logo
  • ঢাকা মঙ্গলবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২০, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

আমের রাজ্যে কমলার রাজত্ব শুরু

The reign of the orange, began in the mango, rtv news
চাঁপাইনবাবগঞ্জে থোকায় থোকায় কমলা

চাঁপাইনবাবগঞ্জ আমের রাজ্য নামেই সবার কাছে পরিচিত। সেই রাজ্যে নতুন অতিথি হয়ে এসেছে কমলা। আমদানিনির্ভর ফলটি চাঁপাইনবাবগঞ্জে জানান দিচ্ছে নিজের অবস্থান। কমলার বাগানে এখন থোকায় থোকায় ঝুলছে হলদে কমলা। এমন দৃশ্য আশাবাদী করেছে ফল গবেষক ও কৃষি উদ্যোক্তাদের। তারা বলছেন আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই অনেকাংশেই কমবে ফল আমদানি নির্ভরতা। 

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ঝিলিম ইউনিয়নের আমনুরা-চাঁপাইনবাবগঞ্জ সড়কের পাশে জামতলা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ফলের বাগান গড়ে তুলেছেন, মতিউর রহমান নামে এক কৃষি উদ্যোক্তা। মতিউর রহমানের কৃষি খামারের নাম মনামিনা।

খামার গড়ার বিষয়ে বলতে গিয়ে মতিউর রহমান বলছিলেন, এক সময় বরেন্দ্র এলাকায় শুধু একবার ধান হতো, তাও তা ছিলো বৃষ্টিনির্ভর অনেকটা। পরে যান্ত্রিক সেচ ব্যবস্থা চালু হলেও এতে করে পানির স্তর ক্রমাগত কমে যেতে লাগল। বিষয়টি ভেবে তিনি ফলবাগান গড়ে তোলার চেষ্টা শুরু  করেন। এর ধারাবাহিকতায় পেয়ারা, বাণিজ্যিক ভিত্তিতে মাল্টা বাগান গড়ে তোলেন। মাল্টা বাগানে তার সাফল্য ছড়িয়ে পড়ে দেশব্যাপী। পেয়েছেন পুরস্কারও।

এবার মতিউর রহমানের বাগানে নতুন অতিথি কমলা। অষ্ট্রেলিয়া, চাইনা ও ম্যান্ডারিন জাতের ৫০০ চারা তিন বছর আগে লাগিয়েছিলেন মতিউর রহমান। এ বছর তার কমলার গাছে পূর্ণ ফল এসেছে। গতবারও কিছু কিছু গাছে ফল এসেছিল। বর্তমানে কমলার বাগানটিতে থোকায় থোকায় ঝুলে থাকা কমলা যে কাউকেই প্রশান্তি  এনে দেবে।

বর্তমানে মতিউরের কমলা বাগান থেকে প্রতিদিনই কমলা বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১৬০ টাকা ধরে। মতিউর রহমানের আশাবাদ এ বছর তিনি তার বাগান থেকে পাঁচ লাখ টাকার কমলা বিক্রি করতে পারবেন। আগামী বছর তা গিয়ে ঠেকবে ২৫ লাখে। এমনই ধারণা এ কৃষি উদ্যোক্তার।

শুধু কমলার বাগানই গড়েননি মতিউর রহমান। ইতোমেধ্যে কমলার চারা তৈরি ও বিক্রিও করছেন। তার কাছ থেকে চারা নিয়ে অনেকেই কমলা বাগান তৈরিতে উদ্যোগী হয়েছেন। আর এসব কাজের মাধ্যমে তিনি সৃষ্টি করেছেন অন্তত ২০ জনের কর্মসংস্থানও।

সম্প্রতি মতিউর রহমানের কমলা বাগান ঘুরে দেখেছেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা। কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (গবেষণা) কমলা রঞ্জন দাশের মতে, আগে চাঁপাইনবাবগঞ্জ আমের জন্য বিখ্যাত। এখন এখানে কমলা ও মালটার বাগান গড়ে উঠছে। প্রতিবছর ফল আমদানিতে যে বিপুল পরিমাণ অর্থ আমাদের খরচ করতে হয়, তা সাশ্রয় করা সম্ভব হবে। আগামীতে ফল আমদানিনির্ভরতা কাটিয়ে ফল উৎপাদনে বাংলাদেশ আরও বেশি সক্ষম হবে।

আগামী দিনগুলোতে কমলাসহ বিভিন্ন ফলের বাগান গড়ে উঠলে বছরব্যাপী ফলের প্রাপ্যতা যেমন বৃদ্ধি পাবে, তেমনি কমে আসবে আমদানি নির্ভরতা।

জেবি

RTVPLUS