Mir cement
logo
  • ঢাকা রোববার, ২৯ মে ২০২২, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

  ০৯ মে ২০২২, ১৫:৫৩
আপডেট : ০৯ মে ২০২২, ১৬:২৫

সৌরবিদ্যুতে সেচ, বদলে দিয়েছে কৃষকের ভাগ্য

সৌরবিদ্যুতে, সেচ, বদলে, দিয়েছে, কৃষকের, ভাগ্য,
ছবি: আরটিভি

বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ। দেশের প্রায় শতকরা ৮০ ভাগ মানুষ কৃষির ওপর নির্ভরশীল। দেশের খাদ্যের জোগানও দেন এই কৃষকরা। বর্তমানে কৃষিতে উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি বাড়ছে উৎপাদন ব্যয়ও। কিন্তু সে অনুপাতে বাড়ছে না উৎপাদিত ফসলের মূল্য।

তবে এই উৎপাদন ব্যয় কমাতে ঝিনাইদহ কালীগঞ্জের গুটিয়ানী গ্রামের মাঠে সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে সেচের ব্যবস্থা করা হয়েছে। যার ফলে কৃষকরা জ্বালানি তেল নির্ভরতা থেকে সরে এসে সেচ খরচ অনেকটাই সাশ্রয় করতে পারছেন। সৌরবিদ্যুতে কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে।

সরেজমিনে গুটিয়ানী গ্রামের মাঠে গিয়ে দেখা যায়, বেশ কয়েকটি গ্রামের মাঝখানে দিগন্ত জোড়া ফসলের মাঠ। বর্তমানে সারা মাঠে চাষ করা হয়েছে বোরো ধানের। দূর থেকেই নজরে পড়ছে বড় টিনের ঘরের মতো সৌরবিদ্যুৎ প্লান্ট। যেখান থেকে বোরো খেতগুলো ছাড়াও পাম্পের নিকটবর্তী সব ফসলিখেতে পানি সেচের কাজ চলছে। সবুজ সতেজ খেতগুলোতে ভালো ফলনের আভাসে কৃষকদের মনে খুশির দোলা দিচ্ছে। সূর্যের আলো কাজে লাগিয়ে এ সৌর প্লান্টের মাধ্যমে গ্রামটির প্রায় ৩৫-৪০ বিঘা জমিতে বোরো ধানের চাষ করা হয়েছে।

গুটিয়ানী গ্রামের কৃষক আবদুর রাজ্জাক বলেন, একসময় কৃষি কাজ ছিল বৃষ্টির পানির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য বৃষ্টির মৌসুমেও এখন বৃষ্টির দেখা মেলে না। ফলে চাষাবাদ এখন সম্পূর্ণটাই সেচনির্ভর হয়ে গেছে। যার ফলে উৎপাদন ও সেচ খরচ বাবদ ব্যয় উভয়ই বেড়েছে। গ্রামের সব মাঠে বিদ্যুৎ নেই, আবার ব্যয়বহুল জালানি তেলে চালিত শ্যালো ইঞ্জিনেও চাষ আকাশচুম্বী খরচ।

মাঠে সৌরবিদ্যুতের প্লান্ট স্থাপনের মাধ্যমে প্রতি বিঘা বোরো ধানের সেচ বাবদ ৫ হাজার টাকা খরচ হয়। জ্বালানি তেলনির্ভর শ্যালো মেশিনে খরচ হয় ৯ থেকে ১০ হাজার টাকা। ফলে সৌর প্লান্টের মাধ্যমে সেচ দিতে পেরে তাদেও ব্যয় অনেক কমে গেছে।

একই গ্রামের আবদুল মান্নান বলেন, এ পদ্ধতিতে ক্ষেতে সেচের জন্য কৃষকদের সরাসরি উপস্থিত থাকতে হয় না বলে অতিরিক্ত শ্রমিকের প্রয়োজন হয় না। তবে সৌর প্লান্টের চাষে অবশ্য সূর্যের আলো না থাকলে আর পানি পাওয়া যায় না। ফলে এ পদ্ধতির পাশাপাশি রাতে সেচকাজ চালানোর জন্য পল্লীবিদ্যুতে সংযোগ করতে পারলে অধিক জমি সেচের আওতায় এনে খরচ আরও সাশ্রয় করা সম্ভব হবে।

কৃষক আবদুল আলিম বলেন, সৌর পাম্প পরিবেশবান্ধব। রবিশস্য উৎপাদনে সেচ খরচ অপেক্ষাকৃত আরও কম।

জামাল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোদাচ্ছের হোসেন মণ্ডল বলেন, ঝিনাইদহ এইডের দেওয়া কালীগঞ্জ উপজেলার মোট ৮টি প্লান্টের মধ্যে তার নিজের ইউনিয়নের গুটিয়ানী, কামারাইল ও হরদেবপুর গ্রামেই রয়েছে মোট ৬টি। এ গ্রামগুলোর কৃষকেরা কম খরচে সোলার পাম্পের মাধ্যমে সেচকাজ চালিয়ে বেশ উপকৃত হচ্ছে।

কৃষকদের কৃষিপণ্যের উৎপাদন ব্যয় কমাতে এনজিও সংস্থা ঝিনাইদহের এইড ফাউন্ডেশনের বাস্তবায়নে ইনফ্রাকস্ট্রকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড-ইডকলের সহযোগিতায় গুটিয়ানী গ্রামের মাঠে স্থাপন করা হয়েছে সোলার প্লান্ট।

এই প্রকল্প প্রধান আলমগীর হোসেন বাবু বলেন, এ প্রকল্পের অধীনে কালীগঞ্জ উপজেলাতে মোট ৮টি সৌরবিদ্যুৎ প্লান্ট রয়েছে। তার মধ্যে গুটিয়ানী গ্রামে একটি। দিনের বেলায় সোলারের মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ তৈরির ফলে ভালোভাবেই সেচ কাজ চলছে। খরচ কম এ ছাড়া জাতীয়ভাবে বিদ্যুৎ ও আমদানিকৃত জ্বালানি তেল সাশ্রয় করতে ভূমিকা রাখছে। রাতে সেচকাজ চলমান রাখতে পল্লীবিদ্যুতের সংযোগের জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে।

কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সৈয়দ মোহায়মেন আক্তার বলেন, সৌরবিদ্যুৎ পরিবেশ বান্ধব ও কৃষকদের ফসলের উৎপাদন ব্যয় অনেকটা কমেছে। বিদ্যুৎ ও আমদানিকৃত জ্বালানি তেল সাশ্রয়ের জন্য সরকারি-বেসরকারিভাবে সৌর প্লান্টের বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মন্তব্য করুন

RTV Drama
RTVPLUS