logo
  • ঢাকা বুধবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২১, ১৩ মাঘ ১৪২৭

অতিরিক্ত দামে বিক্রি হচ্ছে সার, হতাশ কৃষক

অতিরিক্ত দামে বিক্রি হচ্ছে সার, হতাশ কৃষক
ফাইল ছবি
টাঙ্গাইলের বাজারে ৮শ’ টাকা মূল্যের ডাই অ্যামোনিয়া ফসফেট (ডিএপি) সারের বস্তা ১ হাজার থেকে ১১০০ টাকা ও ১১শ’ টাকার ট্রিপল সুপার ফসফেট (টিএসপি) সার বিক্রি করছেন ১৩০০ থেকে ১৪০০ টাকায়। কৃষক সারের রশিদ চাইলে ডিলারের পক্ষ থেকে কোনও রশিদ দেয়া হচ্ছে না। রশিদ দিলেও তাতে সরকার নির্ধারিত দাম ৮০০ ও ১১০০ টাকা উল্লেখ করা হয়। সরকারি নির্দেশনাকে তোয়াক্কা না করে সিন্ডিকেট করে অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি করছে ডিলাররা। 

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে জানিয়েছে, অতিরিক্ত সারের দামের বিষয়ে তারা কিছুই জানে না। সুনির্দিষ্ট ডিলারের নাম বললে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন টাঙ্গাইলের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আহসানুল বাশার।

জানা যায়, গত প্রায় দুই মাস ধরেই বাজারে ডিএপি সারের দাম বাড়ছে। প্রতি বস্তা ডিএপি সারের মূল্য সরকার নির্ধারণ করেছে ৮শ’ টাকা। জেলা পর্যায়ের ডিলার ৭৫০ টাকা এই সার সাব ডিলারদের কাছে বিতরণ করবে। কিন্তু টাঙ্গাইল জেলার ডিলাররা এ নীতিমালা না মেনে দফায় দফায় দাম বাড়িয়ে বিক্রি করছেন। সাব ডিলাররা সে সার ১১০০ টাকায় বিক্রি করছেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণে এসব ডিলাররা বর্ধিত দামে সার বিক্রি করলেও এসব ব্যাপারে কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। অথচ উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের নির্ধারিত সভায় এ ব্যাপারে আলোচনা হয়। 

এদিকে টাঙ্গাইল সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ডিলারদের নন ইউরিয়া সার যাতে নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি হয় সেজন্য সতর্ক করে চিঠি দিয়েছেন। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের যোগসাজশে অবাধে বর্ধিত দামে সার বিক্রি হচ্ছে।

সদর উপজেলার লাউজানা গ্রামের কৃষক হালিম মিয়া বলেন, ‘এ বছর সরিষা চাষের জন্য ডিএপি’র এক বস্তা সার ১৫৫০ টাকা দিয়ে ক্রয় করেছি। এ ছাড়াও টিএসপির এক বস্তার সার ১৪০০ টাকায় কিনতে হয়েছে। রশিদ চাইলে দোকান থেকে কোন ধরনের রশিদ দেয়া হয় না। 

ভাটচান্দা গ্রামের কৃষক মো. রুবেল মিয়া বলেন, ‘শুনেছি সরকার সারের দাম কমিয়ে দিয়েছে। কিন্তু কিনতে গেলে সারে দাম অনেক বেশি। এক হাজার টাকার নিচে ডিএপি সার পাওয়া যায় না। অপর দিকে ১৩শ’ টাকা নিচে টিএসপি সার পাওয়া যায় না। তাহলে আমরা কিভাবে চাষ করবো। ফসল চাষের প্রায় অর্ধেক খরচ সারেই চলে যায়।’

সার ডিলার ধরেরবাড়ীর হারুন এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. কবির হোসেন বলেন, ‘ডিএপি সার তিন ধরনে হয়। একটি ৯৫০ টাকা আরেকটি ১২০০ ও অপরটি ১৫৫০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। সরকার ডিএপি সারের দাম ৮০০ টাকা নির্ধারণ করলেও আমাদের বেশি দাম দিয়ে সার ক্রয় করতে হয়। এর পর গাড়ি ভাড়া আছে। যে কারণে সরকারের নির্ধারিত দামে সার বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না।’

শহরের বেবীস্ট্যান্ড এলাকার সার ডিলার মো. রোকন উদ্দিন বলেন, ‘ডিএপি সার ৯০০, ৯৫০ ও ১৪৬০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।’

বিএডিসি বীজ ডিলার এসোসিয়েশনের জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, বেশি দামে সার বিক্রির কোনও নিয়ম নেই। কোন অভিযোগ কেউ করেনি। আপনাদের মাধ্যমে জানতে পেরেছি। খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে। 

বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার এসোসিয়েশন জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন তালুকদার বলেন, ডিলারদের যেটুকু ডিএপি ও টিএসপি সার দেয়া হয় তা খুবই কম। ডিলারদের বাইরে থেকে বেশি দামে এসব সার কিনতে হয়। তাই বেশি দামে বিক্রি করতে হয়। এ সময় কৃষি পুনর্বাসনের সার দেয়ার কারণে এ সমস্যা হচ্ছে। খুব শীঘ্রই এ সমস্যা আর থাকবে না। 

টাঙ্গাইল সদর উপজেলা কৃষি অফিসার মো. জিয়াউর রহমান জানান, বাস্তবে কেউ অভিযোগ করেনি দাম বেশি নেয়ার বিষয়ে। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের কঠোর নির্দেশনা দেয়া আছে। সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। ডিলারদের কেন সতর্ক করে চিঠি দেয়া হলো এ প্রশ্নের উত্তরে বলেন, এটি একটি  রুটিন ওয়ার্ক। প্রতি বছর এসময় সতর্ক করে ডিলারদের চিঠি দেয়া হয়। 

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আহসানুল বাশার জানান, বর্ধিত দামে বিক্রির বিষয়টি জানা নেই। নির্দিষ্ট করে ডিলারদের নাম বললে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এসএস

RTV Drama
RTVPLUS