Mir cement
logo
  • ঢাকা রোববার, ১৭ অক্টোবর ২০২১, ২ কার্তিক ১৪২৮

বাবুনগর গ্রামে জন্মে যেভাবে হলেন ‘জুনায়েদ বাবুনগরী’

বাবুনগর গ্রামে জন্মে যেভাবে হলেন ‘জুনায়েদ বাবুনগরী’
জুনায়েদ বাবুনগরী

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার বাবুনগর গ্রামে ১৯৫৩ সালের ৮ অক্টোবর জন্মগ্রহণ করেন মুহাম্মদ জুনায়েদ। সবার কাছে যিনি জুনায়েদ বাবুনগরী নামে পরিচিত।

জানা গেছে, বাবুনগরীর বাবার নাম আবুল হাসান ও মা ফাতেমা খাতুন। হারুন বাবুনগরী তার নানা। মায়ের দিক দিয়ে তার বংশধারা ইসলামের প্রথম খলিফা আবু বকরের সঙ্গে মিলিত হয়। মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী তার মামা।

প্রায় ৫ বছর বয়সে নিজ গ্রামের আল জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগরে ভর্তি হন জুনায়েদ বাবুনগরী। সেখানে তিনি মক্তব, হেফজ ও প্রাথমিক শিক্ষা নেন। এরপর ভর্তি হন হাটহাজারীর আল জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মুঈনুল ইসলামে। ১৯৭৬ সালে সেখান থেকে দাওরায়ে হাদিস (মাস্টার্স) পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করেন।

তারপর উচ্চ শিক্ষার জন্য চলে যান পাকিস্তানে। ভর্তি হন করাচির জামিয়া উলুমুল ইসলামিয়ার তাখাচ্ছুছাত ফিল উলুমুল হাদিস তথা উচ্চতর হাদিস গবেষণা বিভাগে। ওই মাদরাসায় ২ বছর হাদিস গবেষণা শেষে তিনি আরবি ভাষায় ‘সীরাতুল ইমামিদ দারিমী ওয়াত তারিখ বি শায়খিহী’ (ইমাম দারিমী ও তার শিক্ষকগণের জীবন বৃত্তান্ত) শীর্ষক অভিসন্দর্ভ জমা দেন। অভিসন্দর্ভ জমা দেয়ার পরই জামিয়া উলুমুল ইসলামিয়া থেকে হাদিসের সর্বোচ্চ সনদ লাভ করেন।

এদিকে ১৯৭৮ সালের শেষের দিকে দেশে প্রত্যাবর্তন করে নিজ এলাকার বাবুনগর মাদরাসায় শিক্ষক হিসেবে যোগদানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় জুনায়েদ বাবুনগরীর কর্মজীবন। সেই মাদরাসায় তিনিই সর্বপ্রথম উচ্চতর হাদিস গবেষণা বিভাগ চালু করেন। পরে ২০০৩ সালে যোগ দেন হাটহাজারী মাদরাসায়। পরবর্তী সময়ে তিনি মাদরাসাটির সহকারী পরিচালক পদে নিযুক্ত হন।

এছাড়া ২০১০ সালে জুনায়েদ বাবুনগরীকে মহাসচিব করে প্রতিষ্ঠিত হয় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। ২০২০ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর সংগঠনটির আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফির মৃত্যুর পর একই বছরের ১৫ নভেম্বর সংগঠনের কেন্দ্রীয় সম্মেলনের মাধ্যমে সর্বসম্মতিক্রমে আমির নির্বাচিত হন বাবুনগরী। পরে কমিটি বিলুপ্তির পরও আহ্ববায়ক কমিটিতে তাকে আমির নির্বাচিত করা হয়।

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির ছাড়াও জুনায়েদ বাবুনগরী দারুল উলুম হাটহাজারী মাদরাসার শিক্ষা সচিব ও শায়খুল হাদিস, বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের সহ-সভাপতি, চট্টগ্রাম নুরানী তালীমুল কুরআন বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং মাসিক মুঈনুল ইসলামের প্রধান সম্পাদক ছিলেন।

উল্লেখ্য, ৬৭ বছর বয়সী বাবুনগরী দীর্ঘদিন ধরে কিডনি, হৃদরোগ ও ডায়াবেটিসসহ বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন। বুধবার (১৮ আগস্ট) সন্ধ্যার পর থেকে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকে। পরে বৃহস্পতিবার (১৯ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুকালে ৫ মেয়ে ও ১ ছেলে সন্তানসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন তিনি।

জিএম

মন্তব্য করুন

RTV Drama
RTVPLUS