logo
  • ঢাকা মঙ্গলবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২০, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

মৃত তরুণীদের ধর্ষণ করা দোষের কিছু নয়: জবানবন্দীতে মুন্না

'Rape of dead, girls is not a crime' rtv news
মুন্না ভগত
রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে মৃত নারীদের ধর্ষণের জঘন্যতম অপরাধের ঘটনায় আটক মুন্না ভগত স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। বিভিন্ন গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, সেই জবানবন্দিতে মুন্না ভগত বলেছেন, ‘মৃত মানুষের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক দোষের কিছু নয়’।

এদিকে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে মৃত নারীদের ধর্ষণের জঘন্যতম অপরাধের প্রমাণ পাওয়ার পর সারা দেশে মর্গগুলোতে নজরদারিতে বাড়িয়েছে সিআইডি।

গতকাল শুক্রবার ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মামুনুর রশিদ এ জবানবন্দি গ্রহণ করেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

জবানবন্দিতে ঘটনার সতত্যতা স্বীকার করলেও এ কৃতকর্মের জন্য সে অনুতপ্ত নয় বলে জানান।

জবানবন্দিতে মুন্না বলেছে, রাতে সে একাই থাকত। নিরিবিলি পরিবেশ এবং যখন লোকজন না থাকতো। তখন সে এই কাজ করতো।

সিআইডি সূত্রে জানা যায়, সিআইডি ফরেনসিক ল্যাবের বিশ্লেণকরা ‘কোডেক্স’ নামে সফটওয়্যারে ডাটা বিশ্লেষণ করে দেখতে পায় পাঁচটি মৃতদেহে একই ব্যক্তির ডিএনএ। পাঁচ ভিক্টিমই কিশোরী। তাদের বয়স যথাক্রমে-১১, ১৩, ১৪, ১৬ এবং ১৭ বছর। সবগুলোই ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা ঘটনা। পাঁচটি আত্মহত্যার মধ্যে চারটি মিরপুর এবং একটি ঘটেছে মোহাম্মদপুর এলাকায়। দুটি ঘটেছে ২০১৯ সালের মার্চ ও অক্টোবর মাসে। বাকি তিনটির একটি এ বছরের মার্চ ও দুটি আগস্ট মাসে ঘটেছে।

সময়, এলাকা, বয়স ও লিঙ্গ ধরনের হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে সিআইডির ধারণা হয় ভিক্টিমরা কোনও সিরিয়াল কিলারের শিকার।

২০১৫ সালে হাইকোর্টে এক আদিবাসী নারীর অপমৃত্যু মামলার রায়ে এক ঐতিহাসিক নির্দেশ দেন। তাতে বলা হয়, কোনও নারীর অপমৃত্যু হলে, তাদের যৌনাঙ্গ থেকে শুক্রাণু সংগ্রহ করে সংরক্ষণ ও বিশ্লেষণ করতে হবে। দেখতে হবে অপমৃত্যুর আগে কোনও ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে কিনা। তারপর থেকে সিআইডি ফরেনসিক ল্যাব আদালতের নির্দেশ মেনে আসছে। 

গণমাধ্যমকে সিআইডির এক কর্মকর্তা জানান, শিগগিরই ওই সিরিয়াল কিলার আরও হত্যাকাণ্ড ঘটাতে পারে এমন আশঙ্কা নিয়ে তদন্তে নামেন তারা। তারা মোহাম্মদপুর ও কাফরুল থানায় হওয়া পাঁচটি অপমৃত্যুর মামলার তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেন। তাতে তারা জানতে পারেন, পাঁচটি মামলার ভিক্টিমের সুরতহালে কোনও ধরনের জোরজবরদস্তির আলামত পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তে প্রতিটি ঘটনাকে আত্মহত্যা বলা হয়েছে।

এছাড়া, প্রত্যেক ভিক্টিম দরজা লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তিনিটি ঘটনায় স্বজনদের খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে দরজা ভেঙে মরদেহ উদ্ধার করেছে। সব মিলিয়ে সিআইডির কর্মকর্তারা সিদ্ধান্তে আসেন তাদের প্রাথমিক ধারণা ভুল। এরপরই ওই অভিনয়ের আশ্রয় নেয় সিআইডি।

আরও পড়ুন...
মৃত নারীদের ধর্ষণে আকৃষ্ট করে যে সাতটি ব্যাধি
লাশকাটা ঘরে মৃত তরুণীদের ধর্ষণ করাই ছিলো তার কাজ
যে কারণে মৃত তরুণীদের ধর্ষণ করতেন মুন্না

অনুসন্ধানে নেমে সিআইডি জানতে পারে, সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল মর্গের মূল ডোম রজত কুমার। তাকে সহায়তা করে আরও পাঁচ থেকে ছয়জন। তার মধ্যে রজতের ভাগ্নে মুন্না ভগত রাতে মর্গের পাশেই একটি কক্ষে থাকে। মুন্নাকেই সন্দেহ হয় সিআইডির। গুমের শিকার হওয়া এক যুবকের স্বজন সেজে মুন্নার সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলেন সিআইডির দুই কর্মকর্তা।

তাদের একজন জানান, বেশ কয়েকদিন লাগাতার তারা মুন্নাকে ফলো করতে থাকেন। রাতে মুন্নাই থাকে এটি নিশ্চিত হতে তারা রাত একটা বা দুইটায়ও মর্গে গিয়েছেন। ছবি দেখিয়ে জানতে চেয়েছেন এই চেহারার কোনও লাশ মর্গে এসেছে কিনা সম্পর্ক গাঢ় হলে মুন্নার খাওয়া সিগারেটের ফিল্টার সংগ্রহ করেন তারা। ফিল্টার থেকে সংগ্রহ করা ডিএনএ’র সঙ্গে মিলে যায় ওই পাঁচ কিশোরীর দেহে পাওয়া ডিএনএন’র। 

সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি শেখ রেজাউল হায়দার গণমাধ্যমকে বলেন, এই ঘটনা বাংলাদেশে এই প্রথম । অন্যান্য হাসপাতালেও এই ধরনের ঘটনা ঘটেছে কিনা তা দেখার জন্য সিআইডির নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

জেবি

RTVPLUS