Mir cement
logo
  • ঢাকা বুধবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২১, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

রাজবাড়ী প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

  ২১ নভেম্বর ২০২১, ১৮:১৪
আপডেট : ২১ নভেম্বর ২০২১, ১৮:২১

৬ বছর ধরে খাঁচায় বন্দি শিশু শিখা 

৬ বছর ধরে খাঁচায় বন্দি শিশু শিখা 
শিশু শিখা দাস

রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলায় এক শিশুকে ছয় বছর ধরে খাঁচায় বন্দি রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে। রোববার (২১ নভেম্বর) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে এই চিত্র দেখা যায়।

বন্দি থাকা শিশুটি রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার মাঝবাড়ি ইউনিয়নের পূর্বফুল কাউন্নার গ্রামের মদম কুমার দাস ও চন্দনা রানীর মেয়ে শিখা দাস (৯)।

জানা গেছে, এক বছর বয়সে তার শারীরিক সমস্যার বিষয়টি পরিবারের সদস্যরা বুঝতে পারে। তখন শিখা মানুষ দেখলেই কামড়ে ও খামচি দেয়। এ জন্য তখন থেকেই তাকে পরিবারের লোকজন রশি দিয়ে বেঁধে রাখত। কিন্তু শিখা ওই রশি ছিঁড়ে হামাগুড়ি দিয়ে তার বাবা-মাসহ আশপাশের লোকজনকে কামড় ও খামচি দিয়ে আহত করত। তার কামড়ে জলাতঙ্ক রোগ হতে পারে এজন্য তিন বছর বয়স থেকে পরিবারের সদস্যরা শিখাকে নেটের খাঁচায় বন্দি করে রাখে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, তাদের বাড়িটি টিনের, মেঝে মাটির। ঘরের সামনে মাটির বারান্দার এক কোণে মোটা জাল দিয়ে ঘিরে রাখা খাঁচায় শিখা। খাঁচার পাশেই রান্নাঘরে মা কাজের পাশাপাশি মেয়ের দেখভাল করেন।

শিখার মা চন্দনা শিল জানান, তিন ভাই-বোন। তার মধ্যে শিখা মেজো। তার বড় ভাই স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। আর ছোট ভাইয়ের বয়স দুই বছর। বাবা একটি সেলুনে কাজ করেন। সেই টাকা দিয়েই মেয়েকে চিকিৎসার জন্য একাধিকবার ভারতে নিয়ে গেছেন। কিন্তু অবস্থার উন্নতি হয়নি।

শিখার মা চন্দনা বলেন, অনেক কবিরাজ, ডাক্তার দেখিয়েছি। কোনো কাজ হয়নি। জমানো টাকা, জমিজমা বিক্রি করে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতে নিয়ে গিয়েছিলাম। টাকার অভাবে সেখানে চিকিৎসা করাতে পারলাম না। এখন দেশে চিকিৎসা চলছে। প্রতিদিন ১৫০ টাকার ওষুধ লাগে। মাসে সাড়ে ৪ হাজার টাকা লাগে। এখন ওর চিকিৎসা নিয়ে আমরা খুব চিন্তিত।

এলাকাবাসীরা জানান, বিশেষ চাহিদা-সম্পন্ন এই শিশুটিকে নিয়ে তার বাবা-মায়ের দুঃখের শেষ নেই। দরিদ্র বাবা-মার সংসার চালানোই কষ্টসাধ্য। তার ওপর মেয়েটির চিকিৎসা করতে বেগ পেতে হচ্ছে। সরকারসহ বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তারা।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান কাজী শরীফুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমি জানার পর শিশুটিকে একটি প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড করে দিয়েছিলাম। যেভাবে ৬ মাস পর পর সে ২ হাজার ১০০ টাকা করে পায়। কিন্তু সামান্য টাকা দিয়ে তার চিকিৎসার ব্যয় মেটানো সম্ভব হচ্ছে না।

রাজবাড়ী জেলার সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইব্রাহিম টিটন জানান, খাঁচার মধ্যে আটকে রাখার বিষয়টি অমানবিক। এতে তার মস্তিষ্কে বড় ধরনের ইফেক্ট পড়বে। সমাজসেবার অধীনে এ ধরনের বিশেষ চাহিদা-সম্পন্ন শিশুদের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে।

কালুখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, সরকারিভাবে বা সমাজসেবায় এ রকম প্রতিবন্ধী শিশুদের রাখার ব্যবস্থা নেই কালুখালীতে। শিশুটি বাবা-মা ছাড়া থাকতে পারে না। এজন্য এই শিশুটিকে দূরে কোথাও রাখা যাচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন ও সমাজকল্যাণ অধিদফতরের সমন্বয়ের মধ্যে আমরা প্রতিবন্ধীদের সহায়তা দিয়ে আসছি। আশা করছি, ওই শিশুটিকেও সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে।

জিএম/এসকে

মন্তব্য করুন

RTV Drama
RTVPLUS