Mir cement
logo
  • ঢাকা শনিবার, ৩১ জুলাই ২০২১, ১৬ শ্রাবণ ১৪২৮

ভাসানচরে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ডায়রিয়ার প্রকোপ, মৃ'ত্যু ৪  

ভাসানচরে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ডায়রিয়ার প্রকোপ, মৃত্যু ৪
ক্যাম্পে ডায়রিয়ার প্রকোপ

ভাসানচর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ডায়রিয়ার প্রকোপ দেখা দিয়েছে। গত ১২ দিনে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে এক হাজার ৫শত নারী, পুরুষ ও শিশু। এর মধ্যে মুমূর্ষু অবস্থায় ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৬শ রোহিঙ্গা। এদের অনেকে সুস্থ হলেও মারা গেছে ৩ শিশুসহ ৪ জন। রোগী সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন ভাসানচরের ২০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের চিকিৎসক, সেবিকা ও কর্মচারীরা। নোয়াখালী হাতিয়ার ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের জন্য নির্মিত হাসপাতাল -১ সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া যায়।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ২০ শয্যার হাসপাতাল-১ এর ওয়ার্ড বয় ক্রিতম কান্তি রায় জানান, গরমের পরে হঠাৎ বৃষ্টির কারণে রোহিঙ্গা শিবিরে ডায়রিয়ার প্রকোপ দেখা দিয়েছে। ২০শয্যার হাসপাতালে প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০ জন রোগী ভর্তি থাকে। এ হাসপাতালের বহি:বিভাগে প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ জন রোগী ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা সেবা নিচ্ছে। দ্রুত রোগী বৃদ্ধি পাওয়ায় কলেরা স্যালাইন ও খাওয়ার স্যালাইনের কিছুটা সংকট দেখা দিয়েছে। রোগীর চাপ সামাল দিতে না পেরে ভাসানচর থেকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে রোগীদের স্থানান্তর করা হচ্ছে।

ভাসানচর ২০ শয্যা হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. তানভীর আনোয়ার জানান, ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় এখানে আলাদা কোন শয্যা আর ওয়ার্ড নেই। ২০ শয্যা হাসপাতালে অন্য রোগী ভর্তি না করে শুধু ডায়রিয়া রোগীদের ভর্তি করে চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে। ডায়রিয়া আক্রান্ত গত ১২দিনে ৩ জন শিশুসহ ৪ জন মারা গেছে। মৃতরা হচ্ছে ১০ ক্লাস্টারের বাসিন্দা মো সিরাজের মেয়ে জয়নব (১), ৫৬ নং ক্লাস্টারের বাসিন্দা জানে আলমের ছেলে জিসান (২) ও ৫৫ নং ক্লাস্টারের আবদুর রহিমের মেয়ে উম্মে হাবিবা (৩) মাস ও ৭নং ক্লাস্টারের ১০ নম্বর বাসার সাহেদ আমিন (৪০)।

হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার নাজিম উদ্দিন জানান, ২০২০ সালের ৪ ডিসেম্বর প্রথম দফায় ১ হাজার ৬শ ৪২ জন রোহিঙ্গাকে নোয়াখালীর ভাসানচরে স্থানান্তর করে। এরপর একে মোট ৬টি ধাপে ১৮ হাজার ৩৪৭জন রোহিঙ্গাকে ভাসানচর ক্যাম্পে রাখা হয়। এসকল রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর চিকিৎসা সেবা দেয়ার জন্য সরকার সেখানে ২০ শয্যার একটি হাসপাতাল চালু করছে। এর পাশাপাশি ২০টি কমিউটি ক্লিনিক চালু রয়েছে। এতে আন্ত: বহি: বিভাগের মাধ্যমে রোগীদের চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। চিকিৎসা সেবা দিতে ২ জন মেডিকেল অফিসার ও ২ জন উপ-সহকারী কমিউনিটি অফিসার, ২ জন স্টাফ নার্স ১জন মিডওয়াইফ, ২ জন ওয়ার্ড বয়, ২ জন পরিচ্ছন্নকর্মী নিয়োগ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি ৫টি এনজিও কর্মীরা কাজ করছেন। ভাসানচর থেকে সিরিয়াস কোন রোগী নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে রেফার করা হলে রোগী বহনের জন্য সার্বক্ষণিক ২টি এম্বুলেন্স হাতিয়ার জনতা বাজারে রাখা আছে।

নোয়াখালী সিভিল সার্জন ডা. মাসুম ইফতেখার বলেন, রোহিঙ্গাদের মাঝে ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্য সচেতনতার ও জ্ঞানের অভাব রয়েছে। এছাড়াও তারা সঠিক পদ্ধতিতে খাবার স্যালাইন তৈরি করতে না পারায় এবং খাওয়ার আগে ও মলত্যাগের পরে সাবান দিয়ে হাত পরিষ্কার না করা এবং তীব্র গরমের কারণে ভাসানচর ক্যাম্পে ডায়রিয়ার প্রকোপ দেখা দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, খাওয়ার স্যালাইন ও কলেরার স্যালাইন ও অন্যান্য ওষুধসহ স্বাস্থ্য বিভাগের লোকজন গত ৩ দিন যাবত ভাসানচর যাওয়ার জন্য হাতিয়ার জনতা ঘাটে গিয়ে ফিরে এসেছে। সাগরে লঘুচাপের কারণে মেঘনা নদী উত্তাল থাকায় ওষুধ নিয়ে ভাসানচর যেতে পারছে না। আবহাওয়া ভাল হলে পর্যাপ্ত পরিমাণ ওষুধ ভাসানচর হাসপাতালে পৌঁছে যাবে। সঠিক পদ্ধতিতে খাবার স্যালাইন তৈরি ও স্বাস্থ্য সচেতনতা জ্ঞান বৃদ্ধির জন্য ক্লাস্টার ভিত্তিক স্বাস্থ্য শিক্ষা ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া পানি বিশুদ্ধিকরণ ট্যাবলেট বিতরণ করা হচ্ছে। খুব শীঘ্রই ভাসানচরের ডায়রিয়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে।

জিএম

মন্তব্য করুন

RTV Drama
RTVPLUS