logo
  • ঢাকা বুধবার, ০৩ মার্চ ২০২১, ১৮ ফাল্গুন ১৪২৭

স্নেহ ও ভালোবাসার টানে শিশুকে অপহরণ করেন বাবুর্চি!

স্নেহ ও ভালোবাসার টানে শিশুকে অপহরণ করেন বাবুর্চি!

মাদরাসার দশ বছরের এক শিশুকে ভালো লাগার জন্য অপহরণ করেন একই মাদরাসার বাবুর্চি। ঘটনাটি ঘটেছে চাঁদপুরে মতলব উত্তরের এক মাদরাসায়। ওই শিশুকে অপহরণের পেছনে অন্য কোনও উদ্দেশ্য ছিল না বলে জানিয়েছেন অপহরণকারী। কেবল মাত্র ভালো লেগেছে বলে স্নেহ ও ভালোবাসার টানে শিশুকে নিয়ে নিজ বাড়িতে চলে যান। তাদের দু’জনের নামেরও মিল ছিল।

শিশুর নাম সিফাত উল্লাহ এবং বাবুর্চির নাম কেফায়েত উল্লাহ। শিশুকে অপহরণের পাঁচ দিনের মধ্যে উদ্ধার করা হয়। অপহরণকারী ওই বাবুর্চিকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ২১ জানুয়ারি মাদরাসার বাবুর্চি কেফায়েত উল্লাহ শিক্ষার্থী সিফাত উল্লাহকে অপহরণ করে। সিফাত মতলব উত্তরের ষাটনল দারুল উলুম কাসেমিয়া ইসলামিয়া এতিমখানা ও মাদরাসার ছাত্র আর কেফায়েত ওই মাদরাসার বাবুর্চি। ঘটনার পর শিশুর পিতা আমির হোসেন মতলব উত্তর থানায় অপহরণ মামলা করেন। পরে থানার এসআই আব্দুল আউয়ালের নেতৃত্বে অভিযান শুরু করলে সোমবার (২৫ জানুয়ারি) কেফায়েতের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার বিজয়পুর থেকে উদ্ধার করা হয় শিশু শিক্ষার্থী সিফাত উল্লাহকে। এসময় কেফায়েতকে অপহরণের দায়ে গ্রেপ্তার করা হয়।

অপহরণের বিষয়ে মতলব উত্তর থানার ওসি নাসিরউদ্দিন মৃধা জানিয়েছেন, শিশুর বাবা অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সফল অভিযান চালায়।

শিশু ও অপহরণকারীকে মঙ্গলবার দুপুরে চাঁদপুরের আদালতে তোলা হয়। আদালতে কেফায়েত বিচারকের কাছে ঘটনার বর্ণনা দিয়ে অপহরণের কথা জানান। পরে আদালতের নির্দেশে ওই শিশুকে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয়া হয়। সেই সঙ্গে অপহরণকারী কেফায়েত উল্লাকে হাজতে পাঠানো হয়।

জানা যায়, কেফায়েত উল্লাহ পরপর দুটি বিয়ে করলেও তার কোনও সন্তান নেই। মাদরাসায় কাজ করার সময় কেবল স্নেহ ও ভালোবাসা থেকে জড়িয়ে নেন। এক সময়ে তাকে নিজ বাড়িতে নিয়ে আসেন। এদিকে ওই শিশু সিফাত উল্লাহ জানিয়েছেন তাকে সন্তানের মতোই স্নেহ করতেন কেফায়েত উল্লাহ। কখনো খারাপ আচরণও করেননি কেফায়েত।

এসআর/এসএস

RTV Drama
RTVPLUS