logo
  • ঢাকা মঙ্গলবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২১, ৫ মাঘ ১৪২৭

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

  ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৫:২১
আপডেট : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৫:৫৭

৪৫ হেক্টর বনভূমির ৩২ কোটি টাকার গাছ ধ্বংস

Beneficiaries of social forestry in Ghatail, Tangail
ছবি: সংগৃহীত

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে সামাজিক বনায়নে উপকারভোগীদের বন বিভাগ অর্থ দিয়ে উপকার করতে না পারলেও চোখের জল উপহার দিয়েছে ঠিকই। সন্তানের মতো পরম যত্ন করে গড়ে তোলা গাছের বাগান বিরানভূমিতে পরিণত হতে খুব একটা সময় লাগেনি।

জানা যায়, ধলাপাড়া রেঞ্জের অধীনে বিট অফিস রয়েছে ছয়টি। ২০০৯-১০ অর্থবছরে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে উডলট বাগান সৃজন করে বন বিভাগ। ঝড়কা বিটের অধীনে সাতকুয়া, কোচখিরা ও মানাঝি মৌজায়  ৪৫ হেক্টর বনভূমিতে প্লট করে ১৭০ জন উপকারভোগীকে প্রদান করা হয়। হেক্টর প্রতি আড়াই হাজার গাছ ধরে ১০ বছর মেয়াদে বিভিন্ন প্রজাতির মোট এক লাখ সাড়ে ১২ হাজার চারা রোপণ করা হয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও নানা কারণে শতকরা ৩০টি গাছ মারা যায় বলে জানায় বন বিভাগ। ২০১৯-২০ অর্থবছরে বাগানের মেয়াদ পূর্ণ হয়।

বন সংশ্নিষ্টরা জানান, ভালো মানের একটি গাছের মূল্য ৮ থেকে ১০ হাজার এবং মানে খারাপ হলে সর্বনিম্ন চার হাজার টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। শতকরা ৩০টি গাছ বাদ দিয়ে গড়ে প্রতি গাছের মূল্য চার হাজার টাকা ধরে হিসাব করলে টাকার পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৩২ কোটি। সব বিট থেকে গাছ খোয়া গেলেও ঝড়কা বিটে নিলামে বিক্রি করার মতো কোনও গাছ নেই।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, কাঠচোরদের সঙ্গে বন কর্মকর্তাদের গোপন যোগসাজশে এমনটা হয়েছে। টেন্ডারের মাধ্যমে নিলাম করার মতো বাগানে কোনও গাছ নেই। শুধু উপকারভোগী নয় এ থেকে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারিয়েছে সরকার।

উপকারভোগী রফিকুল ইসলাম বলেন, বন কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় সন্ত্রাসীরা বাগানের সব গাছ কেটে নিয়ে গেছে। ভয়ে কিছুই বলতে পারিনি। বন কর্মকর্তাদের কাছে গাছ চুরির বিষয়ে অভিযোগ দিলে তারা উল্টো আমাদের গাছ চুরির মামলা দিয়েছে। কেউ প্রতিবাদ করারও সাহস পায় না।

এ বিষয়ে রেঞ্জ কর্মকর্তা এসএম হাবিবুল্লাহ আরটিভি নিউজকে বলেন, আমি এখানে যোগদান করার আগেই ওই ৪৫ হেক্টর বনের গাছ শেষ হয়েছে। ওই স্থানে নিলাম করার মতো কোনও গাছ নেই। ব্যক্তিগতভাবে আমার কারও সঙ্গে কোনও সখ্যতা নেই। আর বনের জমি কাউকে দেওয়ার ক্ষমতা আমার নেই।

জেবি

RTV Drama
RTVPLUS