logo
  • ঢাকা শনিবার, ২৩ জানুয়ারি ২০২১, ৯ মাঘ ১৪২৭

ভাসানচরে প্রথম ধাপে এলো ১৬৪২ রোহিঙ্গা

hatiya, rohinga, house
ভাসানচরে পৌঁছেছে রোহিঙ্গারা
অনেক বিতর্কের পর কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের একটি দল আজ শুক্রবার ভাসানচর এসেছে। এ জন্য ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের স্বাগত জানিয়ে বিভিন্ন ব্যানার-ফেস্টুন দিয়ে সাজানো হয়েছে। শুক্রবার সকালে নৌবাহিনীর তিনটি জাহাজে চট্টগ্রাম থেকে রোহিঙ্গাদের একটি দল ভাসানচরের উদ্দেশে রওনা হয়ে দুপুরে এসে পৌছায়। স্বেচ্ছায় যারা আসতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে তাদের পাঠানোর মাধ্যমেই এ স্থানান্তর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

প্রথম ধাপে নারী-পুরুষ, শিশুসহ ১৬৪২ জন রোহিঙ্গা ভাসানচরে পৌঁছেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এর মধ্যে শিশু রয়েছে ৮১০ জন, পুরুষ ৩৬৮ জন, নারী ৪৬৪ জন রয়েছে। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নৌবাহিনীর এক কর্মকর্তা জানান, ভাসানচরে আসা সকল রোহিঙ্গাদের প্রথমে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। তারপর ওয়ার হাউজে নৌবাহিনীর কর্মকর্তারা রোহিঙ্গাদের ব্রিফিং করেন। ব্রিফিং শেষে রোহিঙ্গাদের জন্য প্রস্তুত রাখা ৭, ৮, ৯ ও ১০ নম্বর ক্লাস্টারে তাদেরকে রাখা হয়। 

রোহিঙ্গাদের রিসিভ করতে আগ থেকে ভাসানচর অবস্থান করেন নোয়াখালীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) মো. নোমান হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দীপকজ্যোতি খীসা ও হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইমরান হোসেন। এসময় নৌবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ছাড়াও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। 

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার সকালে কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের ৩৪টি ক্যাম্প থেকে রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে নিয়ে যেতে উখিয়া কলেজ মাঠে অস্থায়ী ট্রানজিট পয়েন্ট স্থাপন করা হয়েছে। পরে ভাসানচর যেতে আগ্রহী রোহিঙ্গাদের ২০টি বাসে চট্টগ্রাম নিয়ে আসা হয়। চট্টগ্রামে বি এ এফ শাহিন কলেজ মাঠের অস্থায়ী ক্যাম্পে রাতে থাকার ব্যবস্থা করা হয়। শুক্রবার সকালে নৌবাহিনীর পতেঙ্গা ঘাট দিয়ে তাদের জাহাজে তোলা হয়। 

এর আগে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তর কার্যক্রম ঘিরে বঙ্গোপসাগরের এই দ্বীপ ঘুরে আসে ২২টি এনজিওর প্রতিনিধি দল। ভাসানচরে যেতে ইচ্ছুক রোহিঙ্গাদের জন্য সেখানে মজুত করা হয়েছে ৬৬ টন খাদ্যসামগ্রী।

হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার নাজিম উদ্দিন জানান, ইতোমধ্যে ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ২০ শয্যার দুটি হাসপাতাল প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসক নিয়োগ ও আসবাবপত্র স্থাপন করা হয়েছে এ দুটি হাসপাতালে। 

এদিকে পর্যায়ক্রমে কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামে নিয়ে সেখান থেকে রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে নেওয়ার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে নৌবাহিনীর ১৪টি জাহাজ। প্রথম দুই মাস তাদের রান্না করা খাবার সরবরাহ করা হবে। এরপর নিজ নিজ বাসস্থানেই তারা রান্না করতে পারবেন।

নোয়াখালীর হাতিয়ায় সাগরের মাঝে ভেসে থাকা ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের জন্য সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা সংবলিত ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। ঝড় জলোচ্ছ্বাস থেকে সুরক্ষায় বিশেষ ব্যবস্থাও রয়েছে। বসবাসের যে ব্যবস্থা করা হয়েছে তা দেখতে গত সেপ্টেম্বরে দুই নারীসহ ৪০ রোহিঙ্গা নেতাকে সেখানে নিয়ে যায় সরকার। তারা ভাসানচরের আবাসন ব্যবস্থা দেখে মুগ্ধ হয়। তারা ক্যাম্পে ফিরে অন্যদের ভাসানচরে যেতে উদ্বুদ্ধ করে। দুবছর আগে সরকার ভাসানচরে এক লাখ রোহিঙ্গাকে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কিন্তু তাদের অনিচ্ছার কারণে তা সম্ভব হচ্ছিল না।

কোনো বলপ্রয়োগ ছাড়াই রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে যাওয়ার ইতিবাচক মনোভাব দেখে তাদের সেখানে পাঠানোর বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেয় সরকার। রোহিঙ্গাদের প্রথম দলটিকে নিরাপদে ভাসানচরে পাঠাতে পারলে আরও অনেক পরিবার সেখানে যেতে আগ্রহী হবে বলে সরকার আশাবাদী।

সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে দুই হাজার ৩১২ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৩ হাজার একর আয়তনের ভাসানচরে ১২০টি গুচ্ছগ্রামের অবকাঠামো তৈরি করে এক লাখের বেশি মানুষের বসবাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বর্তমানে মালয়েশিয়া যেতে ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসা তিন শতাধিক রোহিঙ্গাকে সমুদ্র থেকে উদ্ধার করে ভাসানচরে নিয়ে রাখা হয়েছে।
এফএ/পি

এফএ/পি

RTV Drama
RTVPLUS