Mir cement
logo
  • ঢাকা শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৩ আশ্বিন ১৪২৮

মৃতের স্বাক্ষর নকল করে অর্থ হাতিয়েছে প্রধান শিক্ষক

মৃতের স্বাক্ষর নকল করে অর্থ হাতিয়েছে প্রধান শিক্ষক
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার ভুড়ভুড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার ভুড়ভুড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মৃত গাজী নওশাদ আলীর স্বাক্ষর জাল করে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষক মো: মাহমুদ রিয়াদ হাসান মামুনের বিরুদ্ধে। তিনি কাজ না করেই স্লিপসহ বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

তথ্যসূত্রে জানা গেছে, ভুড়ভুড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি গাজী নওশাদ আলী ২০১৯ সালের প্রথম দিকেই মারা যান।

মাহমুদ রিয়াদ হাসান সুকৌশলে নানা অজুহাতে কমিটি গঠন না করে ৩ বছরের স্লিপসহ বিভিন্ন স্কুল উন্নয়নের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ প্রায় ৬ লাখ ৭০ হাজার টাকার কাজ না করেই হাতিয়ে নেয় বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।

পরে স্থানীয়দের রোষানলে পড়ে চলতি বছরের মাঝামাঝিতে কমিটি গঠন করতে বাধ্য হয়।

শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, ভুড়ভুড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে স্লিপের ৭০ হাজার, প্রাক প্রাথমিক ৫ হাজার ও জরুরি মেরামতের জন্য ১ লাখ ৫৯ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।

২০১৯-২০২০ অর্থবছরে স্লিপে ৭০ হাজার, দুর্যোগ ৫ হাজার, প্রাক প্রাথমিক ১০ হাজার, রুটিন মেনটেইন ৪০ হাজার ও মেরামত ২ লাখ টাকা বরাদ্দ হয়।

২০২০-২০২১ অর্থ বছরে স্লিপে ৭০ হাজার ও রুটিন মেইনটেইন ৪০ হাজার টাকা বরাদ্দ হয়। এসব প্রকল্পের অর্থ মৃত সভাপতির স্বাক্ষর জাল করে উত্তোলন করা হয়েছে। সেই সাথে নামে মাত্র কাজ করে পুরো টাকাই প্রধান শিক্ষক আত্মসাৎ করেছে বলে অভিযোগ করেন অভিভাবকরা। শতভাগ উপবৃত্তিপ্রাপ্ত স্কুলটির শিক্ষার্থীদের অধিক দেখিয়ে রিটার্ন ফরমে উল্লেখ করেন বলেও অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে।

স্বাক্ষর জালের বিষয়ে ভুড়ভুড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহমুদ রিয়াদ হাসান মামুন আরটিভি নিউজকে বলেন, কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেই সবকিছুই করা হয়েছে। কোনো অনিয়ম করা হয়নি। কোনো অর্থ নয়ছয় করা হয়নি।

৩ বছরের বরাদ্দকৃত অর্থ দিয়ে কি কি কাজ করেছেন এমন প্রশ্নের উত্তর তার কাছে জানতে চাইলে তিনি অনেকটাই এড়িয়ে যান।

ভুড়ভুড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নব গঠিত কমিটির সভাপতি নুরুল ইসলাম আরটিভি নিউজকে বলেন, বরাদ্দকৃত অর্থ সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না।

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আপেল মাহমুদ আরটিভি নিউজকে বলেন, ঐ স্কুলের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে কিছু অনিয়মের অভিযোগ শুনেছি। তদন্ত সাপেক্ষে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে আইনানুসারে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনোয়ার পারভেজ আরটিভি নিউজকে বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ খবর নিয়ে অবশ্যই তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এমআই

মন্তব্য করুন

RTV Drama
RTVPLUS