Mir cement
logo
  • ঢাকা বুধবার, ০৪ আগস্ট ২০২১, ২০ শ্রাবণ ১৪২৮

অক্সিজেনের অভাবে রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ

অক্সিজেনের অভাবে রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ
রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ

অক্সিজেনের অভাবে রোগী মৃত্যুর অভিযোগে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে ভাঙচুর চালিয়েছেন স্বজনরা।

শনিবার (১৭ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে করোনা ইউনিটের তৃতীয় তলার আইসিইউতে এ ঘটনা ঘটে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া ওই রোগীর নাম মো. মনিরুজ্জামান মনির (৪০)। তিনি পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলার ধানখালী এলাকার গোলাম কবির তালুকদারের ছেলে ।

এ ঘটনায় ওই রোগীর ৪ স্বজনকে আটক করে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ। তবে পরবর্তীতে ক্ষমা চেয়ে মুচলেকা দেয়ায় তাদের ছেড়ে দেয়া হয় বলে জানান কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল ইসলাম।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ জুলাই রাতে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার ধানখালী এলাকার বাসিন্দা মনিরুজ্জামান (৪০) করোনা উপসর্গ নিয়ে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ভর্তি হন। তার অক্সিজেন স্যাচুরেশন স্বাভাবিকের চেয়ে নিচে ছিল। বৃহস্পতিবার (১৫ জুলাই) অবস্থার আরও অবনতি হলে মনিরুজ্জামানকে করোনা ওয়ার্ডের আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার (১৭ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তার মৃত্যু হয়। এতে রোগীর তিন-চারজন স্বজন ক্ষিপ্ত হয়ে আইসিইউর ভেন্টিলেটর ও হাইফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা মেশিনের ওপর হামলা হাত দিয়ে আঘাত করেন। এতে হাইফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা মেশিনটি ঠিক থাকলেও ভেল্টিলেটরটি বন্ধ হয়ে যায়।

রোগীর ভাই হাফিজুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, চিকিৎসক ও নার্সরা ঠিকভাবে রোগীর চিকিৎসা দিচ্ছিলেন না। যেকোনো পরামর্শের জন্য গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে। আমার ভাইয়ের অবস্থা খারাপ হওয়ার পর ডাক্তার ও নার্সদের বারবার জানানো হলেও তারা গুরুত্কব দেয়নি। এমনকি আইসিইউতে নিয়ে আসার পর থেকেও তার চিকিৎসা তেমন করেননি। আমরা ৩টার দিকে বারবার কথা বলার চেষ্টা করেছি ডাক্তারের সঙ্গে, কিন্তু ডাক্তার পাইনি। এছাড়া ভেল্টিলেটর ও হাইফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা ঠিকভাবে কাজ করছিল না। মূলত আমার ভাই অক্সিজেনের অভাবে মারা গেছে।

শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. সাইফুল ইসলাম বলেন, করোনা ইউনিটের আইসিইউতে মারা যাওয়া এক রোগীর স্বজনরা উত্তেজিত হয়ে একটি হাই ফ্লো ন্যাজল ক্যানোলা ভাঙচুর চালালে সেটির ত্রুটি দেখা দিয়েছে। টেকনিশিয়ান দিয়ে সেটি ঠিক করার চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় রোগীর স্বজনরা তাদের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছেন। এছাড়া তারা তাদের স্বজন হারিয়েছেন। মানবিক দিক বিবেচনা করে বিষয়টি সমাধান করা হয়েছে।

কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল ইসলাম জানান, করোনা ইউনিটে হামলার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ৪ জনকে প্রাথমিকভাবে আটক করে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। তবে স্বজনরা নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে মুচলেকা দিলে মানবিক বিবেচনায় তাদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

জিএম

মন্তব্য করুন

RTV Drama
RTVPLUS