logo
  • ঢাকা সোমবার, ৩০ নভেম্বর ২০২০, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

সভাপতি-শিক্ষকদের শাস্তিতে অসুস্থ ২৫ শিক্ষার্থী, ৪ জন জেল হাজতে 

সভাপতি-শিক্ষকদের শাস্তিতে অসুস্থ ২৫ শিক্ষার্থী, ৪ জন জেল হাজতে 
ফাইল ছবি
কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় চানাচুর চুরির অভিযোগে মাদরাসার সভাপতি ও শিক্ষকরা ৬০ জন শিক্ষার্থীকে মাথা নিচে পা উপরে (হেড-ডাউন) করে আধা ঘণ্টা শাস্তি দেন। এতে ২৫ জন শিক্ষার্থী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। এসময় কারও বমি, কারও নাক-মুখ দিয়ে রক্ত বের হয়। পরে শিক্ষার্থীদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসেন এবং স্থানীয়রা এমন নির্যাতনের প্রতিবাদে ওই মাদরাসাটি ঘেরাও করে রাখেন। পরে তারা থানায় খবর দিলে পুলিশ এসে শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।

সোমবার (১৯ অক্টোবর)  রাতে বুড়িচং উপজেলার শংকুচাইল আশ্রাফুল উলুম হাফেজিয়া নুরানীয়া ফুরকানিয়া মাদরাসা ও এতিমখানায় এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় ওই মাদরাসার সভাপতিসহ চারজন শিক্ষককে আটক করে থানায় নিয়ে যান পুলিশ। পরে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন এক শিক্ষার্থীর বাবা। মঙ্গলবার তাদের আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক তাদের জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আসামিরা হলেন- মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. বাদশা মিয়া, শিক্ষক মো. মোতালেব, মো. মিজানুর রহমান ও হাফেজ মো. সফিকুল ইসলাম।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ওই মাদরাসার শিক্ষার্থী ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার বাগড়া গ্রামের জহিরুল ইসলামের ছেলে মো. আল-আমিন (১০) কয়েকদিন ছুটি কাটিয়ে বাড়ি থেকে তার মায়ের সঙ্গে মাদরাসায় এসে যোগদান করেন। এসময় আল-আমিনের মা একটি চানাচুরের প্যাকেট তার ছেলেকে কিনে দেন। আল-আমিন তার মাকে রাস্তায় এগিয়ে দিয়ে এসে দেখতে পায় মায়ের দেয়া চানাচুরের প্যাকেটটি’কে যেন নিয়ে গেছে। সাথে সাথে তার মাকে ফোন করে জানালে তিনি রাস্তা থেকে ফিরে আসেন এবং মাদরাসার সভাপতি ও শিক্ষকদের ঘটনাটি জানান। পরে সন্ধ্যার দিকে মাদরাসার সভাপতি ও শিক্ষকরা চানাচুর চুরি করার অপরাধে ৬০ জন শিক্ষার্থীদের মাথা নিচে করে পা উপরে দিক করে ( হেড-ডাউন) আধা ঘণ্টা শাস্তি দেন। 

বুড়িচং থানার ওসি মো. মোজাম্মেল হোসেন জানান, এ ঘটনায় এক শিক্ষার্থীর বাবা মো. ফিরোজ মিয়া বাদী হয়ে বুড়িচং থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মঙ্গলবার ওই মামলায় মাদরাসা কমিটির সভাপতি ও শিক্ষকদের আদালতের মাধ্যমে জেল-হাজতে পাঠানো হয়।

জিএম/এসএস

RTVPLUS