Mir cement
logo
  • ঢাকা শুক্রবার, ২২ অক্টোবর ২০২১, ৭ কার্তিক ১৪২৮

পরকীয়ার জেরে মুখে এসিড ঢেলে ও পানিতে চুবিয়ে বড় ভাইকে হত্যা

ভৈরবে ৫২ দিন পর চা দোকানি স্বপন হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন
ভৈরবে ৫২ দিন পর চা দোকানি স্বপন হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন

ভৈরবে ৫২ দিন পর চা দোকানি স্বপন হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন হয়েছে। হত্যার পর খুনি সহোদর ছোট ভাই নিজেই হন হত্যা মামলার বাদী। অবশেষে আদালতে ১৬৪ ধারা জবানবন্দীতে হত্যার দায় স্বীকার করেছে বলে জানায় পিবিআই।

পিবিআই সূত্রে জানা গেছে, স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়া ও জায়গা সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জের ধরে চা দোকানি বড় ভাই স্বপনকে হত্যার পরিকল্পনা করে ছোট ভাই রিপন। পরিকল্পনা মাফিক রিপন বড় ভাই স্বপনকে রাত ১১টার দিকে ডেকে নিয়ে প্রথমে মুখে এসিড ঢেলে দেয়। এতে স্বপন চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করলে পানিতে চুবিয়ে হত্যা শেষে বাড়ি ফেরেন রিপন। আর এ হত্যাকাণ্ডে তাকে সহযোগিতা করেন আরও কয়েকজন।

আজ শনিবার দুপুরে আদালত ১৬৪ ধারা জবানবন্দীতে এসব কথা স্বীকার করে নিহতের ছোট ভাই মামলার বাদী রিপন মিয়া। এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই এর পুলিশ পরিদর্শক মো. শাকুরুল হক খান।

জানা গেছে, গেল ২৮ জুলাই উপজেলার শিমুলকান্দি ইউনিয়নের চাঁনপুরে স্বপন মিয়া (৩৭) নামের এক চা দোকানি নিখোঁজের দুইদিন পর একটি খাল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরদিন এই ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই রিপন মিয়া বাদী হয়ে ৩ জনকে আসামি করে ভৈরব থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় পুলিশ ৩ জনকেই আটক করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়। পরে মামলাটির তদন্ত দেয়া হয় কিশোরগঞ্জ পিবিআইকে। দীর্ঘ দেড় মাস তদন্ত শেষে পিবিআইয়ের তদন্তে বেরিয়ে আসে স্বপনকে তারই সহোদর ছোট ভাই অর্থাৎ মামলার বাদী রিপন মিয়া (৩৫) খুন করেছেন। এরপর এক সপ্তাহ চেষ্টা করে গতকাল শুক্রবার বিকেলে কৌশলে রিপনকে তার বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পিবিআই। পরে আজ শনিবার দুপুরে কিশোরগঞ্জ আদালতে জবানবন্দীতে সে খুনের দায় স্বীকার করে। আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. শহীদুল হক তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী গ্রহণ করেন।

পিবিআই জানায়, রিপন তার জবানবন্দীতে বলেছে, তার বড় ভাই নিহত স্বপন তার স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িত ছিল। এছাড়াও জায়গা সম্পত্তি দখল নিয়ে বিরোধ ছিল। ফলে সে গত ২৬ জুলাই রাতে হত্যার পরিকল্পনা করে। ঘটনার দিন রাতে তার ভাইকে বাসা থেকে ডেকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ির পাশের একটি খালের নিকটে যায়। সেখানে নিয়ে তার মুখে এসিড ঢেলে দেয়া হয়। এসময় তাকে সহায়তা করে আরও কয়েকজন। পরে স্বপন চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করলে পানিতে চুবিয়ে হত্যা করা হয়।

ঘটনার দুদিন পর খবর পেয়ে ভৈরব থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে।

কিশোরগঞ্জ পিবিআই পুলিশ পরিদর্শক মোঃ সাকুরুল হক খান জানান, মামলাটি তদন্ত করতে গিয়ে দেখি বাদী রিপন মিয়াই তার বড় ভাই স্বপনকে হত্যা করেছে। গতকাল শুক্রবার বিকেলে কৌশলে তাকে তার বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পিবিআই। ঘটনার তিন দিন পর খুনি নিজেই বাদী হয়ে থানায় তিনজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করে। এদিনই পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায়।

পি

মন্তব্য করুন

RTV Drama
RTVPLUS