• ঢাকা বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ৫ আষাঢ় ১৪৩১
logo

সাবেক স্বামীর কাছে ফিরতে না চাওয়ায় অন্তঃসত্ত্বা নারীকে ছুরিকাঘাত

শরীয়তপুর প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

  ০৬ জুন ২০২৪, ১১:৫০
ডামুড্যা থানা
ছবি: সংগৃহীত

শরীয়তপুরের ডামুড্যায় সাবেক স্বামীর কাছে ফিরতে না চাওয়ায় ফাতেমা মুন্নি (৩০) নামের এক অন্তঃসত্ত্বা নারীকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।

বুধবার (৫ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের কুতুবপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

ফাতেমা মুন্নি উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের তিলই এলাকার বিল্লাল হোসেনের স্ত্রী। অভিযুক্তের নাম শরিফুল শেখ। তিনি গোপালগঞ্জ জেলার মোকসেদপুর উপজেলার চর পদ্মবিল এলাকার তৈয়ব শেখের ছেলে।

ভুক্তভোগী নারী, প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভেদরগঞ্জ উপজেলার মহিষার ইউনিয়নের সাজনপুর এলাকার মৃত দেলোয়ার হোসেন ছৈয়ালের মেয়ে ফাতেমা মুন্নির সঙ্গে প্রায় ৬ বছর আগে বিয়ে হয় ডামুড্যা উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের তিলই এলাকার বিল্লাল হোসেনের সঙ্গে। তাদের সংসারে ৫ বছরের একটি ছেলে রয়েছে।

একবছর আগে মোবাইল ফোনে পরিচয়ের মাধ্যমে পুনরায় বিয়ে করেন গোপালগঞ্জ জেলার মোকসেদপুর উপজেলার চর পদ্মবিল এলাকার তৈয়ব শেখের ছেলে শরিফুল শেখকে। তবে কয়েক মাস সংসার করার পরে ফাতেমা মুন্নি জানতে পারেন শরিফুলের আরেকজন স্ত্রী রয়েছে। পরে শরিফুলকে ডিভোর্স দিয়ে প্রথম স্বামী বিল্লাল হোসেনের কাছে ফিরে আসেন তিনি।

এদিকে এই ঘটনার পর থেকেই ক্ষিপ্ত হয় শরিফুল। তিনি ফাতেমা মুন্নিকে তার সংসারে ফিরে যাওয়ার জন্য একাধিকবার মোবাইল ফোনে ফোন দিয়ে বিরক্ত করতে থাকে। বুধবার সন্ধ্যায় শরিফুল ফাতেমা মুন্নিকে আর বিরক্ত করবে না বলে, শেষবারের মতো দেখা করার কথা বলে ডামুড্যাতে আসেন। একপর্যায়ে তারা দেখা করেন এবং রিকশায় ফাতেমাকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে। তারা রিকশা নিয়ে কুতুবপুর এলাকায় আসলে হঠাৎ করে শরিফুল তার পকেট থেকে একটি ছুড়ি বের করে ফাতেমার পেটের মধ্যে ঢুকিয়ে দেয়। এ সময় ফাতেমা নিজেকে বাঁচাতে চেষ্টা করলে তার বিভিন্ন জায়গায় ছুড়ি দিয়ে জখম করে পালিয়ে যায় শরিফুল। পরে পথচারীরা ফাতেমাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নিয়ে এলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়।

ভুক্তভোগী ফাতেমা মুন্নি বলেন, আমি শরিফুলকে ডিভোর্স দিয়ে স্বামী-সন্তান নিয়ে ভালোই ছিলাম। কিন্তু শরিফুল বার বার ফোন দিয়ে আমাকে বিরক্ত করতে থাকে। আজ শেষ বারের মতো দেখা করার কথা বলে আমার কাছে অনুরোধ করে। আমি বিশ্বাস করে ওর সঙ্গে দেখা করি। রিকশায় ঘুরতে ঘুরতে একটি নির্জন নিয়ে শরিফুল আমার পেটের মধ্যে ছুড়ি ঢুকিয়ে দেয়। আমি আর বাঁচব না, আপনারা সবাই আমার সন্তানকে দেখে রাখবেন। আমি শরিফুলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

প্রত্যক্ষদর্শী সাগর নামের এক অটোরিকশা চালক বলেন, আমি ওই রাস্তা দিয়ে যাত্রী নিয়ে যাচ্ছিলাম। তখন দেখি মেয়েটি রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে আছে। তার অবস্থা খুবই খারাপ ছিল এবং প্রচণ্ড রক্ত পড়ছিল। সে অনেকের কাছে নিজেকে বাঁচাতে অনুরোধ করছিল। কিন্তু কেউ তখন এগিয়ে আসেনি। তখন আমি একটি টিশার্ট ছিড়ে আঘাতের স্থানে বেঁধে হাসপাতালে নিয়ে আসি।

এ ব্যাপার সদর হাসপাতালের চিকিৎসা কর্মকর্তা অমিত সেনগুপ্ত বলেন, ওই নারীটিকে গুরুতর আহত অবস্থায় নিয়ে আসা হয়েছিল। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তবে পেটের নিচের অংশের আঘাতটি খুবই গুরুতর প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে তার খাদ্যনালি আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে। এ ছাড়া নারীটি বলছিলেন তিনি পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এই অবস্থায় তার দ্রুত অপারেশন প্রয়োজন। যদি সঠিক সময়ে চিকিৎসা না হয়, তার জীবন সংকটাপন্ন হতে পারে।

জানতে চাইলে ডামুড্যা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমারত হোসেন বলেন, একটি নারীকে কেউ আঘাত করেছে এবং তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এমন একটি খবর পেয়েছি। এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। তবে অভিযোগ পেলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

মন্তব্য করুন

daraz
  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
বিদ্যুৎস্পৃষ্টে প্রাণ গেল আনসার সদস্যের
শরীয়তপুরে আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দাদের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ
শরীয়তপুরের ২ শতাধিক স্থানে ঈদুল আজহার জামাত অনুষ্ঠিত
শরীয়তপুরের ৩০ গ্রামে ঈদুল আজহা উদযাপন