Mir cement
logo
  • ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৯ মে ২০২২, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

লালমনিরহাটে হঠাৎ বন্যায় বিপাকে তিস্তাপাড়ের হাজারও মানুষ

লালমনিরহাটে হঠাৎ বন্যায় বিপাকে তিস্তাপাড়ের হাজারও মানুষ
লালমনিরহাটে হঠাৎ বন্যায় বিপাকে তিস্তাপাড়ের মানুষ, ছবি : প্রতিনিধি

অসময়ে হঠাৎ বন্যায় লালমনিরহাটে তিস্তাপাড়ের হাজারও মানুষ সবকিছু হারিয়ে এখন নিঃস্ব জীবনযাপন করছেন। উজানের ঢলে মাত্র কয়েকঘণ্টার ব্যবধানে লালমনিরহাটসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি জেলায় ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়ে এখন অসহায় জীবন-যাপন করছেন তারা।

যদিও মঙ্গলবার সকাল থেকে তিস্তার পানি ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ৮০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় বন্যা পরিস্থিতির সার্বিক উন্নতি হয়েছে। পানি নেমে গেলেও বন্যায় সব হারিয়ে এখন নিঃস্ব জীবন-জাপন করছেন বানভাসীদের মানুষ। এদিকে পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে বেশ কয়েকটি পয়েন্টে দেখা দিয়েছে নদী ভাঙন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, লালমনিরহাটের আদিতমারী, কালিগঞ্জ, হাতীবান্ধা ও সীমান্তবর্তী পাটগ্রাম উপজেলায় তিস্তায একদিনের তাণ্ডবে তছনছ হয়েছে ঘরবাড়ি, গাছপালা, ফসলের জমিসহ অসংখ্য স্থাপনা। কৃষকের ৫ শতাধিক মাছের ঘের বন্যার পানিতে ভেসে গেছে। ধান, ভুট্টা, আলু, পেঁয়াজ, রসুনের ক্ষেত পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। পানি কমে গেলেও কিছু পরিবার এখনও ঘরে উঠতে পারেনি। আদিতমারী উপজেলার মহিষখোঁচা ইউনিয়নের গোবর্ধনে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মনোয়ার মিয়া (৬০) বলেন, পানির তোড়ে ভেসে গেছে মাছের ঘের, ভেঙে গেছে গোবর্ধন স্পার বাঁধের একমাত্র পাকা সড়কটিও।

একই এলাকার মনছুর আলী (৬৫) বলেন, হঠাৎ সড়কটি ভেঙে গিয়ে আমার ঘরবাড়ি বিলীন হয়ে যায়। এখন এই ভাঙা ঘরে অবস্থান করে আছি। মেরামত করার মতো টাকা-পয়সা হাতে নেই। গোলাপ মিয়া (১৪) নামের এক স্কুলছাত্র জানান, আমার বই-খাতাসহ বাড়ির সবকিছু তিস্তার পানিতে ভেসে গেছে।

ওই এলাকার (অব.) স্কুলশিক্ষক কাচুয়া শেখ (৬৫) জানান, এ রকম বন্যার পানি কোনোদিন দেখি নাই বাহে। বন্যা মোকাবিলায় কোনো পূর্বপ্রস্তুতি না থাকায় অকালবন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে তিস্তাপাড়ের কৃষক ও সাধারণ মানুষ। আকস্মিক এ বন্যায় বিভিন্ন স্থানে সড়ক ও বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় মানুষ চলাচলের ক্ষেত্রে চরম দুর্ভোগে পড়েছে। এখনও কিছু পরিবারের বাড়িঘর বন্যার পানির নিচে।

আকস্মিক এ বন্যায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে হাতীবান্ধা উপজেলার সানিয়াজান, গড্ডিমারী, সিন্দুর্না, পাটিকাপাড়া, ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়ন, পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম ইউনিয়ন, কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী ও কাকিনা ইউনিয়ন, আদিতমারী উপজেলার মহিষখোঁচা ইউনিয়ন এবং সদর উপজেলার গোকুন্ডা, রাজপুর ও খুনিয়াগাছ ইউনিয়ন।

দহগ্রাম ইউনিয়নের তিস্তা চরাঞ্চলসহ ১ নম্বর ওয়ার্ডের কলোনিপাড়া, সর্দারপাড়া; ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মহিমপাড়া, বড়বাড়ি; ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সৈয়দপাড়া, মুন্সিপাড়া, ক্লিনিক পাড়া; ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাতিপাড়া, কদুআমতলা এলাকায় বন্যায় শতাধিক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক আবু জাফর বলেন, বন্যাদুর্গত পরিবারগুলোর মাঝে ত্রাণ সহায়তা বিতরণ কার্যক্রম চলছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর তালিকা তৈরি করা হচ্ছে।

পি

মন্তব্য করুন

RTV Drama
RTVPLUS