Mir cement
logo
  • ঢাকা শুক্রবার, ৩০ জুলাই ২০২১, ১৫ শ্রাবণ ১৪২৮

শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

  ১৭ জুলাই ২০২১, ১৫:০৪
আপডেট : ১৭ জুলাই ২০২১, ১৫:১১

লঞ্চে গাদাগাদি, ফেরিতে দুর্ভোগ

লঞ্চে গাদাগাদি, ফেরিতে দুর্ভোগ
লঞ্চে গাদাগাদি, ফেরিতে দুর্ভোগ

চলতি বছরের ঈদুল আজহাকে ঘিরে রাজধানী ছাড়ছে দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ। এ কারণে মাদারীপুরের বাংলাবাজার ও মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়া নৌপথে রয়েছে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়। শনিবার (১৭ জুলাই) সকাল থেকে এই নৌপথে চলাচলরত প্রতিটি লঞ্চ শিমুলিয়া থেকে যাত্রীবোঝাই করে বাংলাবাজার লঞ্চ ঘাটে আসছে যাত্রীরা। এসব লঞ্চে স্বাস্থ্যবিধি মানার কোনো প্রবণতা নেই। ফলে করোনা সংক্রমণ আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

শনিবার (১৭ জুলাই) সকাল ১০টায় বাংলাবাজার লঞ্চঘাটে গিয়ে দেখা যায়, শিমুলিয়া লঞ্চঘাট থেকে আসা ছোট ছোট লঞ্চগুলো থেকে বাংলাবাজার লঞ্চঘাটে নামছে যাত্রীরা। যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়। লঞ্চে যাত্রী বেশি বহন করায় যাত্রীরা ঘাটে আসা মাত্রই নামার জন্য হুড়হুড়ি শুরু করে দেয়। লঞ্চঘাটে কয়েকজন আনসার সদস্য ছাড়া নেই পুলিশ কিংবা বিআইডব্লিউটিএ সদস্যরা। ফলে লঞ্চ চলাচলে কোনো প্রকার নিয়ম মানা হচ্ছে না।

লঞ্চের যাত্রীদের মধ্যে কোন প্রকার স্বাস্থ্যবিধি মানার প্রবণতা নেই। যাত্রীরা বাংলাবাজার লঞ্চঘাটে নেমে কিছুটা পথ হেঁটে গণপরিবহনে ছুঁটছে গন্তব্যে।

ঢাকা থেকে বরিশালগামী যাত্রী খলিলুর রহমান আরটিভি নিউজকে বলেন, ঘাটে আসার পরে শুনি ফেরিতে পদ্মা পার হতে নাকি ২ থেকে ৩ ঘন্টা চলে যায়। তাই ঝুঁকি নিয়ে লঞ্চে উঠেছি। লঞ্চে ৩৫ টাকার ভাড়া নিল ৫৫ টাকা। অথচ লঞ্চে বসার সিটই পেলাম না। পুরো এক ঘন্টা দাঁড়িয়ে ভিড় ঠেলে বাংলাবাজার ঘাট এসে নামলাম। তাহলে স্বাস্থ্যবিধি অযুহাতে আমাদের থেকে বেশি ভাড়া নিল কেন?

খুলনাগামী আরেক যাত্রী ইমরান খান আরটিভি নিউজকে বলেন, আমরা তো মুখে মাস্ক ব্যবহার করেছি। কিন্তু লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী তুললে বাধ্য হয়েই আমাদের অন্য যাত্রীর গা ঘেঁষে দাঁড়াতে হয়। লঞ্চে স্বাস্থ্যবিধি মেনে যাত্রী পরিবহন করলে এমন পরিস্থিতি হতো না।

মাদারীপুরগামী যাত্রী সাব্বির আহমেদ আরটিভি নিউজকে বলেন, লঞ্চঘাটে যাত্রী আসা মাত্রই তাদের তোলা হচ্ছে। পুরো লঞ্চ ভরে যাওয়ার পরে ছাড়া হচ্ছে। লঞ্চ কর্তৃপক্ষ চাইলে অর্ধেক আসন ফাঁকা রেখে ছাড়তে পারে। কিন্তু এসব বিষয় নিয়ে কেউ কোনো কথা বলছে না।

বিআইডব্লিউটিসি বাংলাবাজার লঞ্চঘাটের ট্রাফিক পরিদর্শক আক্তার হোসেন আরটিভি নিউজকে বলেন, আমাদের এপার (বাংলাবাজার) থেকে যাত্রী ঢাকামুখী হচ্ছে। সামনে ঈদ থাকায় বেশি যাত্রী আসতেছে ঢাকা থেকে। আমাদের এই নৌপথে ৮৭টি লঞ্চ সচল আছে। লঞ্চগুলোয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে যাত্রী বহন করতে বলা হয়েছে। আমাদের নির্দেশনা না মানলে আমরা ওই লঞ্চগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি।

এদিকে পদ্মায় তীব্র স্রোত থাকায় গত তিন দিন ধরে ব্যাহত হচ্ছে ফেরি চলাচল। ফলে বাংলাবাজার-শিমুলিয়া ফেরিঘাটে আটকা পড়েছে কয়েশ যানবাহন। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন ঢাকাগামী গরুবোঝাই ট্রাকের চালক ও গরুর ব্যবসায়ীরা।

এ সম্পর্কে বিআইডব্লিউটিসি বাংলাবাজার ফেরিঘাটের ব্যবস্থাপক (বানিজ্য) সালাউদ্দিন আহমেদ আরটিভি নিউজকে বলেন, বর্ষা মৌসুমে স্রোত থাকবেই। প্রতি বছরই এই সময়টা আমাদের খুব খারাপ যায়। স্রোত বেশি থাকায় ফেরি পারাপারে দ্বিগুনেরও বেশি সময় লাগছে। এরপরেও আমাদের চলাচলরত ১৩টি ফেরিতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গরুবোঝাই ট্রাক, অ্যাম্বুলেন্স, লাশবাহী গাড়ি ও কাচামালের ট্রাকগুলো পারাপার করছি। তবুও ঘাটে যানবাহনের চাপ কমছে না।

এমআই

মন্তব্য করুন

RTV Drama
RTVPLUS