logo
  • ঢাকা সোমবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২১, ৪ মাঘ ১৪২৭

হাতিয়ায় বরযাত্রীবাহী ট্রলারডুবি: কনেসহ ৭ জনের লাশ উদ্ধার

হাতিয়ায় বরযাত্রী ট্রলারডুবি: কনেসহ ৭ জনের লাশ উদ্ধার
কনে নিয়ে বাড়ি ফেরার সময় বরযাত্রীবাহী ট্রলারডুবিতে কনে তাছলিমাসহ ৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিখোঁজ রয়েছে অনেকে। 

আজ মঙ্গলবার (১৫ ডিসেম্বর) বিকেলে ঘটনাটি ঘটে নোয়াখালী দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার ডালচরের সন্নিকটে মেঘনা নদীতে। 

হাতিয়া নৌ-পুলিশ, কোস্টগার্ড ও উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, মৃত উদ্ধার হওয়ায় ৭ জনের মধ্যে কনে তাছলিমাসহ তিন নারী ও তিন শিশু রয়েছে। কনে তাছলিমা (২০) হাতিয়ার চানন্দী ইউনিয়নের থানার হাট এলাকার ইব্রাহীম সওদাগরের মেয়ে। 

নিহত অন্যরা হলেন- হাতিয়ার হরনী ইউনিয়নের মোহম্মদপুর গ্রামের আক্তার হোসেনের মেয়ে আসমা বেগম (১৯), সদর উপজেলার বদরপুর গ্রামের আকবর হোসেনের মেয়ে আফরিনা আক্তার লামিয়া (২), একই এলাকার আলমগির হোসেনের মেয়ে লিলি আক্তার( ৮), হাতিয়ার নলেরচরের কালাদুর গ্রামের ফয়জ্জুল্লার মেয়ে হোসনে আরা বেগম (৫), চানন্দী ইউনিয়নের পূর্ব আজিম নগর গ্রামের আলা উদ্দিনের স্ত্রী রাহেনা বেগম (৩০), একই এলাকার খোরশেদ আলমের স্ত্রী নুরজাহান (৬৫)।

এর আগে মঙ্গলবার বিকেলে কনেসহ বরযাত্রী নিয়ে ট্রলারটি হাতিয়ার চানন্দী ঘাট থেকে বরের বাড়ি ঢালচরের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। ট্রলারটি ঢালচরের কাচাকাছি এলে প্রবল স্রোতে নদীতে নিমজ্জিত হয়ে যায়। এসময় ট্রলারের মধ্যে নারী পুরুষ শিশুসহ প্রায় অর্ধশতাধিক লোক ছিল বলে জানা যায়। 

নিমজ্জিত হওয়ার পরে অনেকে সাতরিয়ে ও অন্য ট্রলারের সহযোগিতায় তীরে উঠতে সক্ষম হলেও শিশুসহ অনেক নারী নিখোঁজ রয়েছে বলে কনের বাবা ইব্রাহীম সওদাগর জানান। 

তিনি আরও জানান, তার মেয়ে তাছলিমার সঙ্গে হাতিয়ার ঢালচরের বেলাল মেস্তুরীর ছেলে ফরিদ উদ্দিনের বিয়ে হয়। মঙ্গলবার তাছলিমাকে আনুষ্ঠানিক ভাবে বরের বাগিতে নেয়ার সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

এদিকে দুর্ঘটনার পরপরেই হাতিয়ার নৌ-পুলিশ ও কোস্টগার্ড উদ্ধার অভিযানে নামে। তবে সন্ধ্যা নেমে আসায় উদ্ধার অভিযান কিছুটা থেমে যায়। 

নৌ-পুলিশের ইনচার্জ আকরাম উল্লাহ বলেন, রাত নেমে আসায় আমরা উদ্ধার অভিযান এখন বন্ধ রাখলেও সকালে আবার শুরু করবো।

হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইমরান হোসেন বলেন নিহত ৭ জনের পরিবারকে উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে ২০ হাজার টাকা করে দেয়ার সিদ্ধান্ত দেয়া হয়েছে। এছাড়া আরো মৃতদেহ পাওয়া গেলে তাদেরকেও অনুরূপ ভাবে আর্থিক সহযোগিতা দেয়া হবে।

এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত চানন্দী ইউনিয়নের প্রশাসক আব্দুর রহিম জানান, নিহত উদ্ধার হওয়া ৫ জনের মৃতদেহ হরনী ইউনিয়নের টাংকির ঘাটে রাখা হয়েছে। অন্য দুইজনের মরদেহ চানন্দী ঘাটে রাখা হয়েছে। পুলিশ রাতেই তাদের মৃতদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

এসএস

RTV Drama
RTVPLUS