logo
  • ঢাকা রোববার, ২৯ নভেম্বর ২০২০, ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

হস্তান্তরের আগেই ভগ্নদশা ভূঞাপুরের শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামের

Before the handover, the wreckage of Sheikh Russell Mini Stadium in Bhunapur
হস্তান্তরের আগেই ভগ্নদশা ভূঞাপুরের শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামের
হস্তান্তরের আগেই বেহাল দশা টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরের শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামের। নির্মাণের কাজ শেষ না হতেই নির্মিত প্যাভিলিয়ন ভবনটি বিভিন্ন স্থানে দেখা দিয়েছে ফাটল। এছাড়াও প্যাভিলিয়ন ভবনের বারান্দা হেলে পড়ে লোহার গ্রিল বাঁকা হয়ে গেছে। খসে খসে পড়ছে আস্তরণ। এমনকি মাঠের চারিদিকে বসানো চেয়ারগুলোর অধিকাংশ ভেঙে পড়েছে। বৃষ্টি পানিতে মাঠের মাটিও ধ্বসে গেছে। ফলে সেখানে কোনো ধরনের খেলাধুলা করতে পারছে না স্থানীয়রা। সরেজমিনে গিয়ে এমন চিত্র দেখা গেছে স্টেডিয়ামটির।

জানা গেছে, দেশের ১৩১টি উপজেলায় খেলাধুলার মান-উন্নয়নের জন্য সরকার জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠপুত্র শেখ রাসেলের নামে মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের কাজ শুরু করে। এরমধ্যে টাঙ্গাইলের ৭টি উপজেলায় নির্মাণ করা হয় এই মিনি স্টেডিয়াম। ভূঞাপুর উপজেলার শিয়ালকোল এলাকায় শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণে নিম্নমানের কাজের অভিযোগ উঠেছে। স্টেডিয়ামটি নির্মাণ কাজ শেষ হতে না হতেই একতলা বিশিষ্ট প্যাভিলিয়ন ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। এছাড়া আস্তরণ খসে খসে পড়ছে। ৪১ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামটি নির্মাণের কাজ করেছে ঢাকার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান আকতার এন্টারপ্রাইজ এবং ফোর সাইট কোম্পানি নামের দুটি জয়েন্ট ভেঞ্চার কোম্পানি। এতে একতলা প্যাভিলিয়ন ভবন, পাবলিক টয়লেট ভবন, আধুনিক ফুটবল গোলপোস্ট, মাঠে মাটি ভরাট ও মাঠের চারিদিকে দর্শকদের বসার জন্য ইট-সিমেন্ট দিয়ে বেঞ্চ তৈরি।

মাঠে অনুশীলন করতে আসা স্থানীয় যুবক শামীম, সবুজ, অনিক, শাওনসহ অনেকেই বলেন, মাঠটি বর্তমানে পরিত্যক্ত হিসেবে পড়ে রয়েছে। সেখানে খেলাধুলার কোনো পরিবেশ নেই। স্থানীয় যুবকরা খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত হওয়ায় অনেকেই নেশার জগতে প্রবেশ করছে।

শিয়ালকোল এলাকার দিপালী স্পোর্টিং ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক আক্তারুজ্জামান খান (দিপালী) বলেন, শিয়ালকোলের হেলিপ্যাড মাঠে মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হয়েছে। সেখানে যে ইট ছিল সেগুলো ঠিকাদার বিক্রি করেছে। এছাড়া মাঠে মাটি ভরাটতো দূরের কথা উল্টো সেখানকার মাটি বিক্রি করা হয়েছে।

স্টেডিয়াম নির্মাণে অনিয়ম ও নিম্নমানের কাজ হওয়ায় এটির নির্মাণ কাজ শেষ না হতেই ফাটল ও আস্তরণ উঠে যাচ্ছে। এছাড়াও মাঠের কাজ না করায় এর মাটি বৃষ্টির পানিতে ধ্বসে পড়েছে এবং ইট-সিমেন্ট দিয়ে তৈরি করা বেঞ্চগুলো পড়ে গেছে। এতে মাঠটি খেলাধুলার অনুপযোগী হয়ে পড়ে রয়েছে।

এ বিষয়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান আক্তার এন্টারপ্রাইজের সাইট ম্যানেজার শামছুল হক সবুজ বলেন, ২০১৭ সালে টেন্ডার হওয়ার পর শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামের নির্মাণ কাজ পায় আক্তার এন্টারপ্রাইজ ও ফোর সাইট। গত ২০১৯ সালে এটির নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। বর্তমানে বিল্ডিংয়ের কিছু কিছু অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে, আস্তরণ উঠে যাচ্ছে এবং মাঠের চারিদিকে বসানো চেয়ারগুলো ভেঙে পড়ে গেছে। এছাড়াও মাটি ধসে গেছে বলে জেনেছি। অতিদ্রুত সেগুলো সংস্কার কাজ শেষ করা হবে।
পি
 

RTVPLUS