logo
  • ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২১ জানুয়ারি ২০২১, ৭ মাঘ ১৪২৭

ধলেশ্বরী নদীর এক কিলোমিটারেই চলছে ৫ ড্রেজার 

5 dredgers are running in one kilometer of Dhaleshwari river
ধলেশ্বরী নদীর এক কিলোমিটারেই চলছে ৫ ড্রেজার 
টাঙ্গাইলের ধলেশ্বরী নদীতে বাংলা ড্রেজারের মহোৎসব বসেছে। সদর উপজেলার দাইন্যা ইউনিয়নের চর ফতেপুর থেকে শ্যামার ঘাট পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার নদী এলাকা জুড়ে ৫টি ড্রেজারে চলছে বেপরোয়া বালু উত্তোলন। এতে চরম ভাঙন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে শাম্যার ঘাট সেতু ও ১২০টি পরিবারের জন্য নবনির্মিত গুচ্ছ গ্রামের আবাসন প্রকল্পের ঘরগুলো। 

এছাড়াও ইতোমধ্যে বন্যায় ব্যাপক ভাঙন কবলিত হয়েছে এই ইউনিয়নের নদী তীরবর্তী গ্রামগুলো। ভাঙনে গ্রামবাসী হারিয়েছেন শত শত একর আবাদী জমি। ইউনিয়নের ওয়ার্ড মেম্বারসহ প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় ড্রেজারগুলো চলমান থাকায় প্রতিবাদ করতে পারছেন না গ্রামবাসী। একইভাবে সদর উপজেলার বাঘিল ইউনিয়নের ব্যাপারীপাড়া গ্রামের ধলেশ্বরী নদীর অংশেও চলমান রয়েছে একাধিক ড্রেজার।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, সদর উপজেলার দাইন্যা ইউনিয়নের চরফতেপুর গ্রাম থেকে শ্যামার ঘাট পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার ধলেশ্বরী নদী এলাকাজুড়ে অবাধে চলছে ৫টি বাংলা ড্রেজারে এই বালু উত্তোলন। বছরজুড়ে এ বালু উত্তোলন আর বিক্রি চলমান থাকলে প্রশাসনের নেই কোনো পদক্ষেপ। ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ড মেম্বার মাদারী ও তার ছেলে রুবেল, কবির তালুকদার, কালাম নামের চার বালু ব্যবসায়ী ধলেশ্বরী নদীর চর ফতেপুর এলাকায় এই বালু উত্তোলন করছে। অপরদিকে লিটন ও ফজলু নামের দুই বালু ব্যবসায়ী নদীর শ্যামারঘাটে সদ্য নির্মিত সেতুর নিচ থেকে অবৈধভাবে ড্রেজারে বালু উত্তোলন করছে। এছাড়াও বাঘিল ইউনিয়নের ব্যাপারীপাড়া গ্রামের ধলেশ্বরী নদীর অংশেও অবৈধ ড্রেজার ব্যবসায় লিপ্ত রয়েছে সুখচাঁন, শাহজাহান, শফিকুল নামের তিন বালু ব্যবসায়ী। অবৈধ এই বালু ব্যবসায়ীরা এলাকার বাড়ি ও পুকুর ভরাট করার চুক্তি নিচ্ছেন।

স্থানীয় জুলহাস উদ্দিনসহ একাধিক গ্রামবাসীর অভিযোগ, অবৈধ এই ড্রেজারে বালু উত্তোলনের ফলে তাদের ফসলী জমি, বসতবাড়ি ও গাছপালা নদী ভাঙনের কবলে পরেছে। গত তিন বছর যাবৎ নিয়মিতভাবে অবৈধ এই ড্রেজার চললেও স্থায়ীভাবে বন্ধ করার কোনো উদ্যোগ নেয়নি প্রশাসন। তবে মাঝে মাঝে পুলিশ ও প্রশাসনের লোকজন এসে ড্রেজারের পাইপ ভাংচুর কবলেও পরদিন থেকেই আবার চালু হয়েছে এই ড্রেজার ব্যবসা। এভাবে নিয়মিত ড্রেজার চলায় দিনদিনই বাড়ছে তাদের নদী ভাঙনের শঙ্কা।

তাদের অভিযোগ, বিভিন্ন উপজেলায় ড্রেজার বন্ধে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করা হলেও সদর উপজেলায় কেন নেয়া হচ্ছে না এই পদক্ষেপ, এ নিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ তারা। স্থায়ীভাবে ড্রেজার বন্ধের দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ সময় দেখা গেছে, ৮০ হাজার টাকা চুক্তিতে শ্যামারঘাট এলাকার সিদ্দিক ফকিরের বাড়ি ভরাটের কাজ নিয়েছেন লিটন ও ফজলু নামের দুই ড্রেজার ব্যবসায়ী।

ক্যামেরায় বক্তব্য না দেওয়ার শর্তে বালু ব্যবসায়ী লিটন বলেন, প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই তারা এ বালু উত্তোলন আর বিক্রি করছেন। আপনারা যত পারেন ভিডিও করেন কোনো সমস্যা নেই। সেতুর নিচ থেকে বালু উত্তোলন এবং কারা এই অনুমতি দিলেন সে প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যান তিনি।

অবৈধ ড্রেজার ব্যবসায়ী ও দাইন্যা ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোতাল্লেব হোসেন মাদারী বলেন, বর্তমানে ড্রেজার ব্যবসা পরিচালনা করছে আমার ছেলে রুবেল। অবৈধ হওয়ায় গত দুই বছর আমি ব্যবসা বন্ধ রাখি। তবে এখন অন্যেরা ব্যবসা করায় আমিও শুরু করেছি। সকলের ড্রেজার বন্ধ হলে আমি বন্ধ করে দিব।

সত্যতা নিশ্চিত করে দাইন্যা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান লাবলু মিয়া বলেন, ওয়ার্ড মেম্বার মোতাল্লেব মাদারী, রুবেল, কালামসহ বেশ কয়েকজন নিয়মিত চালাচ্ছেন এই ড্রেজার ব্যবসা। আমি প্রতিনিয়ত প্রশাসনকে অবগত করার পরও বন্ধ হয়নি অবৈধ ড্রেজারে এই বালু উত্তোলন ও বিক্রি। বন্ধ না হওয়ার ফলে এ ইউনিয়নে প্রতিনিয়তই বাড়ছে ড্রেজার ব্যবসায়ির সংখ্যা।

খোঁজ নিয়ে অবৈধ ড্রেজার বন্ধ করে দেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইদুল ইসলাম।

ড্রেজার বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মো. আতাউল গণি।  

এ প্রসঙ্গে টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ মো. ছানোয়ার হোসেন বলেন, ইতোমধ্যেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ড্রেজার বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 
পি

RTV Drama
RTVPLUS