Mir cement
logo
  • ঢাকা সোমবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২১, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

রাজশাহী (স্টাফ রিপোর্টার), আরটিভি নিউজ

  ২০ নভেম্বর ২০২১, ১৪:৩৮
আপডেট : ২০ নভেম্বর ২০২১, ১৪:৪৩

সেফ হোমে বিয়ে শিরিন ও ‌অন্তরার

সেফ হোমে বিয়ে শিরিন ও ‌অন্তরার
শিরিনা-অন্তরা

রাজশাহী জেলা প্রশাসকের উপস্থিতিতেই আদালতের নির্দেশে পবা উপজেলার বায়ায় অবস্থিত সেফহোমে অনেকটা ধুমধামেই বিয়ে হয় অভিভাবকহীন অন্তরা বেগম ফজিলা আর শিরিনা খাতুনের।

২০১০ সালে আদালতের নির্দেশে সে সময় থেকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহিলা ও শিশু-কিশোরীদের নিরাপদ আবাসনে সেফহোমেই ছিলেন দু'জনে। দু'জনেরই বয়স হয়েছিল ৩৩। গতকাল শুক্রবার (২০ নভেম্বর) তাদের বিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এই বিয়েতে অতিথি হিসেবে এসেছিলেন রাজশাহীর জেলা প্রশাসক (ডিসি) আবদুল জলিলের পাশাপাশি রাজশাহী পুলিশ সুপার (এসপি) এবিএম মাসুদ হোসেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লসমী চাকমা ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। দুই পক্ষ থেকে বরযাত্রী এসেছিলেন আরও প্রায় ৪০ জন।

অন্তরাকে বিয়ে করেছেন রাজশাহী নগরীর বড়বনগ্রাম দুরুলের মোড় এলাকার মো. বিপ্লব (৪২)। আর শিরিনাকে বিয়ে করেছেন পবার পিল্লাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ইসমাইল হোসেন (৫০)। দু'জনেরই স্ত্রী মারা যাওয়ায় পরিবারের সম্মতিতে তারা বিয়ে করলেন। দু'জনেরই বিয়ের দেনমোহর করা হয়েছে এক লাখ টাকা।

শুক্রবার দুপুরে সেফহোমে ঢুকেই দেখা গেল, বরদের জন্য একটি গেট বানানো হয়েছে। পাশেই একজন বসে অতিথিদের আনা উপহার সামগ্রী গ্রহণ করছিলেন। আরেকটু সামনে এগোতেই দুই কনের গায়ে হলুদের প্যান্ডেল। সেখানেই বসেছিলেন বিপ্লব আর ইসমাইল।

বিপ্লব আরটিভি নিউজকে জানিয়েছেন, কয়েকবছর আগে দুই ছেলে-মেয়েকে রেখে তার স্ত্রী মারা গেছেন। তাই তিনি সবার সম্মতিতে এই বিয়ে করছেন। বিপ্লবের সঙ্গে তার ছেলে-মেয়েও এসেছিল। বিপ্লব একজন ব্যবসায়ী। আর ইসমাইল হোসেন অটোরিকশার চালক। তারও স্ত্রী মারা গেছেন। ইসমাইলের সঙ্গে এসেছিলেন তার বেয়াই, ভাগ্নে, দুই পুত্রবধূ, নাতি-নাতনিসহ ১৫ জন। বিয়ের জন্য ইসমাইল হাতে মেহেদি দিয়ে এসেছিলেন। আর দুই বরই পরে এসেছিলেন একই রঙের পাঞ্জাবি।

বর ইসমাইল হোসেন আরটিভি নিউজকে জানিয়েছেন, ঘটকের মাধ্যমে এ বিয়ে হয়েছে।বিয়ের আগে তিনি এসে পাত্রী দেখে গেছেন। তার পাত্রী পছন্দ হয়েছে।

ইসমাইলের দুই পুত্রবধূ জয়া বেগম ও দিলরুবা বেগম আরটিভি নিউজকে জানালেন, শ্বশুরের এই বিয়েতে তারা খুব খুশি। এই বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য সেফ হোমেই ৪৫ কেজি খাসির মাংস, ৫৫ কেজি মুরগির রোস্ট, ২০ কেজি মাছ, ২২ কেজি পোলাও চাল রান্না করা হয়। সাদাভাত, ডাল, মিষ্টি এবং দইয়েরও ব্যবস্থা ছিল। সেফহোমের পক্ষ থেকেই এ সব আয়োজন করা হয়। বিয়ের পর ডিসি-এসপি, আমন্ত্রিত অতিথিসহ বরযাত্রীরা এই খাবার খান।

ডিসি আবদুল জলিল আরটিভি নিউজকে বলেন, অভিভাবকহীন দুই নারীকে পারিবারিক বন্ধন দিতে পেরে তারও ভাল লাগছে।বিয়েতে নিজেরা খুশি বলে জানিয়েছেন অন্তরা-শিরিনাও।

সেফহোমের উপ-তত্বাবধায়ক লাইজু রাজ্জাক আরটিভি নিউজকে জানান, অভিভাবকহীন দুই নারীর বিয়ে দিতে পেরে তিনি অনেক খুশি। পুলিশ দুই জায়গা থেকে অভিভাবকহীন এ দুই নারীকে উদ্ধার করেছিল। পঞ্চগড়ের একটি আদালত ২০১০ সালে অন্তরাকে এই সেফহোমে পাঠান। একই বছর শিরিনাকে সেফহোমে পাঠান রংপুরের আদালত। তাদের বিয়ের প্রস্তাব এলে সংশ্লিষ্ট আদালতের অনুমতি নেওয়া হয়। এরপরই বিয়ের আয়োজন করা হয়।

এমআই/এসকে

মন্তব্য করুন

RTV Drama
RTVPLUS