ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

কুয়াকাটা পর্যটন কেন্দ্র অপরাধীদের ঘাঁটি, দেড় বছরে ১১ লাশ 

মুফতী সালাহউদ্দিন

প্রকাশ : ০৭ অক্টোবর ২০২০, ০৯:৪৮ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা পর্যটনকেন্দ্র এখন অপরাধী চক্রের নিরাপদ ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে এবং দিনে দিনে বাড়ছে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড।

কুয়াকাটার তৃতীয় স্তরের আবাসিক হোটেলগুলোতে নিরাপদ ঘাঁটি বানিয়ে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে ওইসব অপরাধী চক্র একের পর এক অপরাধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।

মাঝে মধ্যে ছিচকে অপরাধীরা র‌্যাব-পুলিশের জালে ধরা পড়লেও রাঘব-বোয়ালরা ঠিকই থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। এ কারণে কুয়াকাটা পর্যটন এলাকার হোটেলসহ সৈকত এলাকায় মিলছে জ্ঞাত ও অজ্ঞাত লাশসহ মাদক কেনাবেচা, চোরাচালান ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের ঘটনা। সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে দু’টি আবাসিক হোটেল থেকে জোড়া লাশ উদ্ধারসহ গত দেড় বছরে কুয়াকাটার পর্যটন স্পট থেকে ১১টি লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

একই স্থানে দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের দেখার মনোরম দৃশ্য একমাত্র সমুদ্র সৈকত সাগরকন্যা কুয়াকাটা দেখা যায়। এ কারণেই সব ঋতুতে পর্যটনপ্রেমীরা ছুটে আসে কুয়াকাটায়। পর্যটন এলাকার সুবাদে এখানে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কড়াকড়িটা একটু শিথিল থাকে। আর এ সুযোগটি ব্যবহার করে বিভিন্ন অঞ্চলের অপরাধী চক্র এখানে অবস্থান নেয় এবং একের পর এক অপরাধ সংঘটিত করে এলাকা ত্যাগ করে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, সর্বশেষ গত ২৬ সেপ্টেম্বর কুয়াকাটা সৈকতের ঝাউবাগানে অজ্ঞাত যুবকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এর আগে গত ২১ সেপ্টেম্বর দু’টি আবাসিক হোটেল থেকে মো. মানিক (৪৫) ও সৌরভ জামিল সোহাগ (৪৭) নামের দুই পর্যটকের লাশ উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে আবাসিক হোটেল আল্লার দান থেকে উদ্ধারকৃত মো. মানিকের বাড়ি চট্টগ্রাম জেলার বাঁশখালী থানার সনুয়া গ্রামে এবং সাউথ বাংলা আবাসিক হোটেল থেকে উদ্ধারকৃত সৌরভ জামিল সোহাগের বাড়ি খুলনার দৌলতপুরে।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, সৌরভ জামিল সোহাগকে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী খুলনা থেকে কুয়াকাটা এনে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করা হয়। ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে যমুনা হোটেল থেকে দুই পতিতা ও চার খদ্দেরকে আটক করে পুলিশ। ৯ সেপ্টেম্বর জেলা পরিষদের কথিত লিজ নেওয়া আবাসিক হোটেল ঝিনুক ডাকবাংলো থেকে পতিতা-খদ্দের ও হোটেল ম্যানেজারসহ পাঁচজনকে আটক করে পুলিশ। গেলো চার সেপ্টেম্বর আবাসিক হোটেল পাঁচতারা থেকে বন্যপ্রাণী তক্ষকসহ এক পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ১৭ আগস্ট আবাসিক হোটেল সাগরের একটি কক্ষে রাঙ্গাবালীর এক মাদরাসাছাত্রীকে গণধর্ষণের ঘটনা ঘটে। ২৪ আগস্ট একই হোটেলে পটুয়াখালীর লাউকাঠি ইউনিয়নের মিঠাখালী গ্রামের এক শিশুকন্যাকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়েছে। আবাসিক হোটেল বিশ্বাস সি প্যালেসে এক নারীর হাতে জনৈক পর্যটকের লিঙ্গ কর্তনের ঘটনাও ঘটেছে। আবাসিক হোটেল রাজু ও সাগর নীড় হোটেলে স্কুলছাত্রীকে গণধর্ষণের ঘটনায় ওই ছাত্রীর মা ২৫ আগস্ট আমতলী থানায় অপহরণ ও ধর্ষণ মামলা করে। হোটেল হলিডে ইন’এ সংখ্যালঘু এক নারীকে বিয়ের প্রলোভনে হোটেল কক্ষে নিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যায় কথিত প্রেমিক। এছাড়া পায়রা আবাসিক হোটেলে বান্ধবীকে নিয়ে বেড়াতে এসে অতিরিক্ত মাদকসেবনে খুলনার এক যুবকের মৃত্যু হয়। সান ফ্লাওয়ার হোটেলে সাতক্ষীরা শ্যামনগর এলাকার পর্যটক মোবারক হোসেন লেম্বুর বনের জঙ্গলে আত্মহত্যা করে। এর আগেও লেম্বুর বনে নাম পরিচয়হীন এক পর্যটকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। সিকদার রিসোর্ট অ্যান্ড ভিলাসের ছয় তলার ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে চীনা নাগরিকের আত্মহত্যারও ঘটনা রয়েছে। কুয়াকাটা সৈকতের গঙ্গামতি রিজার্ভ ফরেস্ট এলাকা থেকে এক কলেজছাত্রীর লাশ এবং গঙ্গামতির চর থেকে গর্ভবতী এক নারীর লাশ উদ্ধারের নজির রয়েছে এই পর্যটন এলাকায়। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে সৈকতে ভেসে ওঠা অজ্ঞতনামা একাধিক লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। অন্যদিকে সমুদ্রে ট্রলারযোগে আসা ইয়াবার বিশাল দু’টি চালান সড়ক পথে মহিপুর ও কলাপাড়া থেকে র‌্যাব-৮ আটক করে। কোস্টগার্ডের অভিযানে ভারতীয় শাড়ি ও পণ্যসামগ্রী আটক করা হয়। যার একটি চালান এখনও মহিপুর থানায় জব্দের তালিকায় রয়েছে। এছাড়াও পুলিশের হাতেও একাধিকবার ইয়াবার ছোট-বড় চালান আটকের নজির রয়েছে এই কুয়াকাটায়। এমনিভাবে আবাসিক হোটেল আল-মদিনায় ঢাকার আশুলিয়ার কান্তা বিউটি পার্লারের মালিক মার্জিয়া কান্তাকে স্বামী ও তার মামাত দেবর হত্যা করে পালিয়ে যায়।

এ ব্যাপারে কুয়াকাটা ট্যুরিজম ম্যানেজমেন্ট অ্যসোসিয়েশনের সভাপতি মো. নাসির উদ্দিন বিপ্লব বলেন, ‘কুয়াকাটায় একাধিক লাশ উদ্ধার হলেও প্রকৃতপক্ষে তা ট্রলার ডুবিসহ অন্যান্য ঘটনায় ঘটেছে। এসব ঘটনার সঙ্গে পর্যটক এলাকার কোন সম্পৃক্ততা নেই। তাই এখানে পর্যটকদের আতঙ্কিত হওয়ারও কিছু নেই’।

কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এম.এ মোতালেব শরীফ বলেন, ‘কুয়াকাটার বিভিন্ন হোটেলসহ পর্যটন এলাকায় যেসব অপরাধ সংঘটিত হয়েছে এগুলোর সঙ্গে স্থানীয় কোনও লোকজনের সম্পৃক্ততা নেই। হত্যাকারী বাইরে থেকে পরিকল্পিতভাবে এখানে এসে এসব ঘটনা ঘটিয়ে আবার পালিয়ে যাচ্ছে। এসব ঘটনার পর পুলিশ প্রশাসন ও আমরা হোটেল মালিকরা অনেক সতর্ক অবস্থায় রয়েছি।

কুয়াকাটায় ১৩০টি হোটেল-মোটেল রয়েছে। অথচ এর মধ্যে ৬৭টি হোটেল-মোটেলের বৈধ লাইসেন্স রয়েছে। বাকিগুলোর কোনও লাইসেন্স নেই। এর ফলে ওইসব হোটেল-মোটেলের কোনও জবাবদিহিতা না থাকায় হোটেল-মোটেলে অপরাধের সংখ্যা বাড়ছে। এদেরকে লাইসেন্সের আওতায় আনতে পারলে অপরাধের সংখ্যা অনেক কমে যাবে’।

কুয়াকাটা পৌরসভার মেয়র আবদুল বারেক মোল্লা বলেন, ‘কুয়াকাটায় পর্যটকদের জন্য তিন স্তরের নিরাপত্তা রয়েছে। তাই এখানে খুন-গুম ও চোরাচালন নিয়ে পর্যটকদের উদ্বিগ্ন ও চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই। কুয়াকাটার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সুন্দর ও স্বাভাবিক রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশের ইনচার্জ বদরুল কবির জানান, কুয়াকাটায় আগত পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্যুরিস্ট পুলিশ বদ্ধপরিকর এবং পর্যটকরা যাতে নির্বিঘ্নে আনন্দ উপভোগ করতে পারেন সে জন্য সর্বাত্মক কাজ করছে ট্যুরিস্ট পুলিশ। এছাড়া বিভিন্ন হোটেলে-মোটেলে, বীচে বা সৈকতে যেসব লাশ পাওয়া গেছে কিংবা মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যাতে কোনও অবনতি না ঘটে সে বিষয়েও নজর রাখছে ট্যুরিস্ট পুলিশ।

এ ব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কলাপাড়া সার্কেল) আহমেদ আলী জানান, এই মুহূর্তে লাশের সংখ্যা বলতে পারবো না। কুয়াকাটা পর্যটন এলাকা বিধায় বিভিন্ন এলাকা থেকে বিভিন্ন ধরনের মানুষ আসে। কে কি উদ্দেশ্য নিয়ে এখানে আসে তা বলা ও বোঝা মুশকিল। তাই পুলিশ প্রশাসনের পাশাপাশি হোটেল মালিক, স্থানীয় লোকজন ও সংবাদকর্মী সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। তাহলেই কোনও অপরাধী কর্মকাণ্ড ঘটবে না।

জেবি

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
শিক্ষকের পরিবারের নারী সদস্যকে গালিগালাজ, এলাকাবাসীর মানববন্ধন
মাদারীপুরে একেডি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাবুল চন্দ্র নাগ ও তার পরিবারের নারী সদস্যকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও হত্যার হুমকি দেয়ার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে শিক্ষার্থী-শিক্ষক, অভিভাবক ও এলাকাবাসী।  বৃহস্পতিবার কালকিনি উপজেলার ডাসার থানাধীন দর্শনা বাজারে এই মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করা হয়। ব্যানার-ফেস্টুন হাতে ঘণ্টাব্যাপী চলা মানববন্ধনে প্রধান শিক্ষক ও তার পরিবারকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও হত্যার হুমকি দেয়ার প্রতিবাদ জানানো হয়।  এ সময় বক্তারা দ্রুত এই ঘটনার সাথে জড়িত ও অভিযুক্ত ডাসার ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান কাজী সবুজের বিচার দাবী করেন। গত ২৮ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৭টার দিকে বিদ্যালয়ের কমিটি করাকে কেন্দ্র করে কালকিনি উপজেলার ডাসার ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান কাজী সবুজ একেডি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাবুল চন্দ্র নাগের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের নারী সদস্যসহ প্রধান শিক্ষককে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও হত্যার হুমকি দেন বলে অভিযোগ ওঠে। এরই প্রতিবাদ ও দোষীর বিচারের দাবীতে অনুষ্ঠিত হয় এই মানববন্ধন। উল্লেখ, ২০১৭ সালের ১৭ অক্টোবর ইয়াবাসহ ডাসার থানা পুলিশের হাতে আটক হয় ইউপি চেয়ারম্যান কাজী সবুজ। পরে পুলিশের দায়ের করা মামলায় তাকে পাঠানো হয় কারাগারে। এর আগে ২০১১ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর চুরি, ডাকাতি ও অস্ত্র মামলায় তাকে গ্রেফতার করে জেলার  গোয়েন্দা পুলিশ। এছাড়া তার বিরুদ্ধে মাদক সেবন ও বিক্রিসহ নানা অভিযোগে এনে পদত্যাগ দাবী করে একাধিকবার বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেন এলাকাবাসী। তবুও টনক নড়েনি প্রশাসনের। জিএ
শিক্ষকের পরিবারের নারী সদস্যকে গালিগালাজ, এলাকাবাসীর মানববন্ধন
দেশের প্রথম বঙ্গবন্ধু নৌকা জাদুঘরের উদ্বোধন
দেশের প্রথম বঙ্গবন্ধু নৌকা জাদুঘরের উদ্বোধন করা হয়েছ। মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে উপকূলীয় জেলা বরগুনায় নির্মাণ করা হয়েছে এ জাদুঘরের। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন নকশার একশ’টি নৌকার অনুকরণে শুরু হল এই জাদুঘরের। বরগুনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সংলগ্ন ৭৮ শতাংশ জমির ওপর স্থাপন করা হয়েছে জাদুঘরটি। বিশাল নৌকার আদলে তৈরি এ জাদুঘরটির দৈর্ঘ্য ১৬৫ ফিট এবং প্রস্থ ৩০ ফিট। এখানে থাকবে নৌকা গবেষণা কেন্দ্র, আধুনিক পাঠাগার, বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ কর্নার, শিশু বিনোদন কেন্দ্র এবং ফুড কর্নারসহ নানা আয়োজন। জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহর পরিকল্পনা ও প্রচেষ্টায় মহামারি করোনা প্রতিকূলতার মাঝেও মাত্র ৮১ দিনে সম্পন্ন হয় দেশের প্রথম নৌকা জাদুঘর নির্মাণের কাজ। বৃহস্পতিবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকালে জাদুঘরটির উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক। এসময় জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ স্থানীয় সামাজিক সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। নদীমাতৃক দেশের প্রধান বাহক হিসেবে হাজার হাজার বছর ধরে ব্যবহার হয়ে আসছে এই নৌকা। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ও পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে দুঃসাহসিক বিভিন্ন অভিযানে নৌকা ব্যবহার করেছেন মুক্তিযোদ্ধারা। দেশের ইতিহাস-ঐতিহ্যের সাথে মিশে আছে এই নৌকা। বঙ্গবন্ধু জাদুঘরটির মাধ্যমে বিলুপ্তপ্রায় বিভিন্ন অনুকরণের নৌকার দেখা পাবে দেশের নতুন প্রজন্মরা- এমনটাই ভাবছেন স্থানীয় সচেতন মহল। জিএ 
দেশের প্রথম বঙ্গবন্ধু নৌকা জাদুঘরের উদ্বোধন
ছুরিকাঘাতে কয়লা শ্রমিকের মৃত্যু, ছিনতাইকারী আটক
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে এহসানুল হক নামে এক কয়লা শ্রমিক হত্যকান্ডে জড়িত এক ছিনতাইকারীকে আটক করেছে পুলিশ।  বুধবার (৩০ ডিসেম্বর) রাতে শহরের চন্ডিবের খাঁ বাড়ি এলাকা থেকে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে আটক করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের প্রায় ৪৮ঘন্টা পর পুলিশ ঘটনার মুলহোতা এবং শহরের চিহ্নিত ছিনতাইকারী ইমনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। ইমন পৌর শহরের ভৈরবপুর মধ্যপাড়ার আড়াই বেপারীর বাড়ির মৃত মাসুদ মিয়ার ছেলে।  আজ বৃহস্পতিবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন ভৈরব থানার ওসি মো. শাহিন।  জানা গেছে, শহরের দুর্জয় মোড়ের পূর্ব পাশে গত সোমবার রাত সাড়ে দশটার দিকে এহসানুল হক নামে এক কয়লা শ্রমিক ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। নিহত শ্রমিক সুনামগঞ্জের বিশম্ভপুর উপজেলার বাঘগাঁও গ্রামের হিরু মিয়ার ছেলে। বিয়ের মাত্র দুই মাস পর নিহত এহসানুল তার এক চাচাসহ তারা দু’জন গত দু’সপ্তাহ আগে ভৈরবে কাজের সন্ধানে এসে ছিলেন। পরে কয়েক দিন শ্রমিকের কাজ করে কিছু টাকা জমান। পরে জমানো টাকা নিয়ে গত সোমবার রাতে তারা দুর্জয় মোড় থেকে বাড়ী যাবার সময় বাসে উঠার আগে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ে। একই সাথে ছিনতাইকারীদের ধারালো ছুরির আঘাতে এহসানুল গুরুতর আহত হয়। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন।  এ ঘটনায় পরের দিন মঙ্গলবার দুপুরে উত্তেজিত শত শত কয়লা শ্রমিকরা হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। ফেরিঘাট থেকে মিছিল নিয়ে শ্রমিকরা ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের দুর্জয় মোড় প্রদক্ষিণ করে ভৈরব থানায় প্রবেশ করে। পরে পুলিশ হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করার আশ্বাস দিলে তারা ফিরে যায় এবং কাজে যোগ দেয়।  এছাড়াও এদিন (মঙ্গলবার) রাতেই নিহতের চাচা আজিজুল হক বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা দু’জনকে আসামি করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মুঠোফোনে ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শাহিন জানান, ঘটনার পর থেকেই পুলিশ মাঠে নামে এবং প্রকৃত অপরাধীকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। জিএ
ছুরিকাঘাতে কয়লা শ্রমিকের মৃত্যু, ছিনতাইকারী আটক
পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় ১১ জন আটক
চট্টগ্রামের আকবরশাহ এলাকায় পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় শীর্ষ সন্ত্রাসী নুরুর ১১ সহযোগীকে দেশীয় অস্ত্রসহ আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৩১ ডিসেম্বর) ভোর ৫টার দিকে ঝিল এলাকার গহীন পাহাড়ে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ইয়াবা, ছুরি, চাপাতি সহ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ। গত শনিবার শীর্ষ সন্ত্রাসী ও ১৭ মামলার আসামি নুরুকে খুঁজতে গেলে পুলিশের উপর হামলা চালায় তার সহযোগীরা। এ সময় ৪ পুলিশ সদস্য আহত হয়। এসময় আটক করা হয় নুরুর সেকেন্ড ইন আজমকে।  আটককৃতদের মধ্যে হামলার ঘটনায় কয়েকজন জড়িত বলে জানিয়েছেন আকবরশাহ থানার ওসি জহির হোসেন।   পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় শনিবার রাতে আকবর শাহ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঝিল এলাকায় সরকারী পাহাড়া কেটে আলিশান বাড়ী, সেমিপাকা ঘর, মসজিদ, এতিমখানা ও গরু-ছাগলের খামার তৈরি ও মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ রয়েছে নুরুর বিরুদ্ধে। জিএ
পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় ১১ জন আটক
নারায়ণগঞ্জে মসজিদে বিস্ফোরণ: সিআইডির চার্জশিট, নাম নেই তিতাস কর্মকর্তাদের
নারায়ণগঞ্জে মসজিদে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় প্রায় চার মাস তদন্ত শেষে পুলিশের দায়ের করা মামলায় ২৯ জনকে আসামি করে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা সিআইডি পুলিশ। তবে চার্জশিট থেকে বাদ দেয়া হয়েছে তিতাস গ্যাসের অভিযুক্ত ৮ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে। বৃহস্পতিবার (৩১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের আদালতে চার্জশিট দাখিল করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডির নারায়ণগঞ্জ শাখার তদন্ত দল। চার্জশিটে প্রধান আসামি করা হয়েছে ওই মসজিদের পরিচালনা কমিটির সভাপতি আবদুল গফুর মিয়াকে (৬০)।  মামলায় প্রধান আসামি আবদুল গফুর মিয়া ছাড়াও অন্যান্য আসামিরা হলেন- সামসুদ্দিন সরদার (৬০), শামসু সরদার (৫৭), শওকত আলী (৫০), অসিম উদ্দিন (৫০), জাহাঙ্গীর আলম (৪০), শফিকুল ইসলাম উজ্জ্বল (৪৫), নাঈম সরদার (২৭), কাইয়ুম (৩৮), মামুন মিয়া (৩৮), আলমগীর সিকদার (৩৫), মাওলানা আল আমিন (৪৫), সিরাজ হাওলাদার (৫৫), নেওয়াজ মিয়া (৫৫), নাজির হোসেন (৫৬), আবুল কাশেম (৪৫), দেলোয়ার হোসেন, বশির আহমেদ (হৃদয়) (২৮), তানভীর আহমেদ (৪৫), আল আমিন (৩৫), আবদুল মালেক (৫৫), মনিরুল (৫৫), স্বপন মিয়া (৩৮), আসলাম আলী (৪২), আলী তাজম (মিল্কী) (৫৫), রিমেল (৩২), আরিফুর রহমান (৩০), মোবারক হোসেন (৪০) ও রায়হানুল ইসলাম (৩৬)।  তবে তাদের বিস্তারিত পরিচয় এখন পর্যন্ত প্রকাশ করা হয়নি। সিআইডি পুলিশের নারায়ণগঞ্জ জেলার বিশেষ পুলিশ সুপার নাসির উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সরকারি বিধিনিষেধ থাকায় তিতাসের অভিযুক্ত আট কর্মকর্তা-কর্মচারিকে আপাতত চার্জশীটে লিপিবদ্ধ করা না হলেও তাদেরকে মামলায় রাখা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে  অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অনুমোদন পেলেই তাদেরকে আসামি হিসেবে চার্জশীটে সম্পৃক্ত করা হবে। তবে ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি তিনি। নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক আসাদুজ্জামান জানান, সিআইডি আদালত পুলিশের কাছে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চার্জশিট জমা দিয়েছে। রোববার তা আদালতে পেশ করা হবে। উল্লেখ্য, গত ৪ সেপ্টেম্বর রাতে এশার নামাজ চলাকালে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লা থানার পশ্চিম তল্লা এলাকার বাইতুস সালাত জামে মসজিদে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। মসজিদের অভ্যন্তরে বিদ্যুতের অবৈধ সংযোগ থেকে স্পার্ক ও অবৈধ গ্যাস পাইপ লাইনের লিকেজ থেকে জমে থাকা গ্যাসের মিশ্রনে এই বিস্ফোরণ হয়েছে বলে জানিয়েছে তদন্ত সংস্থা সিআইডি পুলিশ। এই বিস্ফোরণে ৩৭ জন গুরুতর দ্বগ্ধ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলে তাদের মধ্যে ৩৪ জন মারা যান। জিএ
নারায়ণগঞ্জে মসজিদে বিস্ফোরণ: সিআইডির চার্জশিট, নাম নেই তিতাস কর্মকর্তাদের
আরও পড়ুন
আরও এক সপ্তাহ আন্তর্জাতিক ফ্লাইট স্থগিত করলো সৌদি
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে বঙ্গবন্ধুর বালু ভাস্কর্য
সমুদ্রপথে পাচারকালে ৩ লাখ ২২ হাজার ইয়াবাসহ নৌকা জব্দ
চট্টগ্রামে বিচারকের ওপর হামলায় প্রতিবাদ জানিয়েছে ১১শ বিজেএস ফোরাম