logo
  • ঢাকা সোমবার, ৩০ নভেম্বর ২০২০, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

রাজাপুরে সরকারি জমি দখল করে অবৈধ স্থাপনা তোলার হিড়িক

Hirik to set up illegal establishments, rtv news
ঝালকাঠিতে সরকারি জায়গা দখল থেকে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ
ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার গালুয়া ইউনিয়নের কাউনদাশকাঠি, নলবুনিয়া, সরকারি খাস জমি দখল করে নির্মাণ করা হচ্ছে কয়টি পাকা স্থাপনা।দিনে-দুপুরে  এসব স্থাপনা নির্মাণের কাজ। অভিযোগ রয়েছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা ও স্থানীয় তহসিল অফিসকে ম্যানেজ করে কতিপয় ভূমি দস্যুরা এসব স্থাপনা তুলছেন। ফলে বেদখল হচ্ছে লাখ লাখ টাকা মূল্যের সরকারি জমি।

জানা যায়, কাউনদাশকাঠি নলবুনিয়া বাজার লঙ্ঘনে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রায় দুই একর জমি রয়েছে।

এর মধ্যে ভূমি অফিসের রয়েছে। মোট জমির প্রায় ৮০ শতাংশ জমি প্রভাবশালী মহলের দখলে রয়েছে। এছাড়া সড়ক ও জনপদ বিভাগের নলবুনিয়া সেতুর নিচের জমি দখল করে প্রায় চারটি অবৈধ পাকা স্থাপনার কাজ হয়েছে।আরও পাঁচটি অবৈধ পাকা স্থাপনা নির্মাণ করার কাজ চলছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ বছর আগে কৃষকদের সেচের সুবিধার জন্য খালটি আরও খনন করেন। এখন সেচকাজের জন্য ও পানিনিষ্কাশনের একমাত্র পথ খালটি।

খালটির ওপর আ. কুদ্দুস ওরফে (ডাইল) নামে পরিচয় এই ব্যক্তি পাকা দোকান ঘর তৈরি করছেন। সরেজমিনে গেলে দেখা যায়,খালটির পাড় থেকে ভেতরের দিকে প্রায় ১০ ফুট পর্যন্ত কংক্রিটের পিলার নির্মাণ করা হয়েছে। ঢালাইয়ের কাজের জন্য পিলারের ওপরে রড বসানো হয়েছে। খালের পাড়ের অংশে মাটিও ভরাট হয়েছে।ওই স্থানে দেয়াল তৈরি করা হয়েছে।এসব স্থাপনা নির্মাণের জন্য খালের প্রায় দুই শতাংশ জায়গা দখল করা হয়েছে।

বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫-এর,৬-এর ঙ উপধারায় উল্লেখ করা হয়েছে। আপাতত বলবৎ অন্য কোনও আইনে যা কিছু থাকুক না কেন জলাধার হিসেবে চিহ্নিত জায়গা ভরাট বা অন্য কোনোভাবে শ্রেণি পরিবর্তন করা যাবে না। এই আইন লঙ্ঘন করে এই ভূমিদস্যুরা  খালের জমিতে পাকা ভবন নির্মাণ করছেন। কাউনদাশকাঠীর গ্রামের লোকজন গোপনে বলেন, এলাকার লোকজন এই ভূমিদস্যুদের ভয়ে সমনে আসতে চায় না। গ্রামের পানি নিষ্কাশনের একমাত্র পথ খালটি দখলের কারণে এটি অনেকটাই ছোট হয়ে এসেছে। খালের ওপর পাকা ঘর নির্মাণ করছেন। ফলে বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ব্যহত হবে। সরকারি খাল এভাবে দখল হলেও প্রশাসনের নজরদারি নেই। তারা প্রভাবশালী হওয়ার কারণে কেউ কাজে বাধা দিতেও সাহস পাচ্ছেন না।

সব মিলিয়ে নলবুনিয়া বাজারের বিভিন্ন স্থানে সরকারি জমি দখল করে ঘর তোলার হিড়িক চলছে। স্থানীয়দের অভিযোগ কতিপয় সরকারি কর্মকর্তা ও প্রভাবশালীর আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে ম্যানেজ করে তোলা হচ্ছে এসব স্থাপনা। জরুরি ভিত্তিতে এসব স্থাপনা তোলার কাজ বন্ধ করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি করেছেন স্থানীয়রা।

এ ব্যাপারে রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সোহাগ হাওলাদারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তাদের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান চলমান রয়েছে। সহসাই এসব স্থাপনা ভেঙে সরকারি জমি উদ্ধার করা হবে।

জেবি

RTVPLUS