Mir cement
logo
  • ঢাকা বুধবার, ০৪ আগস্ট ২০২১, ২০ শ্রাবণ ১৪২৮

আরটিভি নিউজ

  ১৭ জুলাই ২০২১, ১৫:৫৯
আপডেট : ১৭ জুলাই ২০২১, ১৬:৩৭

লঞ্চে অতিরিক্ত ভাড়া, স্বাস্থ্যবিধির বালাই নেই

লঞ্চে অতিরিক্ত ভাড়া, স্বাস্থ্যবিধির বালাই নেই
লঞ্চে স্বাস্থ্যবিধির বালাই নেই

লকডাউন শিথিলের প্রথম ও দ্বিতীয় দিন সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে ছিল যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড়। সেই তুলনায় আজ তৃতীয় দিন (১৭ জুলাই) শনিবার এর দ্বিগুণ ভিড় দেখা গেছে। গাদাগাদি করে পাল্লা দিয়ে লঞ্চে ভিড় করছে মানুষ। উপেক্ষিত ছিল স্বাস্থ্যবিধি। পরিবার পরিজনের সঙ্গে ঈদ করার লক্ষ্যে স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা না করেই রাজধানী ছেড়ে বাড়ি যাচ্ছেন হাজারো মানুষ।

মাস্ক পরা ও সামাজিক দূরত্ব মানা দূরের কথা লঞ্চ কর্তৃপক্ষকে প্রবেশ পথে হ্যান্ড স্যানিটাইজার স্প্রে করতেও দেখা যায়নি এদিন। তারা শুধু যাত্রী নিতে ব্যস্ত। এছাড়া লঞ্চগুলোতে নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত ভাড়া ও অতিরিক্ত যাত্রী নিতে দেখা গেছে। তবে এ বিষয় মানতে রাজি না বিআইডব্লিউটিএ ও লঞ্চ মালিকরা। তারা বলেন, স্বাস্থ্যবিধি যথাযথ মেনেই লঞ্চ ছাড়া হচ্ছে।

শনিবার (১৭ জুলাই) সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল ঘুরে দেখা গেছে, ভোরে সদরঘাট প্লাটুনে যাত্রীদের ভিড় দেখা গেলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যাত্রীদের ভিড় কমে গেছে।

এ বিষয়ে ঢাকা- চাঁদপুর - ঈদগাঁ ফেরিঘাট রুটের ইমাম হাসান-৫ লঞ্চের পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ফয়েজ আহমেদ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, আমরা সরকারের নির্দেশ মতো স্বাস্থ্যবিধি মেনে অর্ধেক আসন ফাঁকা রেখে লঞ্চ ছাড়বো। যাত্রীদের মাস্ক পরার জন্য বার বার হ্যান্ডমাইকে প্রচার করা হচ্ছে৷ কিন্তু যাত্রীরা মানছে না। আমরা তাদের বলতে পারি। কিন্তু যাত্রীরা যদি নিজেদের ভালো নিজেরা না বোঝেন তাহলে আমাদের কিছু করার নেই।

তিনি বলেন, আমরা সরকারের নির্দেশ মতো চেয়ারে এক সিট ফাঁকা রেখে যাত্রী বসানো হলেও আমরা বাড়তি ভাড়া নিচ্ছি না। সরকারের রেট অনুযায়ী ভাড়া ডেক ১৮৬ টাকা আমরা নিচ্ছি ১৫০ টাকা৷ আর চেয়ারের ভাড়া ২৮৮ টাকা আমরা নিচ্ছি ২০০ টাকা। আরো দু’দিন পর থেকে শুরু হচ্ছে ঈদের ছুটি। আজ সন্ধ্যা থেকে হয়তো যাত্রীর চাপ আরো বাড়বে।

চাঁদপুরের উদ্দেশে লঞ্চে আসা মকবুল নামের এক ব্যক্তিকে মাস্ক না থাকার কারণ জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, আমাদের মাস্ক লাগে না। ওসব করোনা-টরোনা আমাদের ধরবে না। আর মাস্ক পরলে দম বন্ধ হয়ে আসে। তাই মাস্ক নেই।

বরগুনার যাত্রী মাহমুদ আলম সংবাদমাধ্যমকে বলেন, বরিশাল যাব ভাই। তিন দিন ধরে কেবিনের টিকিটের জন্য ঘুরছি কিন্তু পেলাম না। অবশেষে চেয়ারের টিকিট পেয়েছি এম ভি পূবালী-১ এর তাও প্রায় দ্বিগুণ ভাড়া দিতে হয়েছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ লঞ্চ মালিক সমিতির সহ-সভাপতি সাইদুর রহমান রিন্টু বলেন, আমরা কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে অর্ধেক আসন ফাঁকা রেখে লঞ্চ ছাড়ছি। স্বাস্থ্যবিধি মানতে সব লঞ্চ মালিকদের বলা হয়েছে। কোথাও অতিরিক্ত ভাড়া ও যাত্রী নেওয়া হচ্ছে না। আমরা এবার স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে কঠোর অবস্থানে আছি। তবে, নৌযানে শতভাগ স্বাস্থ্যবিধি মানানো অনেক কষ্টকর বিষয়।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের যুগ্ম পরিচালক জয়নাল আবেদীন বলেন, যাত্রীরা সচেতন না হলে স্বাস্থ্যবিধি মানা অনেক কঠিন। তারপরও আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। আমরা মাস্ক পরা বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি। এছাড়া আমাদের কাছে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে সে রকম কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ এলে আমরা ব্যবস্থা নেব। লঞ্চগুলোতে অতিরিক্ত যাত্রী এড়াতে সময়ের আগেই লঞ্চ ছেড়ে দিচ্ছি। সদরঘাট টার্মিনাল থেকে সাধারণ সময়ে ১৫০টি লঞ্চ যাতায়াত করে। ঈদ মৌসুমে সেখানে শুধু সদরঘাট থেকে লঞ্চ ছেড়ে যায় ১২৫টি। তবে এবার ঈদের আগের দিনের অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ সামাল দিতে ৩০টি অতিরিক্ত বা বিশেষ লঞ্চের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রয়োজন হলে এগুলো ছাড়া হবে।

এমআই/পি

মন্তব্য করুন

RTV Drama
RTVPLUS