Mir cement
logo
  • ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭ জুলাই ২০২১, ১২ শ্রাবণ ১৪২৮

সিরাজগঞ্জে মোটাতাজা করা হচ্ছে দুই লক্ষাধিক ষাঁড়, অনলাইনে বিক্রির পরিকল্পনা

সিরাজগঞ্জে মোটাতাজা করা হচ্ছে দুই লক্ষাধিক ষাঁড়, অনলাইনে বিক্রির পরিকল্পনা

ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে গো-চারণ ভূমি হিসেবে খ্যাত সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে ব্যাপকভাবে চলছে দেশীয় পদ্ধতিতে ষাঁড় মোটাতাজাকরণ। অন্যান্য বছরের চেয়ে এ বছরে গো-খাদ্যের মূল্য বেশি হওয়ায় উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে অনেকটাই। স্বাস্থ্যবিধি রক্ষায় পশুর হাট স্থাপনে বিধিনিষেধ, উচ্চমূল্যের গো-খাদ্য খাইয়ে মোটাতাজা করা ষাঁড়ের ন্যায্য দাম পাওয়ার পথে গত বছরের মতো এবারও প্রতিবন্ধকতা হয়ে উঠবে কিনা তা নিয়ে শঙ্কিত খামারিরা। তবে সুষ্ঠু দাম নিশ্চিতে অ্যাপস তৈরির মাধ্যমে অনলাইনে বিক্রির উদ্যোগ গ্রহণের কথা জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

সরেজমিনে শাহজাদপুরের বিভিন্ন গো-খামার ঘুরে ও খামারিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ১৯৭৩ সালে সমবায় ভিত্তিক রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান মিল্কভিটার একটি দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাতকরণ কারাখানা সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর এখানে গড়ে ওঠে শত শত গরুর খামার। এ সকল গো-খামারে মোটাতাজা করা ষাঁড় প্রতিবছরেই দেশের কুরবানির পশুর চাহিদার অনেকটাই পূরণ করছে।

প্রতি বছরই ঈদুল আযহা সামনে রেখে শাহজাদপুর উপজেলায় ব্যাপক ভাবে ষাঁড় মোটাতাজাকরণ করা হয়। এ বছরেও উপজেলাটির বিভিন্ন স্থানে মোটাতাজা করা হচ্ছে প্রায় দুই লক্ষাধিক ষাঁড়। অন্য বছর নিয়মিত খামারিদের পাশাপাশি কিছু মৌসুমি খামারি মানব স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর অবৈধ স্টেরয়েড হরমোন ব্যাবহার করে দ্রুত গরু মোটাতাজা করত। কিন্তু এই কাজে জনসচেতনতা ও প্রাণী সম্পদ বিভাগের তৎপরতার কারণে চলতি বছরে এই প্রবণতা কমে এসেছে অনেকটাই। এ বছর প্রাকৃতিক উপায়ে ধানের খর, সবুজ ঘাস, বিভিন্ন প্রকারের ভুষি, খোল ও কিছু ভিটামিন খাইয়ে ষাঁড় মোটাতাজাকরণ করা হচ্ছে।

করোনাভাইরাস সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সরকার ঘোষিত লকডাউন বা বিধিনিষেধের অজুহাতে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার গো-খাদ্যের দাম বেড়েছে প্রতি বস্তায় তিন থেকে ৪শ’ টাকা। ফলে ষাঁড় মোটাতাজাকরণের ব্যায় বেড়েছে খামারিদের।

গত বছরে লকডাউনে পশুর হাট স্থাপনে নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হওয়ায় সুষ্ঠু দাম পাওয়া যায়নি বলে দাবি তাদের। এ বছরেও উচ্চমূল্যের গো-খাদ্য খাইয়ে মোটাতাজা করা ষাঁড় সঠিকমূল্যে বিক্রি করার পথে স্বাস্থ্যবিধি রক্ষায় পশুর হাট স্থাপনে বিধিনিষেধ বাধা হয়ে উঠবে কিনা এ নিয়ে শঙ্কিত গো-খামারিরা।

তবে গত বছরের অভিজ্ঞতায় এবার ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে মোটাতাজা করা ষাঁড় বিক্রির জন্য অ্যাপস এর মাধ্যমে অনলাইন বাজার তৈরি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। এছাড়া করোনা প্রাদুর্ভাব কিছুটা কমলেই উপজেলার প্রসিদ্ধ পশুর হাটগুলো জেলার অভ্যন্তরীণ ও বহিরাগত ক্রেতাদের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হবে।

উপজেলার পোতাজিয়া ইউনিয়নের রেশমবাড়ি এলাকার গো-খামারি রাব্বি প্রামানিক আরটিভি নিউজকে জানান, এ বছর ঈদুল আযহায় বিক্রির জন্য খামারে ৪৫টি ষাঁড় মোটাতাজা করা হয়েছে। দেশীয় পদ্ধতিতে শুধু সবুজ ঘাস, খড়, গমের ও কালাইয়ের ভুসি, খৈল এবং ফিড খাওয়ানো হচ্ছে। পাশাপাশি ষাঁড়ের হজমশক্তি বৃদ্ধি ও শারীরিক গঠনের জন্য জিংক খাওয়ানো হয়েছে। এছাড়া মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর কোনপ্রকার মেডিসিন ব্যাবহার করা হয়নি।

গাড়াদহ ইউনিয়নের মশিপুর গ্রামের গো-খামারি বুলবুলি খাতুন আরটিভি নিউজকে জানান, আমার খামারে ৩৪টি ষাঁড় মোটাতাজা করা হচ্ছে এবার। ছয় মাস আগে কেনা ষাঁড়গুলোকে আমি সন্তানের মতো দেখাশোনা করছি। আমার খামারের বেশকিছু উন্নতমানের ষাঁড় রয়েছে, যেগুলোর দাম তিন লাখ টাকা পার হবে বলে আশা করছি।

একই গ্রামের আরেক খামারি শাহান উদ্দিন জানান, লকডাউনের অজুহাতে গো-খাদ্যের দাম বাড়ানো হয়েছে প্রতি বস্তায় তিন থেকে ৪শ’ টাকা। এতে আমাদের ষাঁড় মোটাতাজা করার ব্যায় বেড়ে গেছে অনেক। গত বছরের মতো এ বছরেও যদি পশুর হাটে ক্রেতা বা পাইকার আসা-যাওয়ায় কড়াকড়ি আরোপ করা হয় তাহলে ভালো দাম পাওয়া যাবে না। তাতে আমাদের লোকসান হবে।

গো-খামারি ও শাহজাদপুরের কৈজুরি ইউপি চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলাম আরটিভি নিউজকে জানান, এবার আমার খামারে একশো ষাঁড় মোটাতাজা করা হচ্ছে। বর্তমান পশুর যে দাম আর আমাদের যে উৎপাদন ব্যায় তাতে লোকসানের আশঙ্কা রয়েছে।

শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ মো. শামসুজ্জোহা আরটিভি নিউজকে জানান, গো-খামার সমৃদ্ধ শাহজাদপুরে ব্যাপকহারে ষাঁড় মোটাতাজা করা হয়েছে। এই ষাঁড়গুলো বিক্রির সুবিধার্থে অ্যাপস তৈরি করা হয়েছে। এই অ্যাপস ব্যাবহার করে অনলাইনে কুরবানির পশু ক্রয়-বিক্রয় করা যাবে। এছাড়া করোনা সংক্রমণ কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলে উপজেলার প্রসিদ্ধ পশুর হাটগুলো বাইরের পাইকার ও ক্রেতা-বিক্রেতাদের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হবে।

এসএস

মন্তব্য করুন

RTV Drama
RTVPLUS