logo
  • ঢাকা শুক্রবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২০, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

এই বয়সেই এতোগুলো জাতীয় পুরস্কার নৈঋতার!

At this age so many, national awards, rtv news
নৈঋতা হালদার
টাঙ্গাইল পুলিশ লাইনস আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির মেধাবী ছাত্রী নৈঋতা হালদার এবার স্কাউট প্রতিযোগিতার সর্বোচ্চ পদক প্রেসিডেন্ট’স্কাউট অ্যাওয়ার্ড পেল। অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি মাত্র ১০ বছরের শিক্ষা জীবনে নৈঋতা অর্জন করলো ১১টি জাতীয় পুরস্কার। জেলা শহরে থেকে এটি অত্যন্ত কঠিন ও বিরল ঘটনা।

সারা দেশে টাঙ্গাইলের মুখ উজ্জ্বল করায় তাকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন জেলাবাসী।

জানা যায়, নৈঋতা হালদার চতুর্থ শ্রেণিতে পড়াকালীন ২০১৪ সালে অভিনয়ে শ্রেষ্ঠ, অষ্টম শ্রেণিতে ২০১৮ সালে শ্রেষ্ঠ এবং নবম শ্রেণিতে ২০১৯ সালে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে। ২০১৫ সালে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়াকালীন উপস্থিত বক্তৃতা এবং কবিতা আবৃত্তিতে দ্বিতীয় হয়। ২০১৯ সালে নবম শ্রেণিতে পড়াকালীন লোকনৃত্যে তৃতীয় ও দশম শ্রেণিতে ২০২০ সালে স্কাউটের প্রতিভা অন্বেষণে উচ্চাঙ্গ নৃত্যে প্রথম হয়েছে। স্কাউটিং এ ২০১৫ সালে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়াকালীন শাপলা কাব, অষ্টম শ্রেণিতে ২০১৮ সালে সমাজ উন্নয়ন এবং দশম শ্রেণিতে প্রেসিডেন্টস অ্যাওয়ার্ড-২০১৯ পেয়েছে। নবম শ্রেণিতে পড়াকালীন ২০১৯ সালে দেশের শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থীর মুকুট অর্জন করে। বিস্ময়কর হলো ২০১৯ সালে একবছরে জাতীয়ভাবে তিনটি পদে পুরস্কার পাওয়া দেশের একমাত্র শিক্ষার্থী হলো নৈঋতা হালদার। ফ্রান্সের প্যারিসে আন্তর্জাতিক ডিজিটাল আর্ট প্রতিযোগিতায় তার শিল্পকর্ম মনোনীত হয়েছে।

বাবা অরিন্দম হালদার ও মাতা চিনু রানী বিশ্বাসের একমাত্র মেয়ে নৈঋতার জন্ম ২০০৫ সালের চার মে মির্জাপুরের বহনতলী গ্রামে মামা বাড়িতে। পৈতৃক নিবাস মাদারীপুরে। মা সরকারি সা’দত বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষিকা। মায়ের চাকরির সুবাদে নৈঋতার বেড়ে ওঠা টাঙ্গাইলেই।

২০১৫ সালে কুর্নি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে সমাপনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে মির্জাপুর উপজেলায় প্রথম স্থান অধিকার করে এবং ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পায়। এরপর টাঙ্গাইল পুলিশ লাইনস আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০১৮ সালে জেএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন জিপিএ-৫ এবং ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিপ্রাপ্ত হয়। প্রথম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে রোল নম্বর এক। ২০১৯ সালের সৃজনশীল মেধা অন্বেষণ প্রতিযোগিতায় ভাষা ও সাহিত্যে টাঙ্গাইল জেলায় প্রথম স্থান অধিকার করে। এছাড়া জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে পেয়েছে অসংখ্য পদক-পুরস্কার। নৈঋতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং শিক্ষামন্ত্রীর হাত থেকে চারবার করে পুরস্কার গ্রহণ করেছে। সরকারি শিক্ষা সফরে গিয়েছে বিদেশ।

ধরাবাঁধা কোনো নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন একবারেই অপছন্দ নৈঋতার। কিন্তু সময়ের মূল্য অক্ষরে অক্ষরে দিতে অভ্যস্ত। বিদ্যালয়ের পড়া শেষ না করে বসে পরলো ছবি আঁকতে আবার ছবি আঁকা শেষ না করেই মগ্ন হয়ে যায় গান-নৃত্যে।

এই বয়সে বাংলা ইংরেজির পাশাপাশি সে আয়ত্ব করেছে হিন্দি, উর্দু আর জাপানি ভাষা। বই পড়ে কিছুটা কোরিয়ান ভাষাও বলতে পারে। অবসরে কবিতা, গল্প লিখতে পছন্দ। ২০১৯ সালে ফেব্রুয়ারিতে নৈঋতার লেখা ‘ময়না আমার বাবুই সোনা’ নামের একটি গল্পের বই প্রকাশিত হয়েছে। টাঙ্গাইল জেলা শিল্পকলা একাডেমি, সিডিসি ক্লাব এবং জেলা শিশু নাট্যদলের তত্ত্বাবধানে নিয়মিত গান, নাচ ও অভিনয় চর্চা করে থাকে।

পুলিশ লাইনস আর্দশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আব্দুল কাদের বলেন, নৈঋতার মতো অল সাইডে এতো মেধাবী শিক্ষার্থী আমাদের স্কুলে কখনও আসেনি। আমার জানা মতে, এতোগুলো ইভেন্টে জাতীয় পুরস্কার পাওয়া দেশের একমাত্র ছাত্রী ওই।

বাংলাদেশ স্কাউট টাঙ্গাইল জেলার কমিশনার ওয়াজেদ আলী খানশুর (লিডার ট্রেইনার) বলেন, নৈঋতা শব্দের অর্থ মহীয়সী নারী। মেধার সঙ্গে অক্লান্ত পরিশ্রম এবং রত্নগর্ভা মায়ের প্রচেষ্টায় সেই পথেই এগিয়ে যাচ্ছে মেয়েটি। ওর সাফল্যে স্কাউটসহ আমরা জেলাবাসী অত্যন্ত খুশি। 

নৈঋতার গর্বিত মা চিনু রানী বিশ্বাস বলেন, ‘ও যেন মানুষের মতো মানুষ হয়ে দেশ ও জাতির সেবা করতে পারে সেই কামনা করি। সবার কাছে  আশীর্বাদ চাই।’

টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার ও পুলিশ লাইনস আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি সঞ্জিত কুমার রায় বলেন, নৈঋতা দেশের সম্পদ। ওর প্রতিভা বিকাশের সুযোগ ও পরিবেশ আমাদের তৈরি করে দিতে হবে। বড় হলে দেশের জন্যে মেধাকে কাজে লাগাতে হবে।

টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক আতাউল গণি বলেন, দেশের অনেক নামিদামি প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীদের পেছনে ফেলে টাঙ্গাইলের মেয়ের এ অর্জন অত্যন্ত গৌরবের বিষয়। পুরো টাঙ্গাইলবাসীর মুখ উজ্জ্বল করেছে। এতে অন্য ছাত্রছাত্রীরা অনুপ্রাণিত হবে। আমরা নৈঋতা হালদারকে আরও উৎসাহ দেব। আমার বিশ্বাস মেধা ও কর্ম দ্বারা একদিন দেশের সীমানা ছাড়িয়ে নৈঋতার সুনাম সারা বিশ্বে প্রতিষ্ঠিত হবে।

কৃতি ছাত্রী নৈঋতা হালদার বলে, এই প্রাপ্তিতে আমি খুবই খুশি। আর সকল কৃতিত্ব আমার মায়ের। যিনি আমাকে বন্ধুর মতো সব কিছুতেই আগলে রাখেন।

নিজের স্বপ্ন নিয়ে নৈঋতা বলেন, আমি বড় হয়ে পররাষ্ট্র সচিব হতে চাই। কারণ আমার প্রিয় বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ। বিশ্বের সঙ্গে আমাদের কূটনৈতিক সম্পর্ক যতো শক্তিশালী এবং পারস্পরিক বিনিময় তরান্বিত হবে এদেশ ততই উন্নত হবে। আমি সেই কাজে অংশ নিতে চাই। বড় হয়ে আমি অসহায় মানুষের জন্যে কাজ করব।

অন্য ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দেশে নৈঋতা বলেন, আমি কখনও সময় অপচয় করি না। প্রকৃতিকে ভালোবাসি। এতে মন উদার হয়।

জেবি

RTVPLUS