানিকের ওজন এখন ৫৪ মণ। স্নেহের এই মানিককেই এবারের কোরবানি ঈদে কোনো হাটে বিক্রি নয়; বরং প্রধানমন্ত্রীকে উপহার হিসেবে দিতে চান হামিদা।

টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার লাউহাটি ইউনিয়নের ভেঙ্গুলিয়া গ্রামে হামিদার বাবা আব্দুল হামিদের বাড়িতে লালিত-পালিত হচ্ছে ৫৪ মণ ওজনের বিশালাকার ষাঁড়টি।

মূলত বিগত তিন বছর ধরেই বেশ আলোচনায় আছে হামিদার মানিক। কোরবানি ঈদ এলেই সংবাদের শিরোনাম হয় সে। ২০২১ সালে যখন প্রথম আলোচনায় আসে, তখন মানিকের ওজন ছিল ৩৬ মণ। দাম হাঁকানো হয়েছিল ১৪ লাখ টাকা। কিন্তু কাঙ্খিত দাম না পাওয়ায় সেবার মানিককে বিক্রি করেননি তার মালিক।

সবশেষ গত বছরের কোরবানি ঈদে যখন গাবতলীর হাটে নামানো হয় অস্ট্রেলীয় ফ্রিজিয়ান জাতের ষাঁড়টিকে, তখন তাকে দেখে যেন আর চোখ সরে না মানুষের। মানিকের ওজন বেড়ে ততদিনে ৫২ মণ। কিন্তু দাম আর তেমন বাড়েনি; হাঁকা হয় ১৫ লাখ টাকা। অথচ সেবারও দুর্ভাগ্যই সঙ্গী হামিদার; অবিক্রিতই থেকে যায় তার মানিক। হাট থেকে বাড়িতে আনার পর এক ক্রেতা অবশ্য ১০ লাখ টাকা দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু হামিদার মনে তখন সায় দেয়নি।

কিন্তু, দিনকে দিন বেড়েই চলেছে মানিকের খোরাকের চাহিদা। এত বিশালাকার একটি প্রাণিকে তার চাহিদামতো খোরাক যোগাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে হামিদাকে। তাই এবার প্রধানমন্ত্রীর দ্বারস্ত দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করতে থাকা এ নারী। প্রধানমন্ত্রীই এখন তাকে বিপদ থেকে উদ্ধার করতে পারবেন বলে ধারণা তার।

আকুতি জানিয়ে হামিদা বলেন, এবার প্রধানমন্ত্রী যদি আমার মানিককে না নেন, তাহলে আমার আর কোনো গতি থাকবে না।

প্রতিদিন মানিককে সাবান-শ্যাম্পু দিয়ে গোসল করাতে হয়, সময়মতো দিতে হয় খাবার। গত ৮ বছর ধরে এভাবেই মানিককে মাতৃস্নেহে লালনপালন করছেন হামিদা ও তার পরিবার।

প্রতিবেশীরা জানান, করটিয়া সা’দত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাস বিভাগ থেকে অনার্স শেষ করেন হামিদা আক্তার। স্বপ্ন সফল নারী উদ্যোক্তা হবেন। চাকরি না করে নারী উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে গত ৮ বছর ধরে গরু লালনপালন শুরু করেন। দুটি গাভী কেনেন। সেই গাভী দুটি বাছুরের জন্ম দেয়, তাদের নাম রাখেন মানিক ও রতন। দুই বছর আগে রতনকে বিক্রি করতে পারলেও রয়ে যায় মানিক। প্রতিদিন দানবাকৃতির ষাঁড়টির খরচ মেটাতে হিমসিম খেতে হচ্ছে হামিদাকে। তার মা মারা গেছেন ছয় মাস আগে। বৃদ্ধ বাবাকে নিয়ে হামিদার সংসার।

হামিদার বাবা আব্দুল হামিদ জানান, ছেলে না থাকায় এবং তিনি বৃদ্ধ হওয়ায় ছোটবেলা থেকেই হামিদা তার কাজে সহযোগিতা করে আসছেন। এখন বার্ধক্যজনিত অসুখে পড়ে বেশি দুর্বল হয়ে পড়েছেন। তাই বড় মেয়ে হামিদাকেই সংসারের হাল ধরতে হয়েছে। বাকি দুই মেয়ের একজনকে বিয়ে দিয়েছেন, অন্যজন নার্সিংয়ে পড়ছে। সন্তানদের সুশিক্ষিত করার ইচ্ছে তার।

মন্তব্য করুন

daraz
  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
জুলাইয়ে চীন সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন মঙ্গলবার
বদলে যাওয়া বাংলাদেশকে তরুণরাই এগিয়ে নেবে: প্রধানমন্ত্রী
উপবৃত্তি ও টিউশন ফি কার্যক্রম উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী