Mir cement
logo
  • ঢাকা শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৩ আশ্বিন ১৪২৮

অব্যাহত ভাঙনে বিলীন হচ্ছে শতাধিক বাড়িঘর

অব্যাহত ভাঙনে বিলীন হচ্ছে শতাধিক বাড়িঘর
বিলীন হচ্ছে শতাধিক বাড়িঘর

মধুমতি নদীর ভাঙনের ফলে নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় শালনগর ও জয়পুর ইউনিয়নের মানচিত্র পাল্টে যাচ্ছে। মধুমতি নদীর তীব্র স্রোতে অব্যাহত ভাঙনের ফলে শালনগর ইউনিয়নের ছয়টি ও জয়পুর ইউনিয়নের ৩টি গ্রাম নদী গর্ভে প্রায় বিলীন হয়ে গেছে। এ বছর আরও ১০টি গ্রাম নদী ভাঙন চলছে।

এ সমস্ত গ্রামের লোকজন নদীর ওপারে অবস্থিত ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গা উপজেলার টগরবন্দ ও বুড়াইচ ইউনিয়নে আশ্রয় নিয়েছে। অনেকে নড়াইল সদর ও লোহাগড়ায় শহরে আশ্রয় নিয়েছে।

সরেজমিনে ভাঙন কবলিত এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, মধুমতি নদীর তীরবর্তী শালনগর ইউনিয়নের রামকান্তপুর, শিয়েরবর গ্রাম ও হাট, চর আজমপুর, মন্ডলবাগ, চর গোপালপুর খেয়াঘাট, চাকশী, নওখোলা মিয়াপাড়া, চরশালনগর, কাশিপুর, মাকড়াইল ও চর মাকড়াইল, রামচন্দ্রপুর এলাকায় বসতবাড়ি, ফসলি জমি ও পাকা রাস্তা মধুমতি নদীতে ভেঙে যাচ্ছে।

এসব গ্রামের বসবাসকারী লোকজন নদী ভাঙনের ভয়ে তাদের বাড়িঘর ভেঙে অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছে। বিভিন্ন ধরনের গাছপালা কেটে কম দামে বিক্রি করে দিচ্ছে। মাকড়াইল গ্রামের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একাংশ ইতিমধ্যে নদীতে ভেঙে গেছে এবং ওই গ্রামে অবস্থিত বাংলালিংকের মোবাইল টাওয়ার অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। উপজেলার গ্রোথ সেন্টার হিসাবে পরিচিত শিয়েরবরের হাট রক্ষার জন্য নদীতে বালুর বস্তা (জিও ব্যাগ) ফেলে ভাঙন প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেয়া হলেও সম্প্রতি নদী ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করায় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে ঐতিহ্যবাহী হাটটি।

যেকোনো সময় হাটের একটি বড় অংশ নদীতে বিলীন হয়ে যেতে পারে। একই রকম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে নওখোলার আল-হেরা দাখিল মাদ্রাসা, চাকশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও রামচন্দ্রপুর গ্রামের একটি মসজিদসহ শতাধিক বাড়িঘর ও ফসলি জমি।

গোলজার মোল্লার বাড়ি নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার জয়পুর ইউনিয়নের আস্তাইল-আমডাঙ্গা গ্রামে। শুধু গোলজার মোল্লাই নন। চলতি বর্ষায় মধুমতী নদীতে বিলীন হয়েছে ওই এলাকার তিন গ্রামের অন্তত ৮৫টি পরিবারের বসতভিটা। ভাঙনের মুখে রয়েছে অন্তত দুই'শ পরিবার। একের পর এক নদীতে যাচ্ছে ফসলি জমি, গাছপালা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পাকা সড়ক, মসজিদসহ নানা সামাজিক স্থাপনা। এ পরিস্থিতিতে নিঃস্ব হচ্ছে মানুষ। বিলীন হচ্ছে জনপদ।

ওই এলাকার কয়েকজন প্রবীণ ব্যক্তি আরটিভি নিউজকে জানিয়েছেন, এক সময়ে ঐতিহ্যবাহী জনপদ ছিল আমডাঙ্গা, আস্তাইল ও চরআড়িয়ারা গ্রাম। গত তিন দশকে ওই তিন গ্রামের ৯৫ ভাগ পরিবার ভাঙনের শিকার হয়েছে। এর অধিকাংশ পরিবার কয়েকবার ভাঙনের কবলে পড়েছে। অনেকেই এলাকা ছেড়ে অন্য এলাকায় বসতি করেছেন। অসচ্ছলতার কারণে যারা শহরে বা অন্যত্র যেতে পারেননি, তারা একবার এ পাড়ে। আরেকবার অন্যপাড়ে বসতি গড়ছেন। কিন্তু এ ভাঙন প্রতিরোধে নেওয়া হয়নি কার্যকরী পদক্ষেপ।

শালনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান খান তসরুল ইসলাম আরটিভি নিউজকে জানিয়েছেন, গত কয়েক বছর যাবৎ মধুমতি নদী ভাঙনের ফলে ইউনিয়নের কাতলাশুর, চরগোপালপুর, চাকশী, চরখড়কদিয়া, চরশালনগর, চরমাকড়াইল গ্রামের বেশির ভাগ মানুষের জমিজমা নদীর ওপার চলে যাওয়ায় তারা সেখানে ঘরবাড়ি বানিয়ে বসবাস করছে।

অন্য ইউনিয়নে বসবাস করায় তারা সেখানকার ভোটার হয়ে গেছে। এভাবে ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম নদী ভাঙনের ফলে ইউনিয়নের পুরানো মানচিত্র পাল্টে গেছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) নড়াইলের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী স্বপন কুমার ঘোষ আরটিভি নিউজকে বলেন, ওই অংশে বড় এলাকা ভাঙনের শিকার। এবার বস্তা ফেলার জন্য প্রকল্প পাঠানো হয়েছিল। এখনো তার বরাদ্দ হয়নি। ভাঙনরোধে এখানে স্থায়ী ব্যবস্থা দরকার। এ জন্য ডিপিপি তৈরি করে পাঠানো হয়েছে।

এমআই

মন্তব্য করুন

RTV Drama
RTVPLUS