• ঢাকা সোমবার, ২০ মে ২০১৯, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

ঘূর্ণিঝড় ফণীর প্রভাবে আকস্মিক বন্যার সম্ভাবনা

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট
|  ০৩ মে ২০১৯, ২৩:৩৫ | আপডেট : ০৪ মে ২০১৯, ০৮:৫৬
ঘূর্ণিঝড় ফণীর প্রভাবে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে বন্যাকবলিত কক্সবাজার এলাকা, ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশের দিকে ধেয়ে আসা প্রবল ঘূর্ণিঝড় ফণীর প্রভাবে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে দেশের বিভিন্ন নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। এতে কোথাও কোথাও আকস্মিক বন্যা দেখা দিতে পারে।

শুক্রবার পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের ‘ঘূর্ণিঝড় ফণী-সংক্রান্ত বিশেষ বার্তা’ থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, ঘণ্টায় ১৭৫ থেকে ১৮৫ কিলোমিটার গতির ঝড়ো হাওয়া সঙ্গে নিয়ে শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে ওড়িষ্যা উপকূল অতিক্রম শুরু করে ঘূর্ণিঝড় ফণী। বৃষ্টি ঝরিয়ে দুর্বল হয়ে মোটামুটি এর অর্ধেক শক্তি নিয়ে ফণী শুক্রবার মধ্যরাতের দিকে খুলনাসহ বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে পৌঁছাতে পারে। এরপর তা রাজশাহী, রংপুরের ওপর দিয়ে দেশের উত্তরাংশ পেরিয়ে যেতে পারে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের বার্তায় বলা হয়েছে, ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’র প্রভাবে বাংলাদেশর উত্তর-পূর্বাঞ্চল, উত্তরাঞ্চল ও কাছাকাছি ভারতীয় অঞ্চলের কিছু স্থানে আগামী ৭২ ঘণ্টায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। এর প্রভাবে ওই অঞ্চলের প্রধান নদীগুলোর বিশেষ করে সুরমা, কুশিয়ারা, কংশ, যাদুকাটা, তিস্তার পানির সমতল আগামী ৭২ ঘণ্টায় বাড়তে পারে। কোথাও কোথাও বিপদসীমার অতিক্রম করে আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতির উদ্ভব হতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসের উদ্ধৃতি দিয়ে বার্তায় আরও বলা হয়েছে, ঘূর্ণিঝড় ও অমাবস্যার প্রভাবে উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, বরগুনা, ভোলা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং এর কাছাকাছি দ্বীপ ও চরগুলোর নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৪ থেকে ৫ ফুটের বেশি উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।

শুক্রবার সন্ধ্যায় সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ত্রাণ সচিব শাহ কামাল বলেন, দেশের ১৯ জেলার ১৪৭টি উপজেলার ১৩ হাজার ৫০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা উপকূলীয় এলাকা হিসেবে চিহ্নিত। সেখানে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ মানুষের বসবাস। এই ১৯ জেলায় ৪ হাজার ৭১টি আশ্রয়কেন্দ্র রয়েছে, যার বেশিরভাগই প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় ফণীর কারণে শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত দেশের উপকূলীয় জেলাগুলোর ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৫ জন মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানায়, অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’র প্রভাবে শুক্রবার বেলা ১১টা থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল, ঢাকা, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, রংপুর ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে পায়রা ও মোংলা সমুদ্রবন্দরকে ৭ নম্বর, চট্টগ্রাম বন্দরকে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত এবং কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে ৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

পি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়