Mir cement
logo
  • ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ জুন ২০২১, ৩ আষাঢ় ১৪২৮

বাগেরহাট প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

  ১৪ মে ২০২১, ১৩:৩৭
আপডেট : ১৪ মে ২০২১, ১৪:৩২

লাইকিতে আপত্তিকর ছবি পোস্ট বউয়ের, অতঃপর

লাইকিতে আপত্তিকর ছবি পোস্ট বউয়ের, অতঃপর স্বামী
প্রতীকী ছবি

স্বামীর হাতে নিহত কলেজ ছাত্রী সোমা আক্তারের ঈদের জন্য কেনা নতুন জামা নিয়ে বিলাপ করছিল তার মা কোমেলা বেগম। শুক্রবার (১৪ মে) সকালে ঈদের নামাজের পর নিহত সোমা আক্তারের বাড়িতে গিয়ে এমন দৃশ্য দেখা যায়।

নিহতের মা কোমেলা বেগম ও বড় বোন নাজমা আক্তার ঘরের সিঁড়িতে বসে বিলাপ করছিল। তাদের বাড়িতে নেই ঈদের কোন আয়োজন।

কোমেলা বেগম কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, সোমা ওর স্বামী শান্তকে খুব ভাল ভালোবাসতো। নিজে দাঁত ব্রাশ করে দিত। শান্ত বেকার তারা আমার বাড়িতে ৬ মাসেরও বেশি সময় ধরে থেকেছে। আরও থাকতো, কোন অসুবিধা হলে আমার পাখিকে আমার কাছে রেখে যেত। ও কেন আমার পাখিরে মেরে ফেললো? ওর কি কোন দয়া হয়নি?

গত শনিবার (৮ মে) সন্ধ্যায় সন্ধ্যায় বাগেরহাট শহরে দশানী উত্তরপাড়া এলাকায় টিকটক ও লাইকি অ্যাপসে আপত্তিকর ছবি পোস্ট ও পরকীয়ার অভিযোগ তুলে সোমা আক্তারকে (১৯) শ্বাসরোধ করে হত্যা করে ঘাতক স্বামী আব্দুল্লাহ আল নাইম শান্ত (২৩) বাগেরহাট মডেল থানায় আত্মসমর্পণ করে।

নিহত সোমা আক্তার বাগেরহাট সদর উপজেলার সিংড়াই গ্রামের আব্দুল করিম বখসের মেয়ে। তিনি বাগেরহাট সরকারি পিসি কলেজে ইংরেজি বিভাগে স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ছাত্রী ছিল।

অভিযুক্ত স্বামী আব্দুল্লাহ আল নাইম শান্ত বাগেরহাট শহরের দশানী উত্তরপাড়া এলাকার গোলাম মোহাম্মাদের ছেলে। তিনি ঢাকায় একটি বাইয়িং হাউসে কাজ করত। প্রেমের সম্পর্কের মাধ্যমে ২০১৯ সালে নাইম ও সোমার বিয়ে হয়।

আব্দুল্লাহ আল নাইম শান্তর বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, লাইকি অ্যাপস ও বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ-মাধ্যমে সোমার অ্যাকাউন্ট ছিল। তিনি সেসব অ্যাকাউন্টে থেকে আপত্তিকর ছবি পোস্ট করে করতো। এসব নিয়ে স্বামী নাইমের সঙ্গে তার দ্বন্দ্বে সৃষ্টি হয়। শান্ত শনিবার ঢাকা থেকে ফিরে সোমাকে ফোন দিয়ে বিকেলে বাবার বাড়ি থেকে দশানীস্থ নাইমের বাড়িতে আসেন। পরে সন্ধ্যায় গলায় ফাঁস দিয়ে স্ত্রী সোমাকে খুন করে নাইম। নাইমের বাবা-মা ঢাকায় থাকায় বাড়িতে শুধু তারা দু’জনই ছিল।

এ বিষয়ে বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মীর শাফীন মাহমুদ জানান, অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ আল নাইম ওরফে শান্ত থানায় আত্মসমর্পণ করে। তিনি খুনের দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে। বর্তমানে কারাগারে রয়েছে।

জিএম

RTV Drama
RTVPLUS