logo
  • ঢাকা শনিবার, ০৬ মার্চ ২০২১, ২১ ফাল্গুন ১৪২৭

যুবকের পুরুষাঙ্গে দুই ইট বেঁধে নির্যাতন, চেয়ারম্যান গ্রেপ্তার 

যুবকের পুরুষাঙ্গে দুই ইট বেঁধে নির্যাতন, চেয়ারম্যান গ্রেপ্তার 

রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলায় গ্রাম্য সালিশে রাশেদুল শেখ নামের এক যুবকের পুরুষাঙ্গে ইট বেঁধে ও ১০০ জুতাপেটা নির্যাতনের অভিযোগে ইউপি চেয়ারম্যান ও তার এক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

রোববার (২৪ জানুয়ারি) রাতে রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার সাওরাইল ইউপির চর পাতুরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ওই যুবকের ওপর বর্বর নির্যাতন চালানো হয়।

এরপরে যুবকের বাবা ইমান আলী শেখ বাদী হয়ে কালুখালী থানায় মামলা দায়ের করেন। এবং রাতেই ইউপি চেয়ারম্যানকে কালুখালী থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করেন। অভিযুক্ত মো. শহিদুল ইসলাম আলী সাওরাইল ইউপি চেয়ারম্যান।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রথম স্ত্রীর বিনা অনুমতিতে দ্বিতীয় বিয়ে করায় প্রথম স্ত্রীর আবেদনে গত রোববার বিকেলে সাওরাইল ইউপির চর পাতুরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে একটি গ্রাম্য সালিশের আয়োজন করা হয়। সালিশে চর পাতুরিয়া গ্রামের ইমান আলী শেখ এর ছেলে মো. রাশেদুল শেখ কে দোষী সাব্যস্ত করে ১০০ জুতার আঘাত ও জরিমানা করা হয়। এতে ও চেয়ারম্যানের মনের তুষ্টি না মেটায় আরও শাস্তি হিসেবে মধ্যযুগীয় কায়দায় তার পুরুষাঙ্গে রশি দিয়ে ২টি ইট বেঁধে তাকে স্কুল মাঠে প্রদক্ষিণ করায় এবং তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারপিট করে। এর ফলে রাশেদের পুরুষাঙ্গে রক্তপাত হতে থাকে।

এ সময় চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম আলী স্থানীয় গ্রাম্য ডাক্তার প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার ব্যবস্থা করেন এবং এ ঘটনা পুলিশকে না জানানোর জন্য চাপ প্রয়োগ করতে থাকেন। পরে রাশেদুলকে তার নিজ বাড়িতে চেয়ারম্যানের আলি বাহিনীর লোকজন দিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখে এবং তাকে উন্নত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করেন।

সে সময় কেউ একজন ৯৯৯ এ ফোন করে বিষয়টি থানা পুলিশকে জানান। এরপরে নির্যাতিত ওই যুবককে উদ্ধার করে পাংশা হাসপাতালে ভর্তি করেন কালুখালী থানার পুলিশ।

কালুখালী থানার অফিসার ইন-চার্জ মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান আরটিভি নিউজকে বলেন, এটি একটি অমানবিক ঘটনা। মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের অভিযোগে ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম আলী ও রায়হানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

জিএম/এসএস

RTV Drama
RTVPLUS