logo
  • ঢাকা শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

দালালদের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের হাতে পৌঁছাতো এনআইডি

কাজী মনজুরুল, চট্টগ্রাম
|  ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২১:০০ | আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৮:৩২
রোহিঙ্গা এনআইডি
রোহিঙ্গাদের জাতীয় পরিচয়পত্র পাইয়ে দিতে চট্টগ্রাম ও ঢাকা নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ের একটি চক্র জড়িত। তারা যখন-তখন জাতীয় সার্ভারে প্রবেশ করে তথ্য সংগ্রহ করতো এবং কারো নামে জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করে আঙুলের ছাপ ছবিসহ সার্ভারে যুক্ত করে দিতে পারতো। কয়েকস্তরে দালালদের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের হাতে পৌঁছাতো বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়পত্র। নির্বাচন কমিশনের চুরি যাওয়া ল্যাপটপ দিয়েই চলতো রোহিঙ্গাদের নিবন্ধনের কাজ। জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন বিভাগের সার্ভারের সব তথ্য ছিল রোহিঙ্গাদের জাতীয় পরিচয়পত্র পাইয়ে দেওয়া জালিয়াত চক্রের হাতের মুঠোয়।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের হাতে গ্রেপ্তার চট্টগ্রাম নির্বাচন কমিশন অফিসের অস্থায়ী ডেটা এন্ট্রি অপারেটর মোস্তফা ফারুক, চট্টগ্রাম ডবলমুরিং থানা নির্বাচন অফিসের সহকারী জয়নুল আবেদীনসহ চট্টগ্রাম ও ঢাকার একটি চক্র রোহিঙ্গাদের হাতে তুলে দিত জাতীয় পরিচয়পত্র। আটক করার পর মোস্তফা ও জয়নুলের কাছ থেকে নির্বাচন কমিশন থেকে খোয়া যাওয়া ল্যাপটপ, মডেমসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। এই ল্যাপটপের মাধ্যমে তারা ঢুকে পড়তো জাতীয় পরিচয়পত্রের সার্ভারে। তারা যখন-তখন এই জাতীয় সার্ভারে প্রবেশ করে তথ্য সংগ্রহ এবং কারো নামে জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করে আঙুলের ছাপ ছবিসহ সার্ভারে যুক্ত করে দিতে পারত। এইভাবে তারা জালিয়াতি করে রোহিঙ্গাদের পাইয়ে দিতো জাতীয় পরিচয়পত্র।

চট্টগ্রাম কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ আরটিভি অনলাইনকে বলেন, কয়েকটি লেয়ারের মাধ্যমে রোহিঙ্গারা এনআইডি পেতো। এর মধ্যে একটি পক্ষ রোহিঙ্গাদের সংগ্রহ করে নিয়ে আসতো। এরপর যারা নির্বাচন কমিশন অফিস চাকরি করছে, বিশেষ করে যারা লোয়ার লেভেলে বা অস্থায়ী কাজ করছে যাদের অফিসে এক্সেসেস ছিলো; তাদের সহযোগিতায় এনআইডি করতো।

তিনি আরো বলেন, প্রথমে তারা ফাইল তৈরি করতো। এরপর নির্বাচন কমিশন থেকে যে ল্যাপটপ চুরি হয়েছে এগুলো ব্যাবহার করে তারা সার্ভারে প্রবেশ করতো। যাদের সার্ভারে প্রবেশের এক্সসেস রয়েছে তারা জাতীয় পরিচয়পত্রের জন্য ডাটা আপলোড করতো।

এনআইডি জালিয়াতি চক্রের সঙ্গে জড়িত ডবলমুরিং থানার নির্বাচন কমিশন অফিসের পিয়ন জয়নাল আবেদনীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয় গত সোমবার। এরপর তাদের কাছ থেকে নির্বাচন কমিশনের খোয়া যাওয়া ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়। পরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশনের অস্থায়ী কর্মচারী মোস্তফা ফারুককে গ্রেপ্তার করে কাউন্টার টেরোরিজম। মোস্তফা ডেটা এন্ট্রির কাজ করতো। তার কাছে জাতীয় সার্ভারে প্রবেশের পাসওয়ার্ড ছিল। তিনি প্রায় পাঁচবছর ধরে জালিয়াতি করছেন। এ সময় প্রায় তিন হাজার ব্যক্তির নামে জাতীয় পরিচয়পত্র করেছেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ফারুক স্বীকার করেছে।

নির্বাচন কমিশন থেকে খোয়া যাওয়া ল্যাপটপ দিয়েই রোহিঙ্গাদের জাতীয় পরিচয়পত্র পাইয়ে দেওয়ার কাজ করা হতো। অথচ হারিয়ে যাওয়া ল্যাপটপের কোনো তথ্যই দিতে পারেনি নির্বাচন কমিশন। আর এই চক্রে নির্বাচন কমিশন অফিসের বিশাল একটি অংশ জড়িত বলে মনে করছে দুদক। চট্টগ্রামে এনআইডি জালিয়াতচক্রে কারা কারা জড়িত তা তদন্তের অনুমতি চেয়ে ঢাকায় চিঠি পাঠিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আঞ্চলিক কার্যালয়। রোহিঙ্গাদের এনআইডি পাইয়ে দিতে জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ততাও খতিয়ে দেখা হবে বলে জানায় দুদক কর্মকর্তারা।

দুর্নীতি দমন কমিশন, সমন্বিত জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম-২ এর উপ-সহকারী পরিচালক মো. শরীফ উদ্দিন আরটিভি অনলাইনকে জানান, ২০১৪ সালে নির্বাচন কমিশন থেকে ল্যাপটপ মিসিং হয়। কিন্তু ল্যাপটপটি কীভাবে মিসিং হয় এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশন থেকে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এমনকি কোনো জিডিও করেনি নির্বাচন কমিশন। এর সূত্র ধরেই মনে করা হচ্ছে নির্বাচন কমিশনের একটি অংশ এনআইডি জালিয়াতিতে জড়িত। তবে কারা জড়িত তা নির্দিষ্ট করার জন্য দুদক ঢাকা কার্যালয়ে অনুসন্ধানের অনুমতি চেয়েছে।

---------------------------------------------------------------
আরো পড়ুন: রোহিঙ্গাদের নিয়ে একটি গোষ্ঠী চক্রান্ত করছে : ওবায়দুল কাদের
---------------------------------------------------------------

তিনি আরো বলেন, তদন্তে বের করা হবে কারা জড়িত। কোনো জনপ্রতিনিধি জড়িত থাকলে তা খোঁজে বের করা হবে।

জানা গেছে, রোহিঙ্গাদের জাতীয় পরিচয়পত্র পাইয়ে দেওয়া চক্রটি ৫০ থেকে ৬০ হাজার করে টাকা নিত। তাই নির্বাচন কমিশনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্পদের অনুসন্ধানের অনুমতি চেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

তবে এ বিষয়ে চট্টগ্রামের সিনিয়র জেলা নির্বাচন অফিসার মো. মুনীর হোসাইন খান কথা বলতে চাননি। আরটিভির পক্ষ থেকে অফিসে গিয়ে কথা বলার চেষ্টা করা হলে তিনি বলেন, এনআইডি জালিয়াতি নিয়ে তদন্ত চলছে। এ বিষয়ে কথা বলবো না।

এদিকে জালিয়াতিতে জড়িত থাকার অভিযোগে আজ রোববারও চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট। 

পি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
  • বাংলাদেশ এর সর্বশেষ
  • বাংলাদেশ এর পাঠক প্রিয়