logo
  • ঢাকা সোমবার, ০৮ মার্চ ২০২১, ২৩ ফাল্গুন ১৪২৭

কুড়িগ্রামে অলাইন থেকে ৭৬ জনের জন্ম সনদের তথ্য গায়েব

কুড়িগ্রাম×নিবন্ধন×ইউনিয়ন×জন্ম×জেলা×রাজা×সুলতানা×পারভীন×
ছবি আরটিভি নিউজ

কুড়িগ্রামের বঙ্গসোনাহাট ইউনিয়ন পরিষদের অনলাইন থেকে ৭৬ জন নাগরিকের জন্ম সনদের তথ্য গায়েব হয়েছে।

বছর তিনেক আগে জন্ম সনদ তুললেও এখন আর সেই নিবন্ধন নম্বরে পাওয়া যাচ্ছে না তাদের হদিস। সেখানে নুতুন করে যুক্ত হয়েছে অন্য জেলা বা উপজেলার বাসিন্দাদের নাম। একই নিবন্ধন কোড এবং নিবন্ধন নম্বর দিয়ে ভিন্ন উপজেলা বা জেলার ব্যক্তিরা নিজেদের নামে ব্যবহার করছে সেইসব জন্ম নিবন্ধনপত্র। প্রয়োজনে পূর্বের নিবন্ধন নম্বর দিয়ে জন্ম সনদ তুলতে এসে নিজের নামের জায়গায় অন্যের নাম ঠিকানা দেখে অবাক বঙ্গসোনাহাট ইউনিয়নের ভুক্তভোগীরা। বিষয়টি কিভাবে ঘটলো জানে না চেয়ারম্যান সচিব। তবে একে অন্যের উপর দোষ চাপিয়ে দায় এড়ানোর চেষ্টা সবার। তবে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন।

কুড়িগ্রামের বঙ্গসোনাহাট ইউনিয়নের বাসিন্দা শংকর লাল রবিদাশ। বছর তিনেক আগে নেওয়া জন্ম নিবন্ধন সনদ হাড়িয়ে ফেলেছেন তিনি। এখন প্রয়োজনে আবার তুলতে যান তিনি। নিজের নিবন্ধন নম্বর দিয়ে অনলাইনে সার্চ দিয়ে অবাক হয়ে যান তিনি। তার নামের জায়গা দখল করে আছে জেলার রাজার হাট উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নের সুলতানা পারভীনের নাম। পরে দেখা যায় ৭৬ জন নাগরিকের নিবন্ধন নম্বরে তথ্য গায়েব হয়ে ভিন্ন জেলা এবং উপজেলার নাগরিকের নাম নিবন্ধিত হয়েছে। যা করা প্রায় অসম্ভব ব্যাপার। কারণ এক ইউনিয়নের কোড এবং পাসওয়ার্ড জানার কথা না কারও। রাজারহাট উপজেলার সুলতানা পারভীনের জন্মসনদে দেখা যায় বঙ্গসোনাহাট ইউনিয়নের কোড এবং নিবন্ধন নম্বর। শুধু সুলতানা নয় বেরিয়ে আসে আরও অনেকের তথ্য। সেগুলো আবার চেয়াম্যান সচিব স্বাক্ষর দিয়ে বিতরণও করেছে দুই তিন বছর আগে।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার বঙ্গসোনাহাট ইউনিয়ন পরিষদে ২০১৫ হতে ২০২০ সাল পর্যন্ত ৭৬ জন নাগরিকের জন্ম সনদের প্রকৃত তথ্য অনলাইন থেকে মুছে ফেলা হয়েছে। এসব নাগরিকদের নাম, ঠিকানাসহ সব তথ্যই অনলাইনে আর পাওয়া যাচ্ছে না। এসব নাগরিকদের আগে দেওয়া সনদের নিবন্ধন নম্বরে নতুন করে রাজারহাট উপজেলার ছিনাই, সদর উপজেলার কাঁঠালবাড়ি এবং লালমনিরহাট জেলার সদর উপজেলার নাগরিকদের তথ্য লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়নের আলাদা আলাদা ইউজার নম্বর এবং পাসওয়ার্ড থাকলেও শুধুমাত্র বঙ্গসোনাহাট ইউনিয়নের কোড নম্বরে ওই ৭৬টি জন্ম সনদের নিবন্ধন নম্বর ব্যবহার করে ভিন্ন জেলা, উপজেলার ইউনিয়নের বাসিন্দাদের সনদ প্রদান করা হয়েছে।

এসব নাগরিকগণ নিজেরাও জানে না ভূরুঙ্গামারীর বঙ্গসোনাহাট ইউনিয়নের কোড নম্বর এবং আগের নিবন্ধন নম্বরের তথ্য সরিয়ে তাদের নাম ঠিকানা ব্যবহার করে অনলাইনে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। ফলে বিষয়টি জানাজানি হওয়ায় শঙ্কিত হয়ে পড়ে এসব বাসিন্দারা। অনেকেই জন্ম সনদ উত্তোলন না করেও জন্ম সনদে নিজের তথ্য দেখে অবাক হচ্ছেন। দিনের পর দিন অনলাইনে এমন ঘটনা ঘটলেও খোঁজ রাখেনি কর্তৃপক্ষ।

ছিনাই ইউনিয়নের নাছিমা খাতুনের বাবা নওশাদ আলী বলেন, আমিতো আমার মেয়ের জন্ম নিবন্ধন সনদ ছিনাই ইউনিয়ন হতে তুলেছি। ছিনাই ইউনিয়নের নেয়া জন্ম নিবন্ধনে ২০১৯ সাল আর বঙ্গসোনাহাট ইউনিয়নের জন্ম নিবন্ধনে ২০১৭ সাল বাদে আমার মেয়ের নাম, জন্ম তারিখ, ঠিকানাসহ সব কিছুর মিল রয়েছে দুটি জন্ম নিবন্ধনে। কিভাবে এমনটি ঘটলো আমি জানি না। আমি বা আমার পরিবারের কেউ কখনো ভূরুঙ্গামারী যাইনি।

নাছিমা খাতুনের মা আলতা বেগম বলেন, মেয়ের বিয়ের সময় জন্ম নিবন্ধন ছিনাই ইউনিয়ন হতে তোলা হয়েছে। হামরা এই ইউনিয়নের বাসিন্দা। অথচ কেমন করে ভূংগামারীর ঠিকানা হামার ছিনাইর ঠিকানা গেইল হামরা তো সেটা জানি না।

একই অভিযোগ রাহেনা বেগমেরও। তিনি বলেন, আমার শিরিনা ও আনোয়ারুল দুই সন্তানের জন্ম নিবন্ধন সনদ নিছি ছিনাই থেকে। কেমতে সোনাহাটের ইউনিয়নের অনলাইনে গেছে সেটাতো হামরাগুলা জানি না। সেটা যামরাগুলা সনদ দিছে তামরায় কবার পাইবে।

ছিনাই ইউপি সচিব মকবুল হোসেন উপজেলা এবং ইউনিয়ন কোড ভিন্ন হলেও জন্ম সনদ ছিনাই ইউনিয়নের জন্ম সনদে নিজের এবং চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর দেখে তিনি নিজেই অবাক হন। কিভাবে কী হয়েছে সেটা তিনি জানেন না। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আনবেন বলে তিনি জানান।

বঙ্গসোনাহাটে ইউনিয়ন সচিব রফিকুল ইসলাম আরটিভি নিউজকে জানান, আমি ২০২০ সালের জুন মাসে বঙ্গসোনাহাটে ইউনিয়নে সচিব হিসেবে যোগ দেই। সেপ্টেম্বর মাসে ডিসি অফিস থেকে জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনের পাসওয়ার্ড পাই। কাজ করতে গিয়ে দেখি ৭৬ জনের জন্ম নিবন্ধন তথ্য ভুল। বিষয়টি ইউপি চেয়ারম্যানকে জানাই। চেয়ারম্যান উল্টো আমার কাছ থেকে পাসওয়ার্ড চায়। পাসওয়ার্ড না দেওয়ায় আমাকে হুমকি-ধামকি দেয় চেয়ারম্যান। বিষয়টি আমি প্রশাসনকে লিখিতভাবে জানিয়েছি।

বঙ্গসোনাহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহাজাহান আলী মোল্লা বলেন, ২০১৫-২০২০ সাল পর্যন্ত সাবেক এবং বর্তমান চেয়ারম্যানের আমলে জন্ম নিবন্ধন অনলাইনে এমন ঘটনা পূর্বের সচিব ববি পারভীন ঘটিয়েছে। এই বিষয়ে আমিও লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।

ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দীপক কুমার দেব শর্মা আরটিভি নিউজকে বলেন, সচিবের অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিষয়টি আমি জানতে পেরেছি। এ বিষয়ে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেবি

RTV Drama
RTVPLUS