logo
  • ঢাকা শুক্রবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২০, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

পটুয়াখালী প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

  ২৫ অক্টোবর ২০২০, ১৭:৪০
আপডেট : ২৫ অক্টোবর ২০২০, ১৭:৫৫

জামাতাকে হত্যার অভিযোগে শ্বশুরসহ ৩ জনকে গ্রেপ্তার

আনোয়ার হোসেন।
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় জামাতাকে হত্যার অভিযোগে শ্বশুরসহ ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শনিবার (২৪ অক্টোবর)  দিনভর বরগুনা ও পটুয়াখালী জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

আটককৃতরা হলেন নিহত আমিনুল ইসলাম গাজী ওরফে দীলিপ গাজীর শ্বশুর আনোয়ার হোসেন প্যাদ্যা (৫৫), তার ভাইয়ের মেয়ে জামাই নিজাম ওরফে মিজান (৪৫), মো. আমজেদ (৪৫) গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

রোববার (২৫ অক্টোবর) সকাল বেলা ১২টায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে পটুয়াখালীর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মইনুল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেন এবং দুপুরের দিকে আসামিদের আদালতে প্রেরণ করা হয়। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) মো. মাহফুজুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হেড কোয়াটার) শেখ বিল্লাল হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আহমেদ আলীসহ অন্যান্য পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। 

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মইনুল হাসান আরও জানান, কলাপাড়ার লালুয়া ইউনিয়নের নাওয়াপাড়া গ্রামের দৌলত হোসেন গাজীর ছেলে নিহত আমিনুল ইসলাম গাজী ওরফে দীলিপ গাজী একই উপজেলার ধানখালী ইউনিয়নের মাছুয়াখালী গ্রামের আনোয়ার হোসেন প্যাদার মেয়ে হাবিবা বেগমকে বিয়ে করেন।

 তাদের সংসারে দুই মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। দীলিপ গাজী দীর্ঘদিন মধ্যপ্রাচ্যে ছিলেন। পরে দেশে এসে এলাকার ইউপি সদস্যও নির্বাচিত হন তিনি। পৈত্রিক সূত্রে দীলিপ গাজী অনেক জমি পেয়েছেন এবং শ্বশুরকে সঙ্গে নিয়ে এলাকায় আরও অনেক জমি ক্রয় করেন তিনি। পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষ জমি অধিগ্রহণ করায় ক্ষতিগ্রস্ত হিসেবে তারা বড় অংকের টাকা পান। কিন্তু জামাইকে না জানিয়ে শ্বশুর আনোয়ার প্যাদা নিজেই সব টাকা উত্তোলন করে নিয়ে যায়।

এ নিয়ে জামাই-শ্বশুরের মধ্যে প্রচণ্ড মতবিরোধ সৃষ্টি হয় এবং দেখা দেয় পারিবারিক অশান্তি। এক পর্যায়ে গত কোরবানির ঈদের পর সন্তানদের নিয়ে স্ত্রী হাবিবা বেগম বাবার বাড়িতে চলে যায়। দীলিপ গাজীর ব্যাংক হিসাবের নমিনী তার বড় মেয়ের নামে থাকায় জামাইকে হত্যা করার পরিকল্পনা করে শ্বশুর আনোয়ার প্যাদা।

জামাই মারা গেলে সব টাকা ও সম্পত্তির মালিক হবে তার নাতনি। পরে তা কৌশলে সে ভাগিয়ে নিতে পারবে এই হিসাব করে জামাইকে হত্যা করার জন্য ভাইয়ের মেয়ে জামাই নিজাম ওরফে মিজান এবং আমজেদকে দুই লাখ টাকায় ভাড়াটিয়ে খুনি হিসেবে ঠিক করে। প্রথমেই ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা অগ্রিম পরিশোধ করে।

আরও পড়ুনঃ

২০ ঘণ্টা পর নিখোঁজ নারীর মৃতদেহ উদ্ধার

রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশ নোবেল পাওয়ার যোগ্য: ব্রিটিশ হাইকমিশনার

রায়হান হত্যা: কনস্টেবল টিটুকে আরও ৩ দিনের রিমান্ড

পরিকল্পনা অনুযায়ী নিজাম এবং আমজেদ ২১ অক্টোবর রাতে দীলিপ গাজীর বাড়িতে যান এবং সেভেন আপের বোতলের মধ্যে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে তারা। ওই রাতেই সেখান থেকে পালিয়ে নিজাম ও আমজেদ আমতলীতে গিয়ে আনোয়ার হোসেন প্যাদান কাজ থেকে বাকি টাকা নিয়ে যার যার গন্তব্যে চলে যান তারা।

জিএম/এম   

RTVPLUS