Mir cement
logo
  • ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২২, ১৩ মাঘ ১৪২৮
discover

পাউবো অফিসে কর্মচারীকে আটকে রেখে নির্যাতন

পাউবো অফিসে কর্মচারীকে আটকে রেখে নির্যাতন
রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ড

রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ে সরকারি প্রতিষ্ঠানটির একজন কর্মচারীকে প্রায় ১০ ঘণ্টা আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে খবর পেয়ে মহানগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানা পুলিশ গত বুধবার (১২ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টার দিকে পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ সফিকুল ইসলামের দপ্তর থেকে কামরুল ইসলাম নামের ওই কর্মচারীকে উদ্ধার করে।

নির্যাতনের শিকার কামরুল ইসলাম রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তরের অফিস সহকারী-কাম-কম্পিউটার অপারেটর।

এদিকে এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (১৩ জানুয়ারি) সকালে ভুক্তভোগী কামরুল বাদী হয়ে রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সফিকুল ইসলাম শেখ, সহকারী প্রকৌশলী আবদুর রশিদ, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী রিফাত করিম ও ওবাইদুল হক এবং উপসহকারী প্রকৌশলী মুকেশ কুমারকে আসামি করে বোয়ালিয়া থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

অভিযোগে পূর্বপরিকল্পিতভাবে আটকে রেখে তাকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে। ভুক্তভোগী কামরুল সম্প্রতি পাউবোর নীলফামারীর ডালিয়া প্রকল্প থেকে রাজশাহীতে বদলি হয়ে আসেন। কামরুল ইসলামের বাড়ি নাটোরে।

কামরুল ইসলাম অভিযোগে আরও জানান, দুই সপ্তাহ আগে পাউবোর ডালিয়া প্রকল্প থেকে তিনি রাজশাহীতে পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তরে বদলি হয়ে আসেন। বদলি হয়ে আসার পর থেকে তাকে কোনো কাজ দেওয়া হয়নি। ফলে শুধু বসে থেকেই তার দিন পার হচ্ছিল। ফলে মঙ্গলবার অফিস সময় শেষ হওয়ার এক ঘণ্টা আগে অফিস ত্যাগ করেন।

এ কারণে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন নির্বাহী প্রকৌশলী। পরদিন বুধবার তিনি অফিসে গেলে দুপুর ১২টার দিকে নির্বাহী প্রকৌশলী তাকে দপ্তরে ডেকে নেন। আগের দিন এক ঘণ্টা আগে অফিস ত্যাগের বিষয়ে জানতে চান।

এ সময় কামরুল ইসলাম বলেন, বদলি হয়ে আসার পর থেকে তাকে কোনো কাজ দেওয়া হয়নি। কোনো কাজ না থাকায় তিনি এক ঘণ্টা আগে চলে যান। কামরুল ইসলাম তাকে কিছু কাজ দেওয়ার জন্য নির্বাহী প্রকৌশলীকে অনুরোধ করেন। এতেই নির্বাহী প্রকৌশলী তার ওপর ক্ষেপে ওঠেন।

অভিযোগ মতে, এ সময় কামরুল ইসলাম ও নির্বাহী প্রকৌশলীর মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে নির্বাহী প্রকৌশলী অন্যান্য অধস্তনকে দ্রুত ডেকে নেন তার দপ্তরে। সবাই মিলে কামরুল ইসলামকে বেঁধে ফেলেন। এরপর অফিসের মেঝেতে ফেলে শুরু হয় নির্যাতন।

কামরুল ইসলাম আরও জানিয়েছেন, নির্বাহী প্রকৌশলীসহ সহযোগীরা তাকে কিলঘুষি ও লাথি মারতে থাকেন। তার মোবাইল ফোন কেড়ে নেন। অফিসেরই কোনো কর্মচারীর মাধ্যমে খবর পেয়ে স্ত্রী কুমকুম আরা বুধবার রাতে নাটোর থেকে ছুটে যান রাজশাহীতে।

নির্বাহী প্রকৌশলীকে অনুনয়-বিনয় করেও স্বামীকে ছাড়াতে ব্যর্থ হয়ে রাত ১০টার দিকে আরএমপির বোয়ালিয়া মডেল থানায় একটি অভিযোগ দেন। বোয়ালিয়া থানার পুলিশ রাত সাড়ে ১০টার দিকে নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তর থেকে কামরুল ইসলামকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যান।

এদিকে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় বোয়ালিয়া মডেল থানায় পুলিশি হেফাজতে থাকা কামরুল ইসলাম উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, রাজশাহীতে বদলি হয়ে আসার পর থেকেই নির্বাহী প্রকৌশলী ও তার আস্থাভাজন কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী তাকে নানাভাবে পীড়ন করে আসছেন। নির্বাহী প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্টরা তার রাজশাহীতে বদলির বিষয়টি ভালোভাবে নেননি। তাকে কোনো কাজ দেওয়া হয়নি। ফলে সকাল সাড়ে ৯টায় অফিসে গিয়ে বিকাল ৫টা পর্যন্ত তিনি শুধু বসে থেকেই কাটিয়েছেন। তিনি কিছু কাজ চেয়েছিলে। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে সহযোগীদের নিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী নিজ দপ্তরে আটকে রেখে তাকে হত্যা করতে চেয়েছিলেন। তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। বুকে ও শরীরে আঘাত পেয়েছেন। এখন অফিসে যেতে ভয় পাচ্ছেন।

আরএমপির বোয়ালিয়া থানার ওসি নিবারণ চন্দ্র বর্মণ আরটিভি নিউজকে বৃহস্পতিবার বলেন, কামরুল ইসলামকে মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশ এই বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে। সত্যতা পেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ওসি আরও জানান, বৃহস্পতিবার (১৩ জানুয়ারি) সকালে নির্বাহী প্রকৌশলী বাদী হয়ে কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে থানায় পাল্টা একটি অভিযোগ করেছেন। যাতে তার গায়ে হাত তোলার অভিযোগ আনা হয়েছে। সেই অভিযোগও পুলিশ খতিয়ে দেখছে।

এ বিষয়ে জানতে বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজশাহী পাউবোর কার্যালয়ে গেলে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শফিকুল ইসলাম শেখের দপ্তর তালাবদ্ধ পাওয়া যায়। পরে বৃস্পতিবার বিকালে তাকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এমআই/টিআই

মন্তব্য করুন

RTV Drama
RTVPLUS