logo
  • ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২১, ১৪ মাঘ ১৪২৭

ঢাকায় যত্রতত্র মলমূত্রের দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ মানুষ

Everywhere, Dhaka, people, restless, stench, excrement
ঢাকায় যত্রতত্র মলমূত্রের দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ মানুষ
রাজধানীতে ব্যয়বহুল জীবন-যাপন করছেন মানুষ। ব্যয়বহুল জীবন-যাপনের পরেও নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। রাস্তার ফুটপাত হকারদের দখলে থাকার পাশাপাশি ফুটপাতের কোণায় সুযোগ পেলেই মলমূত্র ত্যাগ করছেন মানুষ। ফুটপাত দিয়ে পথচারী চলাচলে দুর্ভোগের সঙ্গে অসহনীয় দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন।

সরেজমিন দেখা গেছে, জাতীয় সংসদ ভবনের পাশে প্রতিবন্ধীদের জন্য খেলার মাঠ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এই মাঠের পাশ দিয়েই ফুটপাত। ফুটপাতের পাশেই প্রতিনিয়ত কিছু মানুষ মলমূত্র ত্যাগ করছেন। পথচারী চলাচলে দুর্গন্ধের মধ্যে পড়ছেন। সংসদ ভবনের আশেপাশ আরও বেশকিছু এলাকায় মলমূত্রের ছাড়াছড়ি। দেশের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা বাংলাদেশ সচিবালের সামনে আব্দুল গনি সড়কের ফুটপাত ময়লা-আবর্জনা ও মলমূত্রে সয়লাব হয়ে গেছে। চরম অপরিচ্ছন্ন ও অস্বাস্থ্যকর ওই পথে চলাফেরা করতে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন বিভিন্ন স্থান থেকে সচিবালয়ের কাজে আসা অসংখ্য মানুষ এবং সাধারণ পথারীরা।

ঢাকা দুই সিটি করপোরেশন মানুষের সুবিধার্থে বিভিন্ন এলাকায় টয়লেটের ব্যবস্থা করেছে। এসব টয়লেটে প্রস্রাব করলে ৫ টাকা এবং মল ত্যাগ করলে ১০ টাকা লাগে। এজন্য অনেক মানুষ এই টাকার কারণে সিটি করপোরেশনের এসব টয়লেটে না গিয়ে রাস্তার কোণায় মলমূত্র ত্যাগ করছেন। সচিবালয়ের পাশের রাস্তা ওসমানী উদ্যান সংলগ্ন এবং বিদ্যুৎ ভবনের বিপরীতে মানুষ মলমূত্র ত্যাগ করছেন। পথচারীরা নাগ বন্ধ করে চলাচলের চেষ্টা করলেও কখন যেন নিশ্বাস বন্ধ হয়ে যায়। প্রেসক্লাবের সামনে আন্দোলনকারীদের অনেকে এবং সচিবালয়ের আশেপাশে যারা কাজ করতে আসেন উপায় না পেয়ে রাস্তার পাশেই মূত্র ত্যাগ করেন। এলাকাটির পাশে পাবলিক টয়লেট নেই। গুলিস্তান এলাকায় দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পাবলিক টয়লেট থাকলেও সেখানে অনেক মানুষ না গিয়ে রাস্তার পাশেই মূত্র ত্যাগ করছেন।

জাতীয় সংসদ ভবন, সচিবালয়, হাই কোর্টের বাউন্ডারি ছাড়াও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় মানুষ রাস্তার পাশেই মলমূত্র ত্যাগ করছেন। রাতের বেলায় নিরিবিলি থাকায় ভাসমান মানুষ মলমূত্র ত্যাগ করে থাকে। এতে একদিকে আশপাশের এলাকায় চরম দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে অন্যদিকে দিনে ও রাতে চলাচলকারী জনগণের ভোগান্তি বেড়েই চলেছে।

পুরো ঢাকা ঘুরলে হাতেগোনা কয়েকটি এলাকা বাদে সব সড়ক-ফুটপাথে মলমূত্রের ছড়াছড়ি। খোলা রাস্তাকে পাবলিক টয়লেট হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। সংসদ ভবন, উচ্চ আদালত প্রাঙ্গণ, রেলস্টেশন, উদ্যান, বিমানবন্দর এলাকা, বাস টার্মিনালসহ গুরুত্বপূর্ণ অনেক স্থাপনার পরিবেশ নষ্ট হয়েছে যত্রতত্র মলমূত্র ত্যাগের কারণে। ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার এলাকাতেও ভাসমান মানুষ অসচেতন ভাবে রাস্তার পাশেই মলমূত্র ত্যাগ করছেন।

জানা গেছে, রাজধানীতে কমবেশি ৬২ লাখ মানুষের গণশৌচাগার ব্যবহারের চাহিদা রয়েছে। গণশৌচাগারের চাহিদা মেটাতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ভ্রাম্যমাণ শৌচাগারের ব্যবস্থা করেছে। শৌচাগারের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন না থাকায় অনেকেই তা ব্যবহার করছে না। এখন ভ্রাম্যমাণ গণশৌচাগারের সংখ্যা কমেছে। গণশৌচাগার নেই বা গণশৌচাগার স্থাপন করার মতো প্রয়োজনীয় জায়গা বা অবকাঠামোগত সুবিধা নেই। 

জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে নারী নির্যাতন প্রতিরোধ আন্দোলনে আসা লায়লা আক্তার বলেন, সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর পর্যন্ত প্রেসক্লাবের সামনে আন্দোলন করছেন। এখানে মানুষের মলমূত্র চলে আসলে আশেপাশে টয়লেট নেই। এমনকি জাতীয় প্রেসক্লাবের ভেতরে থাকা টয়লেটেও আন্দোলনকারীরা যেতে পারে না। এখানে যারাই আন্দোলনে আসেন তারাই টয়লেটের সমস্যায় পড়েন। 

তিনি আরও বলেন, পাবলিক টয়লেট একটা সাধারণ বিষয় মনে হলেও সময় মত টয়লেট না ব্যবহার করলে স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়ে। বেশি দিন সময়মত টয়লেট ব্যবহার না করলে কিডনি রোগ ও অন্ত্রে নানান রোগ হবার আশঙ্কা থাকে। একইসঙ্গে রাস্তা-ঘাটে মলমূত্র ত্যাগ পরিবেশে বিপর্যয় ডেকে আনে।

বিশিষ্ট চিকিৎসক ও হেলথ এন্ড হোপ লিমিটেডের চেয়ারম্যান ডাঃ লেলিন চৌধুরী বলেন, মলমূত্রের মতো মানববর্জ্য হলো রোগ জীবাণুর আধার। খোলা বর্জ্য শুকিয়ে ধুলো অথবা খাবারের সঙ্গে কিংবা পানিতে মিশে মানবদেহে প্রবেশ করে। এতে টাইফয়েড, জন্ডিস, আমাশয়, ডায়রিয়া ও ক্রিমি রোগ হতে পারে। রাজধানীতে এসব রোডের প্রধান কারণ খোলা মানববর্জ্য। তিনি বলেন, খোলা মানববর্জ্যরে কারণে এসব রোগ রাজধানীর মানুষের সারা বছর লেগে থাকে। মানববর্জ্য ব্যবস্থাপনা যথাযথ প্রক্রিয়ায় না হওয়ায় দিন দিন সমস্যা বাড়ছে। বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যাও। তাই পরিচ্ছন্ন নগরী গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় সব রকমের ব্যবস্থা নিতে হবে। যেখানে সেখানে বর্জ্য ত্যাগ করা যাবে না।

এফএ

RTV Drama
RTVPLUS