logo
  • ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২০, ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

পাবনায় ৬ দফা দাবিতে মহা সমাবেশ: বিড়ি ও সিগারেটে দ্বৈতনীতি চলবে না 

Image of the General Assembly
মহাসমাবেশের চিত্র
কিছু সংখ্যক আমলার কারণে বিড়ি ও সিগারেটে দ্বৈতনীতি চলছে অভিযোগ করে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সামসুল হক টুকু এমপি বলেছেন, অসহায় গরীবের বিড়িতে কর বাড়িয়ে বহুজাতিক কোম্পানির সিগারেটকে বাজার দখলের সুযোগ দেয়া হচ্ছে। সকালে পাবনার দোয়েল কমিউনিটি সেন্টার মাঠে বিড়ি মজদুর ইউনিয়নের মহাসমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।

পাবনা জেলা মজদুর ইউনিয়নের সভাপতি মো. হারিক হোসেনের সভাপতিতে মহাসমাবেশে পাবনা সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মোশারোফ হোসেন, বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি এমকে বাঙ্গালী, ফেডারেশনের কার্যকরী সভাপতি আমীন উদ্দিন বিএসসি, ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান, পাবনা জেলা বিড়ি শিল্প মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম রাসেল, পাবনা জেলা বিড়ি মজদুর ইউনিয়নের উপদেষ্টা মুজিবর রহমান। এছাড়া কেন্দ্রীয়, জেলা, উপজেলা, টাঙ্গাইল, রংপুর জেলাসহ পার্শ্ববর্তী জেলার বিড়ি শ্রমিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য রাখেন গোলাম হাসনাত লাভলু, প্রদীপ সাহা, মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, দুলাল হোসেন, লুৎফর রহমান, রূপালি বেবি, চুমকি খাতুন প্রমুখ। অনুষ্ঠানে হাজার হাজার বিড়ি শ্রমিক নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় বিড়িতে বাড়তি ৪ টাকা মূল্যস্তর প্রত্যাহার, শ্রমিকদের মজুরী বৃদ্ধি ও বিড়িকে কুটির শিল্প ঘোষণাসহ ৬ দফা দাবি এক মাসের মধ্যে মানা না হলে, অবরোধসহ কঠোর আন্দোলনের হুশিয়ারি দেন নেতারা।

বাংলাদেশ বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশনের দাবির প্রতি একাত্মতা ঘোষণা করে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এ্যাডভোকেট সামসুল হক টুকু এমপি বলেন, “বিড়ি শ্রমিকদের আগের অবস্থা আর এখনকার অবস্থায় অনেক পার্থক্য। যারা সেবা করেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বিকাশ ঘটানোর প্রচেষ্টা করেন, সংসারের হাল পরিচালনা করেন; আজ বিড়ি শ্রমিকের সেই মা বোনরা চরমভাবে বঞ্চিত হচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদে বলেছিলেন, “বিড়ির সাথে লক্ষ লক্ষ শ্রমিক নিয়োজিত। তিনি তাদের অবস্থা মর্মে মর্মে উপলব্ধি করে বলেছিলেন, “বিড়ি শ্রমিকদের বিকল্প কাজের ব্যবস্থা করতে হবে। বিড়িতে কর বৃদ্ধি না করে সিগারেটে বৃদ্ধি করতে হবে। আমরা বিড়ি শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির সাথে এক হাজার বার একমত।

দুর্নীতিবাজ প্রশাসনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা রাজনীতি করি; তাই তাদের বিরুদ্ধে কথা বললে মামলা হয়। কিন্তু আপনারা তাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করবেন। তাদের ডু’য়েল রোল চলতে দেওয়া যাবে না। সিগারেট কোম্পানির ধান্দাবাজি করতে দেব না। সিগারেট কোম্পানি বিড়ির বাজার দখল করে নিয়ে নিয়েছে। এ পথ রুদ্ধ করতে হবে। সিগারেটের কর এবং বিড়ির করের দ্বৈতনীতি থাকা উচিত নয় বলে উল্লেখ করেন তিনি। শ্রমিকদের বঞ্চিত না করে মজুরি বৃদ্ধি করার জন্য বিড়ি মালিকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পাবনা সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মোশারোফ হোসেন বলেন, বিকল্প কাজ ছাড়া বিড়ি শিল্প বন্ধ করে লক্ষ লক্ষ মা বোন শ্রমিকদের বেকার করা যাবে না। বিড়ি শিল্প বন্ধ হোক আপত্তি নেই; কিন্তু তাদের বিকল্প ব্যবস্থা করতে হবে।

বাংলাদেশ বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি এমকে বাঙ্গালী বলেন, ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর ঠিকই। কিন্তু বিড়ি আগে বন্ধ করে দিয়ে সিগারেটের প্রতি কেন আনুকূল্য দেখানো হচ্ছে? বিড়িতে বেশি ট্যাক্স বৃদ্ধি কওে সিগারেটে কেন কম ট্যাক্স বৃদ্ধি করা হচ্ছে? এ দ্বৈতনীতি আমরা মানি না।

তিনি বলেন, যতদিন সিগারেট থাকবে; ততদিন বিড়িও থাকবে। এসময় তিনি ২০২০-২০২১ অর্থবছরের বাজেটে ধার্যকৃত অতিরিক্ত ৪ টাকা প্যাকেট মূল্যস্তর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার, বিড়ি শ্রমিকদের সপ্তাহে ৬ দিন কাজের ব্যবস্থা, বিড়ি শ্রমিকদের মজুরী বৃদ্ধি, বিড়ির উপর অর্পিত ১০% অগ্রিম আয় কর প্রত্যাহার, বঙ্গবন্ধুর চালুকৃত বিড়িকে কুটির শিল্প হিসেবে ঘোষণাসহ ৬ দফা দাবি জানান।

আবদুর রহমান বলেন, এনবিআরের চেয়ারম্যানের কারণে বিড়ি শিল্প ধ্বংস হচ্ছে। অমাদের কোন কথায় কর্ণপাত করছেন না। আগামী এক মাসের মধ্যে আমাদের দাবী না মানলে আমরা অবরোধ করবো। সারা দেশের যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেব। বক্তারা বিড়ি শ্রমিকদের দুঃখ দুর্দশার কথা তুলে ধরে বক্তব্য প্রদান করেন। 

জিএ

RTVPLUS