Mir cement
logo
  • ঢাকা শনিবার, ০৮ মে ২০২১, ২৫ বৈশাখ ১৪২৮

চার ভাবির হোটেলে ছুটে আসছেন ভোজন রসিক মানুষ 

Food lovers are rushing to Char Bhabir Hotel
চার ভাবির হোটেলে ছুটে আসছেন ভোজন রসিক মানুষ 

ভোজন রশিকদের সাশ্রয়ী মূল্যে সুস্বাদু খাবার পরিবেশন করে সবার কাছে পরিচিত হয়ে উঠেছে বোচাগঞ্জ উপজেলার ৪ ভাবির হোটেল। ৪ হোটেলের চার জন নারী ব্যবসায়ী। পাশাপাশি ৪টি হোটেল থাকলেও কারোই যেন কমতি নেই ক্রেতার।

দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার ছাতইল ইউপির সীমান্তবর্তী পরমেশ্বরপুর গ্রামের রাণীর ঘাট মোড়ে তাদের হোটেল। এখানে ৪টি খাবার হোটেলসহ ১২টি ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

ঠাকুরগাঁওসহ বিভিন্ন উপজেলা থেকে মানুষ মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকারযোগে খাবার খেতে আসেন এখানকার হোটেলগুলোতে। এখানে দেশীয় হাঁসের মাংস বেশ সস্তায় পাওয়ার কারণে এখানকার জনপ্রিয়তা বেশ তুঙ্গে। খাবার খেতে আসা সবাই তাদের ভাবি বলে সম্বোধন করেন। এজন্যই রাণীর ঘাট মোড় হয়ে ধীরে ধীরে হয়ে ওঠে ‘ভাবির মোড়’।

জেলার বোঁচাগঞ্জ এবং বিরল উপজেলার শেষ অংশে টাঙ্গন নদীর পূব-দিকে ভাবির মোড়ের অবস্থান। পূর্ব-পশ্চিম রাস্তার দুই ধারে ২টি করে মোট ৪টি ভাতের হোটেল। রাস্তার উত্তর পাশের দুই ভাইয়ের স্ত্রী এবং দক্ষিণ পাশে দুই বোনের ভাতের হোটেল। হোটেলগুলোর নাম ভাবি হোটেল-১, ভাবি হোটেল-২, ভাবি হোটেল-৩ এবং বেলি ভাবির হোটেল।

বেলি ভাবির হোটেলের ভেতরে দেয়ালে বিভিন্ন ফুলের নকশাও আঁকা হয়েছে। প্রতিটি হোটেলের টেবিলে রাখা গামলা ভর্তি হাঁসের মাংস। নিরিবিলি পরিবেশে খেতে আসছেন বিভিন্ন এলাকার মানুষ। কেউবা পার্সেল করে নিয়ে যাচ্ছেন। খাবার পরিবেশন থেকে শুরু করে টাকা নেয়া পর্যন্ত প্রায় সব কাজই করছেন ভাবিরাই।

প্রতিটি খাবার হোটেলে গড়ে ১৫ থেকে ২০টি দেশি হাঁস রান্না করা হয়। হাঁসের মাংসের সাথে থাকে নদীর ছোট মাছের চটচটি ও শুকনো মরিচে করা মাছ ভর্তা, আলু ভর্তা, বেগুন ভর্তা ও শাকভাজি। ৫০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে বিক্রি হয় হাঁসের মাংসের প্রতি প্লেট। ভর্তা ১০ টাকা, শাক ১০ টাকা আর মাছ চটচটি ৩০ থেকে ৪০ টাকা এবং ভাত ১০ টাকা।

জীবন বদলে যাওয়া নিয়ে তাসলিমা আক্তার আরটিভি নিউজকে বলেন, প্রায় ৩০ বছর আগের শুষ্ক মৌসুমে নদী থেকে ট্রাকে করে বালু তোলা হত। তখন এলাকাটিতে (রাণীর ঘাট) কোনো বসতি ছিল না। সেই সময় নদী থেকে দিনে ৫০ থেকে ১০০টি পর্যন্ত ট্রাকে বালু তোলা হতো। বালু তোলার শ্রমিকদের জন্য তখন কাজের ফাঁকে একটু চা-নাস্তার ব্যবস্থা করা হয়। ওই ঘাটের পাশেই পাঁচতারা গ্রামের বাসিন্দা জালালউদ্দিন। বালু তোলা শ্রমিকদের অনুরোধে সেখানে ডাল-ভাত-ডিম দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। সেই থেকে ধীরে ধীরে রাণীর ঘাট নাম বদলে হয়েছে ভাবির মোড়।

তিনি আরও বলেন, হোটেল ব্যবসা করে তিন মেয়ের মধ্যে দুই মেয়ের বিয়ে দেয়া হয়েছে। দোকানের পাশে বাড়ি বানিয়েছি। হোটেল করেই সংসারে সচ্ছলতা আসছে।

বিক্রি নিয়ে হোটেল ব্যবসায়ী মাসতারা বেগম আরটিভি নিউজকে বলেন, শুরুর দিকে একজনের ব্যবসার উন্নতি দেখে ধীরে ধীরে আরও ৩ জন এখানে হাঁসের মাংস ও ভাত বিক্রি শুরু করি।

ক্রেতাদের নিয়ে হোটেল ব্যবসায়ী বেলি বেগম আরটিভি নিউজকে বলেন, সকাল থেকে শুরু করে অনেক রাত অবধি দোকান খোলা থাকে। তবে শুক্রবার বেশি ভিড় থাকে।

এ বিষয়ে ছাতইল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান হাবু আরটিভি নিউজকে বলেন, ভাবির হোটেলে হাঁসের মাংসের রান্নার কারণে এলাকাটির নাম ভাবির মোড় হিসেবে মুখে মুখে চারিদিক ছড়িয়ে পড়ে। এখন রাণীর ঘাট পরমেশ্বরপুর নাম বদলে ভাবির মোড় হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। যে কাউকে জিজ্ঞেস করলেই বলে দিতে পারে ভাবির মোড় যাওয়ার রাস্তা। এখানে ব্যবসা পরিচালনা করেন জালাল উদ্দিনের স্ত্রী তাসলিমা আক্তার (৪০), জামাল উদ্দিনের স্ত্রী মাসতারা বেগম (৪৫), হুচেন আলীর স্ত্রী বেলি আক্তার (৪০) ও নাজমুল হকের স্ত্রী মেরিনা পারভীন (৩৭)।

জিএম

RTV Drama
RTVPLUS