logo
  • ঢাকা মঙ্গলবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২০, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

আর কত বয়স হলে বয়স্কভাতা পাবেন হাজেরা বেগম?

And how old will Hajera Begum get old age allowance
আর কত বয়স হলে বয়স্কভাতা পাবেন হাজেরা বেগম
ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার হাজেরা বেগমের আশি বছর বয়সেও মেলেনি বয়স্কভাতা। প্রায় দুইযুগ আগে স্বামী আশ্রাফ আলীকে হারিয়েছেন। দুই ছেলে ও এক মেয়েকে বুকে আগলে রেখে জীবনসংগ্রাম চালিয়ে গেছেন। শত কষ্টেও কারো কাছে হাত পাতেননি এ নারী। ছেলেরা এখন ঢাকায় শ্রমিকের কাজ করেন। মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। বর্তমানে খেয়ে না খেয়ে একাকী, নিঃস্বঙ্গ, মানবেতর জীবন কাটছে অশীতিপর এই বৃদ্ধা হাজেরা বেগমের।

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার মঠবাড়ি ইউনিয়ন থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে বাদুরতলা গ্রামে স্বামীর ভিটায় মানবেতরভাবে থাকেন হাজেরা বেগম। লোকমুখে শুনেছেন সরকার বয়স্কদের সবাইকে ভাতা দিচ্ছে। এ খবর শোনার পর থেকেই হাজেরা বেগমের একটাই প্রশ্ন, আমার ভাতা কই? বাদুরতলা লঞ্চঘাট এলাকায় গিয়ে দেখা হয় হাজেরা বেগমের সাথে। বয়সের ভারে ন্যূব্জ হাজেরা অনেকটাই অসুস্থ। তবুও তার মুখে প্রাণবন্ত হাসি লেগে আছে। লঞ্চঘাট এলাকায় সাংবাদিকদের উপস্থিতি দেখে হাজেরা বেগম কাছে আসেন এবং জানতে চান, তিনি কবে বয়স্কভাতার কার্ড পাবেন? তার এ প্রশ্নের সদুত্তর দিতে পারেনি আজও কেউ। 

কিভাবে জীবনযাপন করেন? তার কাছে জানতে চাইলে হাজেরা বেগম বলেন, প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে প্রতিবেশীদের গাছের বাগানে পড়ে থাকা সুপারি, লাকড়ি (জ্বালানি কাঠ) খড়কুটো কুড়াই। সেই সুপারি-লাকড়ি নিয়ে লঞ্চঘাটে এসে চায়ের দোকানে দিলেই ওরা আমাকে চা খেতে দেয়। আমার কাছেতো টাকা নেই, তাই চা কিনে খেতে পারি না। জোটে না সব সময় দুমুঠো ভাত, তাই চা আর রুটি খেয়েই দিন চলে যায় হাজেরার।

সন্তানদের কথা জানতে চাইলে কণ্ঠভারী হয়ে আসে হাজেরার। ভেজা ভেজা চোখে হাজেরা বলেন, ‘সন্তানেরাও দরিদ্র, তবুও তারা যখন যা পারে তাই আমারে দেয়। শুনেছি সরকার দরিদ্র মানুষদের চাল, বিধবাভাতা, বয়স্কভাতা দেয় কিন্তু আমি পাই না। মেম্বারের কাছে বহুবার বলেছি কিন্তু কিছুই দেয়নি। তবুও কারও প্রতি আমার কোনো অভিযোগ নেই। কখন মরে যাই জানি না। জীবনের শেষ বয়সে এসেও যদি বয়স্কভাতাটা পেতাম, তাহলে সুপারি-লাকড়ি কুড়িয়ে চা-রুটি খেয়ে অনাহারে অর্ধাহারে থাকতে হতো না। 

হাজেরা বেগমের বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় ইউপি সদস্য মোঃ মজিবর মোল্লা আরটিভি নিউজকে জানান, হাজেরা বেগম তার ভোটার আইডি কার্ড হারিয়ে ফেলেছেন। তার ভোটার আইডি কার্ড না থাকায় তাকে সরকারি এসব সুবিধা দেওয়া সম্ভব হয়নি।

মঠবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল সিকদার বলেন, হাজেরা বেগমের বিষয়ে আমাকে কেউ জানায়নি। আপনাদের মাধ্যমে জানতে পেরেছি। হাজেরা বেগমের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে দ্রুত তাকে বয়স্কভাতা দেওয়ার ব্যবস্থা করে দিবো।

রাজাপুর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ মোজাম্মেল আরটিভি নিউজকে বলেন, আমাদের দপ্তরে যোগাযোগ করলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাথে এ বিষয়ে কথা বলে হাজেরা বেগমের ভাতার ব্যবস্থা করবো।
পি
 

RTVPLUS