• ঢাকা রোববার, ১৬ জুন ২০২৪, ২ আষাঢ় ১৪৩১
logo

শুল্ক নিয়ে জটিলতা, পেঁয়াজ আমদানিতে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা

হিলি প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

  ১৫ মে ২০২৪, ১৬:০৬
শুল্ক নিয়ে জটিলতা, পেঁয়াজ আমদানিতে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা
ছবি : সংগৃহীত

প্রায় ৫ মাস পর দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ফের ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৪ মে) সন্ধ্যা ৬টা ২৫ মিনিটে ৩০ টন পেঁয়াজ নিয়ে একটি ভারতীয় ট্রাক বাংলাদেশে প্রবেশ করে।

গত ৪ মে ভারত সরকার বাংলাদেশে পেঁয়াজ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেওয়ায় পেঁয়াজ আমদানি করা হচ্ছে। তবে শুল্ক না কমানো হলে পেঁয়াজ আর আমদানি করবে না হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারকরা।

বন্দরের আমদানিকারক আহমেদ আলী সরকার বলেন, পেঁয়াজ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে রপ্তানি মূল্য ৫৫০ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করে ভারত। এই অবস্থায় ভারতে পেঁয়াজের এলসি করি। আশায় ছিলাম ভারত রপ্তানিতে যে ৪০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিল সেটি প্রত্যাহার করলে আমদানিতে লাভ না হলেও লোকসান হবে না। কিন্তু প্রত্যাহার করেনি। আগে এলসি করা ছিল একারণে আমদানি করতে বাধ্য হয়েছি। এখন লোকসান হবে না লাভ হবে বলতে পারছি না।

তিনি আরও বলেন, পেঁয়াজ আমদানি কেজি প্রতি সব মিলে খরচ হচ্ছে ৭০ থেকে ৭২ টাকা। লোকসান না হলে পেঁয়াজ আমদানি অব্যাহত রাখা হবে। না হলে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ করে দেওয়া হবে।

হিলি স্থলবন্দর উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের উপ-সহকারী ইউসুফ আলী বলেন, ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানিতে আমাদের পক্ষে কোনো বিধি-নিষেধ ছিল না। ভারত সরকার তাদের অভ্যন্তরীণ ঘাটতি মোকাবেলায় রপ্তানি বন্ধ রেখেছিল। গত ৪ মে তারা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেওয়ায় দেশের প্রায় ৩০ জন আমদানিকারক খামারবাড়ীতে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন।

তিনি আরও বলেন, আবেদনের ফলে আমদানিকারকদের খামারবাড়ী থেকে অনুমতিপত্র (আইপি) দেওয়া হয়েছে। এসব আমদানিকারকরা প্রায় ৪৮ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি পেয়েছেন। কিন্তু শুনেছি আমদানিকারকরা লোকসান হবে বলে এতোদিন আমদানি করেননি।

হিলি স্থলবন্দরের বেসরকারি অপারেটর পানামা হিলি পোর্টের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন মল্লিক বলেন, গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যার একটু আগে একজন আমদানিকারক হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ৩০ টন পেঁয়াজ আমদানি করেছেন। পেঁয়াজ পচনশীল পণ্য তাই আমরা দ্রুততা সঙ্গে খালাস করার প্রক্রিয়া শুরু করেছি। যেন তারা তাদের গন্তব্যে নিতে পারেন।

আমদানিকারক ব্যবসায়ী সূত্র জানায়, গত বছরের অক্টোবর মাস পর্যন্ত প্রতি টন পেঁয়াজ ২ থেকে ৩ শ’ ডলারে আমদানি করা হচ্ছিল। কিন্তু ওই বছরের ২৮ অক্টোবর ভারত রপ্তানি মূল্য বৃদ্ধি করে ৮০০ ডলার নির্ধারণ করে। তাতেও আমদানি হচ্ছিল। একপর্যায়ে বন্যায় উৎপাদন ব্যাহতের কথা বলে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে।

গত বছরের ৭ ডিসেম্বর ভারতের বৈদেশিক বাণিজ্য শাখার মহাপরিচালক সন্তোষ কুমার স্বাক্ষরিত এক চিঠির মাধ্যমে ৩১ মার্চ পর্যন্ত পেঁয়াজ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দেয়। এরপর থেকে হিলিসহ দেশের বিভিন্ন স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ রয়েছে। কিন্তু গত ২৩ মার্চ নিষেধাজ্ঞার সময়সীমা বৃদ্ধি করে অনির্দিষ্টকালের পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

মন্তব্য করুন

daraz
  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
আখাউড়া স্থলবন্দরে চার দিন বন্ধ আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম
টানা ৭ দিন বন্ধ থাকবে দর্শনা স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানি
ঈদে ৭ দিন বন্ধ থাকবে বুড়িমারী স্থলবন্দর
আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে প্রথমবার জিরা আমদানি