logo
  • ঢাকা বুধবার, ২৫ নভেম্বর ২০২০, ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

মাঠে দুলছে সোনালী ধান, কৃষকের কপালে চিন্তার ভাঁজ

  সৈয়দ আশিক রহমান

|  ১৪ এপ্রিল ২০২০, ১৯:২৮ | আপডেট : ১৪ এপ্রিল ২০২০, ১৯:৪৫
মাঠে সোনালী ধান দুলছে, চিন্তার ভাঁজ কৃষকের কপালে
সৈয়দ আশিক রহমান
করোনার থাবায় বিশ্বজুড়ে চলছে লকডাউন, থমকে গেছে বিশ্ব অর্থনীতির চাকা, স্থবির হয়ে পড়েছে কর্মচঞ্চল মানুষের জীবনধারা। বন্ধ হয়ে গেছে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সব ব্যবসা-বাণিজ্য। এমন পরিস্থিতিতেও মাঠে কাজ করছেন কৃষক। করোনা এখনও দেশের কৃষি ও কৃষককে থামাতে পারেনি। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ডকে মেরামতের কাজে ব্যস্ত তারা। 

ক্ষেতের নতুন ফসলে কৃষকের মুখে হাসি ফোঁটে, স্বপ্ন বুনতে থাকেন আগামীর পথ চলার। কিন্তু, করোনার চোখ-রাঙ্গানী আর আগ্রাসণে কৃষকের সেই হাসি মলিনতার কালো মেঘের আড়ালে ঢেকে যাবার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। সুখের স্বপ্নে হানা দিয়েছে দুর্ভাবনা। 

রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে, মাথার ঘাম পায়ে ফেলে রাতদিন পরিশ্রম করে কৃষক ফসল ফলিয়েছে। কিন্তু করোনার প্রভাবে সেই ফসল এবার ঘরে তোলা নিয়ে দেখা দিয়েছে সংশয়। দুশ্চিন্তায় কপালে ভাঁজ পড়েছে কৃষকের। সারা দেশ কার্যত লকডাউন। ক্ষেতে সোনালী ফসল দুলছে, কিন্তু তা ঘরে তুলতে যে শ্রমিকের প্রয়োজন তার দেখা নেই কোথাও। 

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যানুসারে এবার হাওরের সাত জেলা কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বোরো আবাদ হয়েছে ৯ লাখ ৩৬ হাজার হেক্টর জমিতে। এর মাঝে শুধু হাওরেই ৪ লাখ ৪৫ হাজার হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। এ বছর সারাদেশে বোরো ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে ২ কোটি ৪ লাখ ৩৬ হাজার মেট্রিক টন। আর হাওর অঞ্চলে বোরো ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩৭ লাখ ৪৫ হাজার মেট্রিক টন। অর্থাৎ, লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ২০ ভাগের জোগান দেবে হাওর অঞ্চলের বোরো ধান। অথচ, হাওরে ধান কাটার শ্রমিক নেই। প্রতি বছর উত্তরবঙ্গ সহ বিভিন্ন জেলা থেকে এক লাখেরও বেশি শ্রমিক হাওর অঞ্চলে ধান কাটার কাজ করে। 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতোমধ্যেই এই সমস্যা উপলব্ধি করে কৃষক ও শ্রমিকের যাতায়াতের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি কৃষকের ফসল বিশেষ করে কাঁচা তরকারি যাতে সঠিকভাবে বাজারজাত করা যায় তার ব্যবস্থাও নিতে বলেছেন। এছাড়া কোনো জমি যাতে অনাবাদি পড়ে না থাকে সে ব্যপারে সবাইকে সতর্ক করেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। দেশের মানুষের সবজির চাহিদা পুরণ করে যেনো বাইরেও রপ্তানি করা যায় সেদিকেও মনোযোগী হতে বলেছেন সবাইকে। 

আগাম বন্যা, পাহাড়ী ঢল সহ নানান প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ধান কাটা নিয়ে প্রতি বছর কৃষক-শ্রমিকের বিপুল প্রস্তুতি থাকলেও এবারের প্রেক্ষাপট পুরোপুরি ভিন্ন। এবার ধান কাটার প্রতি কৃষক-শ্রমিক যতটা না মনোযোগী হবেন তার চেয়ে বেশি মনোযোগী হতে হবে স্বাস্থ্য সুরক্ষায়। সারাবিশ্বই আজ করোনা নামক দুর্যোগে বিপর্যস্ত। বাংলাদেশও রয়েছে অনেক বড় ঝুঁকিতে। সাধারণত কৃষক-শ্রমিকরা ধান কাটার সময় একসাথে থাকা খাওয়া, একে অন্যের জিনিস ব্যবহার ও কৃষিযন্ত্রপাতি ব্যবহার করে থাকেন।কিন্তু এবার সেভাবে চললে বিপদ অবশ্যম্ভাবী। 

তাই এবার কৃষক-শ্রমিকের জন্য ক্ষেত থেকে শুরু করে সব জায়গায়, সব সময় হাত ধোয়ার জন্য সাবান-পানির ব্যবস্থা করতে হবে। প্রত্যেকের জন্য মাস্ক ও গামছা সরবরাহ থাকতে হবে। কাস্তেসহ কৃষিসরঞ্জাম ও উপকরণগুলো ব্যবহারের আগে-পরে ভালোভাবে ধুয়ে রাখতে হবে। বিশেষভাবে হাওরাঞ্চলে এই মওসুমে শ্রমিকরা ধানের খলায় অস্থায়ী ঘর বানিয়ে বসবাস করেন, আবার অনেকে গৃহস্থ বাড়ির একটি আলাদা ঘরেও থাকার জায়গা পান। এক্ষত্রে অবশ্যই প্রত্যেকের বিছানা নিরাপদ দূরত্বে স্থাপন করতে হবে। এই বিষয়গুলোর প্রতিটি গৃহস্থকে যেমন লক্ষ্য রাখতে হবে, তেমনি প্রশাসনের পক্ষ থেকেও বিশেষ নজরদারি করতে হবে। একই সঙ্গে কৃষক-শ্রমিকের মাঝেও সামাজিক দূরত্বের বিষয়ে সচেতনতা বাড়তে নিতে হবে নানা পদক্ষেপ।  তা না হলে কৃষকের মুখে সুখের হাসি পরিণত হতে পারে বিষাদে। 

করোনা সংক্রমণের বাস্তবতায় কৃষক-শ্রমিককে নিরাপদ রাখতে যতটা সম্ভব তাদের কাজের পরিধি কমিয়ে আনতে হবে। ধানকাটায় যন্ত্রের ব্যবহার ও প্রযুক্তির সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। আর কৃষকের ধান যদি ক্ষেত থেকেই সরকার কিনে নেয় তাহলে ধান কাটার পরবর্তী প্রক্রিয়ায় সবার এক সঙ্গে মিলে যাওয়ার যে ঝুঁকি থাকে তা যেমন কমে যাবে, তেমনি নিয়ন্ত্রিত হবে ফরিয়া ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম, নিশ্চিত হবে কৃষকের ন্যায্যমূল্য। মোটকথা এবারের বোরো মৌসুমের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা হতে হবে সুপরিকল্পিত, যেখানে সর্বোচ্চ প্রাধান্য পেতে হবে কৃষকের স্বার্থ ও স্বাস্থ্য ঝুঁকি। 

এজন্য দ্রুত সময়ের মধ্যে কৃষি মন্ত্রণালয়কে করোনাভাইরাসের এই বিশেষ পরিস্থিতিতে বোরো মৌসুমের জন্য একটি বিশেষ সুরক্ষা-বিধি তৈরি করে কৃষকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষির বিকাশ অব্যাহত রাখতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যে দিক নির্দেশনা দিয়েছেন, তা যথাযথ বাস্তবায়নে মাঠ প্রশাসনকে কাজে লাগাতে হবে। বোরো পরবর্তী চাষাবাদের ব্যাপারে কৃষককে উদ্বুদ্ধকরণ ও পরামর্শ প্রদানে একটি বিশেষজ্ঞ প্যানেল গঠন করা যেতে পারে।  মনে রাখতে হবে, এক্ষেত্রে কোন ধরনের গাফিলতি দেশের অর্থনীতির মেরুদন্ড ভেঙ্গে দেবার জন্য যথেষ্ট। 

লেখক: সৈয়দ আশিক রহমান

প্রধান সম্পাদক আরটিভি অনলাইন ও সিইও আরটিভি

RTVPLUS
bangal
corona
দেশ আক্রান্ত সুস্থ মৃত
বাংলাদেশ৪৪৭৩৪১ ৩৬২৪২৮ ৬৩৮৮
বিশ্ব ৫৮৬১২৯৯৫ ৪০৫৭৫৯৪৭ ১৩৮৮৭১০
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
  • নির্বাচিত কলাম এর সর্বশেষ
  • নির্বাচিত কলাম এর পাঠক প্রিয়