logo
  • ঢাকা রোববার, ১৮ এপ্রিল ২০২১, ৫ বৈশাখ ১৪২৮

জ্বালানি তেলের কম মূল্য কাজে লাগিয়ে বিদ্যুতের বিল কমানোর পরামর্শ (ভিডিও)

করোনাকালে বিশ্ববাজারে জ্বালানির কম দামকে কাজে লাগিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য ঠিক রাখার কৌশল ঠিক করতে যেখানে ব্যস্ত অন্য সব দেশ ঠিক সেই সময়ে বিপরীত চিত্র বাংলাদেশে। জ্বালানি পণ্যের দাম তো কমেনি উল্টো বাড়তি বিদ্যুৎ বিলে নাজেহাল ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষ। এক্ষেত্রে কেবল সরাসরি জ্বালানি ব্যবহারই নয় জ্বালানি সংশ্লিষ্ট বিদ্যুতের দাম কমিয়ে ব্যবসাকে গতিশীল রাখা পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

মহামারি করোনাভাইরাসের প্রভাবে দুই মাসের বেশি সময় ধরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম তলানিতে স্থির হয়ে আছে। ব্যারেল হিসেবে যা ১৯৯৯ সালের সর্বনিম্ন দামের রেকর্ডকেও ছাড়িয়েছে। জ্বালানি তেলের এমন দামকে অনেক দেশ কাজে লাগাচ্ছে মূলত: দু’ভাবে। প্রথমত, তেল কিনে ভবিষ্যতের জন্য মজুত কোরে রাখছে। দ্বিতীয়ত তেল দিয়ে উৎপাদিত বিদ্যুতের দাম কমিয়ে সচল রাখা হচ্ছে অর্থনীতি। অথচ করোনা মোকাবেলার মতো দুটি বিষয়েই বাংলাদেশ হাঁটছে উল্টোপথে। প্রথমত, পর্যাপ্ত রিজার্ভার না থাকার কারণ দেখিয়ে তেল কেনা হচ্ছে না। চাহিদা কমে যাওয়ায় জমিয়ে রাখা তেল শেষ না হওয়ায় রিজার্ভারও খালি হচ্ছে না। অন্যদিকে, বিদ্যুতের দাম তো কমেনি বরং এই করোনাসংকটেও বিদ্যুৎ বিলের ভুতুড়ে কাণ্ডকীর্তিতে কপালে ভাঁজ পড়েছে ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের।

বিজিএমইএ এর পরিচালক মোহাম্মদ নাসির বলেন, আমাদের অনুরোধ হবে সাবসিডাইস প্রাইজে যেন বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ করা হয়। গত চার মাসে যে বিদ্যুৎ বিল হয়েছে তাতে যেন জরিমানা না করা হয়। এছাড়া পার্শিয়ালিটি পেমেন্ট করার সুযোগ যেন দেয়া হয়।

বিশ্লেষকরা বলছেন, জ্বালানি নিয়ে অতীতে সময়োপযোগী নানা সিদ্ধান্তে নিতে যে ভুল করেছিলো সরকার একই খেসারত দিতে হবে তেল মজুত না করায়।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা অধ্যাপক ম তামিম বলেন, তেল মজুদ করার যে ক্ষমতা আছে কম মূল্যের তেল এনে যদি আমরা মজুদ করে রাখতে পারি, তাহলে অন্তত দেড় মাস কম মূল্যের তেলের সুবিধা আমরা পাবো। কম মূল্যের তেলের ব্যবহার আমরা যদি সব সময় করতে পারি তাহলে অবশ্যই বর্তমান মূল্যের যে সুবিধা সেটা পাবো।

তাছাড়া করোনা-পরবর্তী সময়ে বিশ্বের অন্যান্য দেশ যে গতিতে নিজেদের অর্থনীতিকে সচল করবে, তার সঙ্গে তাল মেলাতে হলেও দরকার হবে, বাড়তি জ্বালানি।

এই বিষয় জ্বালানি বিশেষজ্ঞ শামসুল আলম বলেন, পণ্যের উৎপাদন ব্যয় যখন স্বাভাবিক হবে, তখন তো জ্বালানী ব্যয় বাড়বে। আর আমরা সেই বাড়তি দামে পণ্য উৎপাদন করে বিদেশি প্রতিযোগিতার বাজারে টিকে থাকার জন্য আমাদের ঝুঁকি বাড়বে। এই সুবিধা নেয়ার কারণে অন্যদের যদি জ্বালানী ব্যয় কমে যায়, আর আমরা যদি সেই সুযোগ না নিতে পারি, তাহলে তো আমরা আরও অনিশ্চয়তায় পড়বো।

করোনায় এমনিতেই অর্থনৈতিক সংকটে পড়ে কমেছে, ব্যবসা-বাণিজ্য। তাই, অর্থনীতি সচল রাখতে, জ্বালানি তেলের কম দামকে কাজে লাগিয়ে, বিদ্যুতের দামও কমানোর পরামর্শ দিলেন, তারা।

আরও পড়ুন:

জিএ

RTV Drama
RTVPLUS