logo
  • ঢাকা সোমবার, ২৫ জানুয়ারি ২০২১, ১১ মাঘ ১৪২৭

টাকা হাতিয়ে বিয়ের দিন এলো না বর

টাকা হাতিয়ে বিয়ের দিন এলো না বর
বর সোহাগ
বিয়ের সব আয়োজন সম্পন্ন। সাজানো হয়েছে বিয়ে বাড়ি। বিয়ের গেট ও প্যান্ডেলও হয়ে গেছে। প্রায় তিনশ’ লোকের খাবারের আয়োজন। কিন্তু বরযাত্রী এলো না। বৃথা গেল সব আয়োজন। বধূবেশে শ্বশুরবাড়ি যাওয়া হলো না তরুণীর।  

রোববার (৩ জানুয়ারি) এ ঘটনা ঘটেছে শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নে।

ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দরিদ্র ব্যবসায়ীর মেয়ের (২১) সঙ্গে মোবাইল অ্যাপস ইমোর মাধ্যমে বছর খানেক আগে সোহাগ নামে এক যুবকের (২৫) সঙ্গে পরিচয় হয়।
এরপর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। নিজেকে পুলিশ সদস্য পরিচয় দিয়ে ওই যুবক মেয়েটিকে জানান যে তার নাম সোহাগ, তিনি রাজশাহী শহরের বাসিন্দা। বাবা বেঁচে নেই। একজন পুলিশ সদস্য হিসেবে তিনি শরীয়তপুরের নড়িয়া থানায় চাকরি করছেন।
  
একপর্যায়ে ওই যুবক তরুণীকে বিয়ের প্রস্তাব দিলে তিনি বিষয়টি তার পরিবারকে জানান। পরে ওই তরুণীর পরিবার ওই যুবক ও তার চাচা পরিচয়ে এক ব্যক্তির সঙ্গে মোবাইল ফোনে আলাপ আলোচনার পর বিয়েতে মত দেন। গত ৩ জানুয়ারি বিয়ের দিন ধার্য করা হয়। ৪০ জন বরযাত্রী আসার কথা। এরই মধ্যে ওই যুবক ওই তরুণীকে জানান, তার নাকি আইডি কার্ড হারিয়ে গেছে। বেতনের টাকা তুলতে পারছেন না। তাই বিয়ের খরচের জন্য ওই তরুণীর পরিবারের কাছে এক লাখ টাকা দাবি করেন ওই যুবক। বিয়ের আগে টাকা না পেলে নাকি তার বিয়ে করা সম্ভব হবে না। ওই তরুণীর বাবা তার মেয়ের বিয়ের জন্য তার দুই কড়া জমি বিক্রি করেন এবং আরও এক লাখ টাকা ঋণ নেন। বিয়ের এক সপ্তাহ আগে তারা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের  মাধ্যমে ওই যুবককে ৭০ হাজার টাকা পাঠিয়ে দেন। বাকি টাকা দিয়ে বিয়ের সব আয়োজন সম্পন্ন করেন। বিয়ের আগের রাত পর্যন্ত ওই তরুণী ও তার পরিবারের সঙ্গে ওই যুবকের ফোনে যোগাযোগ ছিল। বিয়ের দিন সকাল থেকে বাড়িতে বিয়ের আয়োজন চলতে থাকে এবং মেহমানরাও আসতে থাকেন। বরযাত্রী কতদূর, তা জানার জন্য ওই তরুণীর পরিবার ওই যুবকের মোবাইল ফোনে কল করলে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। এরপর একাধিক নম্বর দিয়ে বার বার কল করেও কোনও কাজ হয়নি। বরের মোবাইল ফোন বন্ধ জানতে পেরে বাড়ির সবাই চিন্তিত হয়ে পড়েন। লোকজনের মধ্যে সন্দেহ বাড়তে থাকে। ধীরে ধীরে বিয়ে বাড়ির আনন্দ বিষাদে পরিণত হতে থাকে। থেমে যেতে থাকে বিয়ের আয়োজন ও কোলাহল। দিশেহারা হয়ে পড়ে ওই তরুণীর পরিবার। শেষ পর্যন্ত বরবেশে ওই যুবক আসেননি। বধূবেশে শ্বশুরবাড়িতেও যাওয়া হয়নি ওই তরুণীর।

এ ঘটনা জানতে পেরে মঙ্গলবার (৫ জানুয়ারি) বিকেলে ওই তরুণীর বাড়ি গিয়ে দেখা যায়, তাদের বসতঘরের বারান্দায় নির্বাক বসে আছেন ওই তরুণী। হাতে মেহেদীর রং। ঘটনার পর থেকে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। লজ্জায় কারো কাছে মুখ দেখাতে পারছেন না। কারো সঙ্গে তেমন কথাও বলছেন না।

জানতে চাইলে ওই তরুণী বলেন, ইমো গ্রুপের মাধ্যমে পরিচয় হওয়ার পর তার সঙ্গে আমার সম্পর্ক হয়। ও আমাকে বলেছে, ওর বাড়ি রাজশাহী শহরে এবং সে নাকি নড়িয়া থানায় পুলিশে চাকরি করে। নড়িয়াতে আমি তার সঙ্গে দুইবার দেখা করেছি। সে আমাকে বিয়ে করবে বলেছিল। আমাদের কাছে বিয়ের খরচের জন্য এক লাখ টাকা চেয়েছে। আমরা তার কথায় বিশ্বাস করে ৭০ হাজার টাকা পাঠিয়েছি এবং বিয়ের আয়োজন করেছি। কিন্তু সে আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে।

এসময় ওই তরুণী তার মোবাইলে ওই যুবকের একটি ছবি দেখান। ছবিতে দেখা যায় কোনও এক কোম্পানির সিকিউরিটি গার্ডের ইউনিফর্ম পড়ে আছেন ওই যুবক। ইউনিফর্মে লেখা আছে সোহাগ ও সিকিউরিটি। ০১৯৫০৯৯২১২৮, ০১৩১৫৩৩৯৬৮৩, ০১৩১৪৯৮৪৯০৯ এসব নম্বরে ওই যুবকের সঙ্গে কথা হয়েছে বলে জানান ওই তরুণী ও তার পরিবার।  

ওই তরুণীর বাবা বলেন, আমি গরিব মানুষ। লেখাপড়া জানি না। সহায় সম্পত্তি তেমন কিছুই নাই। দিন আনি দিন খাই। চার ছেলে-মেয়ের মধ্যে আমার এই মেয়েই বড়। দুই কড়া জমি ছিল, তাও মেয়ের বিয়ের জন্য বিক্রি করে দিছি। টাকা পয়সা খুইয়ে শেষ পর্যন্ত মেয়ের বিয়ে দিতে পারলাম না। আমাদের মানইজ্জত সব গেছে। এখন আমার মেয়ের কী হবে?

ওই তরুণীর মা পারুল বেগম জানান, আমাদের কী সর্বনাশ হয়ে গেল? এখন আমার মেয়ের কী হবে? সমাজে আমরা মুখ দেখাবো ক্যামনে?

জাজিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আশ্রাফুজ্জামান ভূঁইয়া বলেন, বিয়ের কাবিন বা লিখিত কোনও চুক্তিপত্র না হওয়া পর্যন্ত এখানে আইনগতভাবে কিছুই করার নেই। সামাজিকভাবে বিষয়টি মীমাংসা করতে হবে।

এসএস

RTV Drama
RTVPLUS