Mir cement
logo
  • ঢাকা মঙ্গলবার, ২৪ মে ২০২২, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

ভুল অপারেশনে প্রসূতির মৃত্যু, চিকিৎসক উধাও

ভুল অপারেশনে প্রসূতির মৃত্যু, চিকিৎসক উধাও
ফাইল ছবি

পাবনার সাঁথিয়া উপজেলায় চিকিৎসকের ভুল অপারেশনে প্রসূতি শ্যামলী খাতুনের (২৩) মৃত্যু ঘটেছে। গুরুতর আহত হয়েছে নবজাতক।

তবে উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় পাঁচ লাখ টাকায় এ ঘটনার আপস-মীমাংসা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গতকাল শুক্রবার (১৩ মে) সকাল ১১টায় পাবনার সাঁথিয়া উপজেলা সদরের রুবিয়া ফয়েজ ক্লিনিকে এ ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার পর থেকে চিকিৎসক আব্দুর রহিম খান পলাতক।

প্রসব বেদনা নিয়ে গত বৃহস্পতিবার রাত ১টায় সাঁথিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেপে ভর্তি হন তেঁতুলতলা স্বরূপ গ্রামের দিনমজুর খাইরুল ইসলামের স্ত্রী শ্যামলী খাতুন (২৩)। পরে তাকে ফুঁসলিয়ে সেখান থেকে রুবিয়া ফয়েজ ক্লিনিকে নিয়ে আসে দালালরা। শুক্রবার সকাল ৯টায় ক্লিনিক মালিক ডা. আব্দুর রহিম খান নিজেই রোগীকে অ্যানেসথেসিয়া দেন এবং সিজারিয়ান অপারেশন করেন। এতে অধিক রক্তক্ষরণে অপারেশনের টেবিলেই শ্যামলীর মৃত্যু ঘটে। এ সময় নবজাতকের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছুরির আঘাত লাগে। পরে রোগীর স্বামীকে ডেকে নানা ভয় দেখিয়ে পোস্টমর্টেম না করেই অ্যাম্বুলেন্স ডেকে রোগীর মরদেহ বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

নিহতের স্বামী খাইরুল ইসলাম বলেন, আমার স্ত্রীকে ডাক্তার ভুল চিকিৎসা করে মেরে ফেলেছেন। এটি তার তৃতীয় বাচ্চা। আগের দুটি নরমাল ডেলিভারি হয়েছে। এটিও নরমাল হবে। তাই উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করেছিলাম। কিন্তু রুবিয়া ফয়েজের দালালরা ফুঁসলিয়ে নিয়ে গিয়ে তাকে মেরে ফেলেছে। আমি এর বিচার চাই।

তিনি বলেন, এখন তারা আমাকে নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে। আমি গরিব মানুষ। আমি কী করব? আসরের নামাজের পর স্ত্রীকে দাফন করেছি।

সাঁথিয়া থানার ওসি আসিফ মুহাম্মদ সিদ্দিকুল ইসলাম এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এ ব্যাপারে কেউ অভিযোগ না দেওয়ায় ব্যবস্থা নেওয়া যায়নি। তা ছাড়া ইউএনও সাহেব বিষয়টি মীমাংসা করেছেন।

সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম জামাল হোসেন বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে ঘটনাটির মীমাংসা হয়ে গেছে। ভিকিটিমকে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ যথাযথ ক্ষতিপূরণ দিতে চেয়েছে। তাই আমরা ব্যবস্থা নেইনি এবং পোস্টমর্টেম ছাড়াই দাফনের অনুমতি দিয়েছি।

এ ব্যাপারে রুবিয়া ফয়েজ ক্লিনিকের মালিক ডা. আব্দুর রহিমের সঙ্গে বারবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু কেউ ফোন রিসিভ করেননি।

অভিযোগ রয়েছে, এর আগেও ডা. রহিমের ভুল অপারেশনে পাঁচজন রোগী মারা গেছেন। কিন্তু তার কিছু হয়নি। এবার প্রসূতি শ্যামলী মারা যাওয়ার পর ইউএনওর মধ্যস্থতায় তিনি নিহতের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে পাঁচ লাখ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে ইউএনও বলেছেন, টাকা-পয়সার কোনো লেনদেন হয়নি। ভিকটিমের স্বামী আপত্তি না করায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

মন্তব্য করুন

RTV Drama
RTVPLUS