Mir cement
logo
  • ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ জুন ২০২১, ৩ আষাঢ় ১৪২৮

একদিনেই ব'জ্রপাতে প্রা'ণ গেল ১৭ জনের

বজ্রপাতে প্রাণ গেল ১৭ জনের
ফাইল ছবি

ছয় জেলায় বজ্রপাতে মোট ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (১৮ মে) দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত এসব ঘটনা ঘটে।

নিহতদের মধ্যে নেত্রকোনার আটজন, ফরিদপুরে চারজন, মানিকগঞ্জে দুইজন, কিশোরগঞ্জের একজন, সুনামগঞ্জের একজন ও ময়মনসিংহের একজন রয়েছেন।

আরটিভি নিউজের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

নেত্রকোনা

নেত্রকোনার বিভিন্ন এলাকায় বজ্রপাতে আটজনের মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৮ মে) বেলা আড়াইটা থেকে সাড়ে ৩টার মধ্যে এসব ঘটনা ঘটে। নিহতের মধ্যে দুজন জেলার কেন্দুয়া উপজেলার, তিনজন খালিয়াজুরী উপজেলার এবং দুইজন মদন উপজেলার এবং একজন পূর্বধলা উপজেলার বাসিন্দা।

নেত্রকোনার পুলিশ সুপার মো. আকবর আলী মুন্সি বজ্রপাতে আটজনের নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নিহতরা হলেন- কেন্দুয়া উপজেলার পাইকুড়া ইউনিয়নের বৈরাটী গ্রামের মো. বায়েজিদ মিয়া (৪২) ও কান্দিউড়া ইউনিয়নের কুণ্ডলী গ্রামের মো. ফজলুর রহমান (৫৫), খালিয়াজুরী উপজেলার মেন্দিপুর ইউনিয়নের জগন্নাথপুর গ্রামের খেলু ফকিরের ছেলে কৃষক অছেক মিয়া (৩২) একই গ্রামের আমির সরকারের ছেলে কৃষক বিপুল মিয়া (২৮), বাতুয়াইল গ্রামের মঞ্জুরুল হকের ছেলে মনির হোসেন, মদন উপজেলার পশ্চিম ফতেপুর গ্রামের মৃত আব্দুল কাদেরের ছেলে হাফেজ মো. শরীফ ( ১৮) ও একই গ্রামের মৃত আব্দুল মন্নাফের ছেলে মাওলানা আতাবুর রহমান (১৯)।

ফরিদপুর

ফরিদপুরে বজ্রপাতে নারীসহ চারজনজন নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার বিকেল ৪টা ও সাড়ে ৪টার দিকে ফরিদপুর পৌরসভার পশ্চিম গঙ্গাবর্দী, পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডের মোল্লা ডাঙ্গী মহল্লায়, সদর উপজেলার নর্থচ্যানেল ও মধুখালী উপজেলার চাদপুরে এ ঘটনা ঘটে।

বিকেল সাড়ে চারটার দিকে ফরিদপুর পৌরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডের মোল্লাডাঙ্গী মহল্লায় বজ্রপাতে নিহত হন আনোয়ারা বেগম (৪৫) নামে এক নারী। ঘটনার সময় ওই নারী স্বামী ও ছেলের সাথে মাঠ থেকে ধান নিয়ে বাড়িতে ফিরছিলেন। এ সময় বজ্রপাতের এ ঘটনায় তিনি ঘটনাস্থলেই নিহত হন।

আনোয়ারা বেগম মোল্লা ডাঙ্গী গ্রামের বাসিন্দা কৃষক কাবুল শেখের স্ত্রী। তিনি এক মেয়ে ও দুই ছেলের মা।

বিকেল চারটার দিকে বজ্রপাতে মারা গেছেন কৃষক কবির মোল্লা (৪৮)। তিনি ফরিদপুর পৌরসভার পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম গঙ্গাবর্দী মহল্লার গোপাল মোল্লার ছেলে। ধান নিয়ে মাঠ থেকে বাড়ি ফেরার পথে এ বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। কবির মোল্লা বিবাহিত, তিনি দুই মেয়ে, এক ছেলের বাবা।

বিকেলে বজ্রপাতে সদর উপজেলার নথ চ্যানেল ইউনিয়নে মারা যান দুলাল খান (৫৮) নামের এক কৃষক।

এদিকে, মধুখালী উপজেলার চাদপুরে কবির শেখ (৪০) নামের এক কৃষক মারা যান। তিনি মাঠে পাট খেত পরিচর্যার সময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই নিহত হয়।

মানিকগঞ্জ

মানিকগঞ্জে বজ্রপাতে দুইজন মারা গেছেন। আজ (মঙ্গলবার) বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার এলাকার পৌলি ও গিলন্ড গ্রামে আলাদা বজ্রপাতের ঘটনায় তারা মারা যান।

পৌলি এলাকায় নিহত ব্যক্তির নাম আমহদ আলী (৫০)। তার বাড়ি জেলার ঘিওর উপজেলায় এবং গিলন্ড গ্রামে নিহত ব্যক্তির নাম আসিফ (১৬)।

পৌরসভার স্থানীয় ৭নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. কবীর হোসেন বলেন, নিহত আমহদ আলী পৌলি এলাকার কৃষক আব্দুল হকের বাড়িতে দিনমজুর হিসেবে কাজ করছিলেন। আজ বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে ধান ক্ষেত থেকে ধানের বোঝা মাথায় নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে বজ্রপাতে আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান দিনমজুর আজমত আলী। বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে, গিলন্ড গ্রামের আসিফ ঘুড়ি উড়াতে গিয়ে বজ্রপাতে মারা গেছেন।

কিশোরগঞ্জ

কিশোরগঞ্জের নিকলীতে বজ্রপাতে মো. আরিফুল ইসলাম (১৭) নামে এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (১৮ মে) দুপুরে উপজেলার গুরুই ইউনিয়নের বেয়াতিরচর হাওরে এ ঘটনা ঘটে।

গুরুই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আবু তাহের ও নিকলী থানার ওসি শামছুল আলম সিদ্দিকী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে আরিফুল ইসলাম গুরুই ইউনিয়নের বিয়াতিরচর হাওর থেকে গরু আনতে যায়। এ সময় ঝড়-বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাত হলে আরিফুল গুরুতর আহত হয়। স্থানীয়রা আরিফুলকে উদ্ধার করে নিকলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

সুনামগঞ্জ

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে বজ্রপাতে আবু তাহের (৩৫) নামের এক জেলে নিহত হয়েছেন। নিহত আবু তাহের উপজেলার সদর ইউনিয়নের তেগাঙ্গা গ্রামের তাজ উদ্দিনের ছেলে।

মঙ্গলবার (১৮ মে) বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে তেগাঙ্গা গ্রামের কাছের বন্দেহরি বিলের দক্ষিণ পাশে এই ঘটনা ঘটে। নিহত জেলে আবু তাহেরের তিনটি মেয়ে শিশু রয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, নিহত জেলে আবু তাহের বিল থেকে মাছের পোনা ধরে বিক্রির জন্য উপজেলা সদরের বাজারে যাচ্ছিলেন। এসময় বৃষ্টি ও বজ্রপাত শুরু হলে তেগাঙ্গা গ্রামের কাছের বন্দেহরি বিলের দক্ষিণ পাড়ে আবু তাহের বজ্রপাতের শিকার হন। এতে তার বুকসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ ঝলসে যায়। খবর পেয়ে গ্রামের লোকজন তাকে উদ্ধার করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

দোয়ারা বাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজির আলম বলেন, বন্দেহরি বিলের দক্ষিণ পাশে বজ্রপাতে এক যুবক মারা গেছেন বলে খবর পেয়েছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।

ময়মনসিংহ

ময়মনসিংহের তারাকান্দায় ফুটবল খেলার সময় বজ্রপাতে আতিকুল ইসলাম (৩০) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় আহত হয়েছে আরও একজন।

নিহত আজিজুল উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের খলিশাজান গ্রামের আজমত আলীর ছেলে।

মঙ্গলবার (১৮ মে) দুপুর দুইটার দিকে উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের খলিশাজান গ্রামে খোলা মাঠে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানায়, দুপুরে বৃষ্টি ও বজ্রপাতের সময় কয়েকজন যুবক রাস্তার পাশে খোলা মাঠে ফুটবল খেলতে নামে। এ সময় হঠাৎ বজ্রপাতে আতিকুল ইসলামসহ দুই জন বজ্রপাতে আহত হয়। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়ার সময় আতিকুল মারা যায়। আহত অপরজন হাসপাতালে ভর্তি আছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে তারাকান্দা থানার ওসি আবুল খায়ের বলেন, ঘটনাটি খুব মর্মান্তিক।

এসএস

আরটিভি’র সর্বশেষ নিউজ পেতে ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন...

https://www.facebook.com/rtvnews247

RTV Drama
RTVPLUS