Mir cement
logo
  • ঢাকা শনিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২১, ১ কার্তিক ১৪২৮

যশোর প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

  ১০ অক্টোবর ২০২১, ১৬:৫৩
আপডেট : ১০ অক্টোবর ২০২১, ১৬:৫৫

স্ত্রী বাড়িতে না থাকায় গৃহবধূকে ধর্ষণ

স্ত্রী বাড়িতে না থাকায় গৃহবধূকে ধর্ষণ
ফাইল ছবি

যশোরের মনিরামপুর উপজেলায় এক গৃহবধূকে (২০) ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক পল্লিচিকিৎসকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আসামিদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

রোববার (১০ অক্টোবর) দুপুরে তাদের আদালতে হাজির করা হয়েছে। গত শনিবার (৯ অক্টোবর) দিনগত রাতে এ ঘটনায় গৃহবধূর ভাই বাদী হয়ে ২ জনকে অভিযুক্ত করে মনিরামপুর থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, উপজেলার কোদলাপাড়া গ্রামের ওয়াদুদ মিয়ার ছেলে পল্লিচিকিৎসক বিল্লাল হোসেন (৫০) ও তার সহযোগী বাগডোব গ্রামের হযরত আলীর ছেলে ইজিবাইক চালক দ্বীন মোহাম্মদ দিলু (৪০)। স্থানীয় রোহিতা বাজারে ফার্মেসি রয়েছে বিল্লালের। সেখানে তিনি ওষুধ বিক্রির পাশাপাশি রোগী দেখেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) জিয়াউল হক বলেন, প্রায় ৭ থেকে ৮ মাস আগে যশোর সদর উপজেলার পুলেরহাট এলাকায় বিয়ে হয় ওই গৃহবধূর। এক সপ্তাহ আগে গত সোমবার (৪ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে পুলেরহাট থেকে দ্বীন মোহাম্মদ দিলুর ইজিবাইকে ভুক্তভোগী গৃহবধূকে তুলে দেন তার স্বামী। ইজিবাইকে কোদলাপাড়া এলাকায় বাবার বাড়িতে আসছিলেন তিনি। একপর্যায়ে দিলু জানতে পারেন ওই গৃহবধূর সন্তান হয় না। তখন ভালো চিকিৎসার কথা বলে রোহিতা বাজারে বিল্লালের কাছে তাকে (গৃহবধূকে) আনেন দিলু। পরে কৌশলে বিল্লাল ভুক্তভোগী গৃহবধূকে বাজারের পাশে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান।

তিনি বলেন, বাড়িতে স্ত্রী সন্তান না থাকায় সেখানে ঘরে আটকে রেখে ভুক্তভোগী গৃহবধূকে ধর্ষণ করেন বিল্লাল। এ সময় ইজিবাইক চালক বাড়ির বাইরে অবস্থান করছিলেন।

পুলিশ জানিয়েছে, এক সপ্তাহ আগের ঘটনা হলেও লজ্জায় ও সংসার ভাঙার ভয়ে বিষয়টি কাউকে বলতে পারেননি ভুক্তভোগী গৃহবধূ। ইজিবাইক চালক দিলুকে বিল্লাল টাকা না দেয়ায় তিনি (চালক) ঘটনাটি ফাঁস করে দেন। একপর্যায়ে শনিবার (৯ অক্টোবর) ওই গৃহবধূ তার ভাইয়ের কাছে ঘটনা স্বীকার করেন।

এদিকে ধর্ষণের ঘটনা জানাজানি হলে শনিবার (৯ অক্টোবর) রাতে বিষয়টি চাপা দিতে দু'পক্ষকে নিয়ে রোহিতা বাজারে একটি ভবনের ছাদে সালিস বসে। উপজেলার খেদাপাড়া ফাঁড়ি পুলিশকে বিষয়টি জানিয়ে সালিস বসান কোদলাপাড়া ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মনিরুল ইসলামসহ স্থানীয় পর্যায়ের ক্ষমতাধর কয়েকজন।বিষয়টি আরও জানাজানি হলে সালিস পণ্ড হয়ে যায়। পরে রাতেই ভুক্তভোগী গৃহবধূকে নিয়ে থানায় আসেন স্বজনরা। এ সময় অভিযুক্ত ২ জনকে মারপিট করে খেদাপাড়া ফাঁড়ি পুলিশের কাছে সোপর্দ করে স্থানীয়রা। রাতেই পুলিশ তাদের মনিরামপুর হাসপাতালে ভর্তি করেন।

খেদাপাড়া পুলিশ ক্যাম্পের উপ-পরিদর্শক (এসআই) গোলাম রসুল বলেন, রোহিতা বাজারে লোকসমাগমের সংবাদ পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য শনিবার (৯ অক্টোবর) সন্ধ্যার পর ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। তখন ভুক্তভোগী গৃহবধূর কাছে ঘটনা শুনেছি। পরে থানায় ওসি মহোদয়কে ঘটনা জানিয়ে ভুক্তভোগীকে থানায় পাঠাই।

মনিরামপুর থানার ওসি নূর-ই-আলম সিদ্দীকি বলেন, ইতোমধ্যে আসামিদের গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছি। ভুক্তভোগীর জবানবন্দি রেকর্ড ও ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

জিএম/এসকে

মন্তব্য করুন

RTV Drama
RTVPLUS